অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থায়ন। যদিও আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ ভাল পর্যায়ে রয়েছে। তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সহায়তার দরকার আছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি দরকার। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং ইউএনডিপি-র আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিনসসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণ-দক্ষিণ এবং ত্রিমুখী সম্পর্ক উন্নয়নে উচ্চ পর্যায়ের দুই দিনব্যাপী সম্মেলন শেষে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ধারণার প্রসার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এগুলোই চাবিকাঠি। তাই বিভিন্ন উন্নত দেশের সঙ্গে উন্নতমানের প্রযুক্তি কিভাবে বিনিময় করা যায় এ বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলো কিভাবে বৈদেশিক সহায়তা আনতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের সহায়তা দেয়ার প্রক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন দরকার। যেন সহায়তা পাওয়া সহজ হয়। বর্তমানে দরিদ্র দেশগুলো নিজেদের সম্পদ আহরণের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। তার মানে এই নয় যে, উন্নত দেশগুলোর দায়িত্ব শেষ। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য বাণিজ্য সম্প্রসারণ খুবই প্রয়োজন। এজন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পর্ক বাড়ানো দরকার। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির ভাল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তাছাড়া উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়গুলো সম্মেলনে বক্তারা তুলে ধরেন। সম্মেলনে উত্থাপিত এ সব বিষয় ও মতামত আগামী জুলাই মাসে ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠেয় দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ক তৃতীয় আন্তর্জাতিক সভায় তুলে ধরা হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলার সাধ অনেক হলেও সাধ্য কম। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে আমরা কিভাবে সহায়তা পেতে পারি তা নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে। এ সহায়তা বৈদেশিক সাহায্যের মাধ্যমে হতে পারে। প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিজ্ঞানের বিনিময়ের মাধ্যমেও হতে পারে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈদেশিক সহায়তা বৃদ্ধির ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমাদের পাইপলাইনে অর্থ বাড়ছে। তবে আমরা কাজে লাগাতে পারছি না প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার জন্য। তবে এ বিষয়ে আমাদের দক্ষতা বাড়ছে। তাই এ পরস্থিতির উন্নতি হবে।