আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী যথেষ্ট পরিমাণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। স্থায়ী চাকরি নেই ৭৫ শতাংশ মানুষের। ২০১৪ সালে বেকার মানুষের সংখ্যা ২০ কোটি ১০ লাখে পৌঁছেছে। যা ২০০৮ সালের বিশ্ব মন্দা শুরুর সময়ের তুলনায় ৩ কোটি বেশি।
এদিকে প্রতি বছর ৪ কোটি মানুষ শ্রম বাজারে আসেন। এদেরকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়া সত্যিই চ্যালেঞ্জিং বিষয়। বিশ্ব কর্মসংস্থান এবং সামাজিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত (ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট এন্ড সোশ্যাল আউটলুক) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অধিকাংশ শ্রমিক চুক্তিভিত্তিক কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। এর মূল কারণ স্থায়ী কাজের পরিধি ধীরে ধীরে কমে আসছে। বিশ্বের চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ২৫ শতাংশ শ্রমিকের স্থায়ী চাকরি আছে। অবশিষ্ট ৭৫ শতাংশ শ্রমিকের চাকরি অস্থায়ী এবং চুক্তিভিত্তিক। ৯০টি দেশের শ্রমিকের উপর জরিপ করে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। বৈশ্বিক কর্মশক্তির প্রায় ৮৪ শতাংশ এ দেশগুলোতে বাস করেন।
আইএলও’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক চাকরি দ্রুত বাড়ছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে স্থায়ী চাকরির চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে অস্থায়ী চাকরি। একইসঙ্গে স্থায়ী এবং অস্থায়ী চাকরিতে বেতনের পার্থক্যও বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থায়ী চাকরি ও যথাযথ মজুরির অভাবে মানুষের আয় তুলনামূলক না বাড়ায় প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। আয় না বাড়ায় শ্রমিকদের সামষ্টিক চাহিদা ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (বার্ষিক) কমে গেছে। চাহিদা ও ভোগ কমে যাওয়ায় শিল্প, বিনিয়োগ ও সরকারের রাজস্বের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অস্থায়ী এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা কর্মসংস্থান থেকে পেনশন বা অন্য কোনো সুবিধা পান না। একদিকে মজুরি কম অন্যদিকে পেনশন না পাওয়ায় অস্থায়ী শ্রমিকরা বেশি শোষণের শিকার হন।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশে রানা প্লাজা ধ্বসে ১২০০ শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনা দেশটির বস্ত্র খাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
অ্যাকর্ড স্বাধানীভাবে ১৭০০ কারখানার নিরাপত্তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছে। কারখানার নিরাপত্তা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অর্থায়ন করেছে। একইসঙ্গে অ্যালায়েন্সও কারখানার নিরাপত্তা ও পরিবেশ উন্নয়ন কাজ করছে।
