যৌন হয়রানিতে ৪ বছরে ৯৯ নারীর আত্মহত্যা

আপডেট : ২০ মে ২০১৫, ০১:১৬

গত চার বছরে যৌন হয়রানির শিকার হয়ে ৯৯ নারী আত্মহত্যা করেছে। যৌন হয়রানিতে বাধা দেয়ায় লাঞ্ছিত হয়েছেন দুই হাজারের অধিক নারী ও ৪৮৯ জন পুরুষ। গতকাল মঙ্গলবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্র্যাক স্কুল অব ল’ আয়োজিত ‘সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট অ্যান্ড রাইটস অব উইমেন ইন পাবলিক প্লেসেস’ শীর্ষক সেমিনারে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এ তথ্য জানায়।

 
সেমিনারে ‘অধিকার’ কর্মী সামিয়া ইসলাম বলেন, দেশের প্রধান ১২টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে তারা এই তথ্য পেয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিনি                  জানান, গত চার বছরে ১১ থেকে ১৫ বছরের মেয়েরা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হয়েছে। যৌন নিপীড়কেরা মেয়েদের হাত বা ওড়না ধরে টানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তারা ধর্ষণ ও অপহরণের হুমকিও দিয়েছে।
 
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম বলেন, যৌন হয়রানির আশঙ্কায় ঘরে বসে না থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। নারীরা যত বেশি বাইরে বেরিয়ে আসবে, যৌন হয়রানির আশঙ্কা তত কমবে। তিনি আগামী বছর নববর্ষের অনুষ্ঠানে আরও বেশি সংখ্যায় নারীদের বেরিয়ে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন।
 
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাহিমা নাসরিন পহেলা বৈশাখের ঘটনায় কোনো কোনো মানবাধিকার সংগঠনের ভূমিকায়  ব্যথিত হয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, খ্যাতনামা ব্যক্তি ও কোনো কোনো সংগঠন এমন ভাব করেছে, যেন তারা বোবা, কালা ও অন্ধ। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি হাইকোর্ট নির্দেশিত যৌন নিপীড়ন বিরোধী নীতিমালা থাকত, তাহলে যৌন হয়রানির ঘটনা কমে আসত।
 

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে আলোচকেরা বলেন, নারী-পুরুষের সহজ-স্বাভাবিক সম্পর্কে বাধা না দিয়ে সেটিকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়া উচিত। এতে করে নারী ও পুরুষ দুইপক্ষই একে অন্যকে সম্মান দিতে শিখবে। তাঁরা আরও বলেন, যেকোনো নির্যাতনের ঘটনায় নারীদের ওপর দোষ চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে কখনই সমস্যার সমাধান হবে না।