সেকেন্ডেই মাত করলেন ইব্রাহিম

আপডেট : ২১ মে ২০১৫, ০২:১৪

আশরাফুল হক রানা, নুরুল নাইমুল ফয়সাল, অরুপ বৈদ্য (অধিনায়ক), এলিটা বেঞ্জামিন জুনিয়র, মানসা সিলা, মাসুক মিয়া জনি, ইসমাইল বাঙ্গুরা, ইব্রাহিম (বিপলু), সোহেল রানা জুনিয়র (মানিক), জুয়েল রানা, তৌহিদুল আলম সবুজ  (মোবারক)।

 
আবাহনী ঃ
 
জিয়া, মামুন মিয়া, সামাদ ইউসুফ, শাকিল আহমেদ জুনিয়র, হেনরি ফেলিক্স, ইমন মাহমুদ  (তৌহিদ) (ফাহাদ), প্রাণতোষ (অধিনায়ক), শাহেদুল আলম, ওয়াহেদ আহমেদ (সজিব), আব্দুল বাতেন কোমল, ওসে মরিসন। রেফারী ঃ জসিম উদ্দিন। 
 
মোহামেডান ও আবাহনী মধ্যকার পেশাদার লিগের প্রথম পর্বের ম্যাচটা তখন একেবারেই শেষ পর্যায়ে। মাত্র কয়েক সেকেন্ড বাকি। মাঠের প্রায় সবাই ধারণা করছিলেন ওই সময়ে আর গোল হবে না। ঠিক তখনই মোহামেডান গ্যালারিতে আনন্দের বন্যা বইয়ে গেলো। ‘উত্সব’ এনে দিয়েছেন মোহামেডানের তরুণ ফুটবলার মোঃ ইব্রাহিম। চোখের পলকে আবাহনীর জালে বলটা জড়িয়ে দিলেন তিনি। আর তা দেখে মোহামেডান গ্যালারিতে আসা কয়েক হাজার দর্শক পুরো স্টেডিয়াম কাঁপিয়ে তুললেন। ম্যাচ শেষের মুহূর্তে এমন একটা গোল মোহামেডানকে দুর্দান্ত একটা জয় এনে দিয়েছে।
 
কাগজে কলমের হিসাবে মোহামেডান আবাহনীর বিরুদ্ধে জিতবে, সেই হিসাব মেলানো যায় না। কেননা আবাহনীর শক্তি অনেক বেশি। মোহামেডানের চেয়ে আবাহনীর খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতাও অনেক। পেরে উঠার কথাও না। তার উপর মাঠে নেমে আবাহনীর ফুটবলাররা চোখে লাগার মতোই খেলা খেলছিলেন। তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে লড়াই করতে যায়নি মোহামেডান। কোচ জোসীর লক্ষ্য ছিল গোল খাবো না, সেটা খেলা দেখেই বুঝা যাচ্ছিল। কিন্তু আবাহনীকে পাহারা দিয়ে নিজেরা খেলেছে কৌশলী ফুটবল। তাতেই মার খেয়েছে আবাহনী। তীব্র গরম উপেক্ষা করে গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচটি দেখতে প্রায় হাজার দশেক দর্শক এসেছিলেন। গরমের তীব্রতা ছাপিয়ে খেলোয়াড়রা দারুণ একটা ম্যাচ উপহার দিয়েছেন একথা সহজেই বলা যায়। উভয় দলই আগের ম্যাচগুলোর চেয়ে ভালো খেলেছে। গরমের তীব্রতাকে উপেক্ষা করে খেলোয়াড়রাও দারুণ একটা ম্যাচ উপহার দিয়েছেন। আবাহনীর ‘প্রেসিং ফুটবল’ ছিল নজরকাড়া। ছোট ছোট পাসে লম্বা করে বল ফেলার বিপদজনক পরিস্থিতি সামাল দিয়ে মোহামেডানের ‘বিল্ডআপও’ ছিল দেখার মতো।
 
মৌসুমের সেরা লড়াইয়ে মোহামেডান জিতলো। আগের ম্যাচে শেখ জামালকে ২-০ গোলে হারিয়ে যে জৌলুস ছড়িয়েছিল আবাহনী, কালও একইরকম খেলছিল। কিন্তু গোল না পাওয়াটা ছিল নিজেদের ব্যর্থতা। শেখ জামালের বিরুদ্ধে দুই গোল করা স্ট্রাইকার ওয়াহেদ আহমেদ এদিন মোহামেডানের বিরুদ্ধেও জ্বলে উঠেছিলেন। কিন্তু গোল পাননি। ওয়াহেদ দুইবার শট করলেন, গোল হতে পারতো। কিন্তু মোহামেডান গোলকিপার আশরাফুল রানা প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ওয়াহেদের পাশে ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার মরিসনও ছিলেন ব্যর্থ। ওয়াহেদকে সাপোর্ট দিতে পারেননি। ভাগ্যটা আবাহনীরও মন্দ ছিল না। ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ প্রান্তে গিয়ে অধিনায়ক অরুপ বৈদ্য ক্রস ফেলেছিলেন বাঙ্গুরার মাথায়। বাঙ্গুরা দারুণ হেড করলেও আবাহনীর গোলকিপার জিয়াও দারুণ একটা সেভ করেছেন। ভালো ফুটবল খেলা হলে দর্শকও আনন্দ পায়। কিছু উত্তেজনাকর মুহূর্তও অনেকে সেলফোনে তুলতেও গেছে। আলোচনাও উঠে এসেছে খেলার কথা। আবাহনী ভালো খেললেও ম্যাচে গোলের সুযোগ বেশি পেয়েছে মোহামেডান। খুব কৌশলে আবাহনীর দুর্বলতা খুঁজে খুঁজে মোহামেডান গোল করতে চেয়েছিল। কারণ মোহামেডানের হাতে আছে তারুণ্যের শক্তি। যে শক্তিটাকে কাজে লাগিয়েছে মোহামেডান। তরুণ ফুটবলাররা নিজেদের দম ধরে রেখে খেলে যাচ্ছে। তাতে গোলের সম্ভাবনাও যেন বের হতে যাচ্ছিল। জুয়েল রানা উইংয়ের ফুটবলার। এরই মধ্যে সবার চোখে পড়েছে। তার জন্য বড় পরীক্ষা ছিল আবাহনীর বিরুদ্ধে কি করে তা দেখা। জুয়েল যেন ফুটবলেরই ছোট একটা জুয়েল। আবাহনীর দুই তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল নিয়ে যেভাবে বাঁ পায়ে শট করলেন, গোল না হওয়াটা ছিল দুর্ভাগ্য। জুয়েলের শট ক্রসপিসের উপর দিয়ে চলে গেলে আবাহনী বেঁচে যায়। শেষ দিকে এসে মোহামেডান আক্রমণ জোরদার করে। আবাহনীর দুর্বলতার সুযোগ নেয় মোহামেডান। সামাল দিতে গিয়ে আবাহনীর মামুন মিয়ার হাতে বলও লেগেছিল। কিন্তু মোহামেডানের পেনাল্টির দাবি আমলে নেয়নি রেফারি জসিম উদ্দিন। কিন্তু কে জানতো অদৃষ্ট অন্যরকম হতে যাচ্ছে। খেলাটা শেষ হওয়ার মুহূর্তে সেটপিস থেকে শট নেন মোহামেডান গোলকিপার রানা। সরাসরি বিপক্ষের পোস্টে। আবাহনীর ফুটবলাররা সব গিয়ে পোস্টে জমা হয়। উড়ে আসা বলটা বুক দিয়ে রিসিভ করার জন্য সামনে নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার হেনরিকে ছেড়ে দিতে বলে। কিন্তু হেনরি মাথা চালাতে গিয়ে ছুঁতে পারেননি। প্রাণতোষও বল পায়নি। দৌড়ে এসে মোহামেডানের ইব্রাহিম এক ধাক্কায় বল ঠেলে দেন আবাহনীর জালে ১-০। ৯০ মিনিটের এই এক গোলেই পরাস্ত হয় আবাহনী। ইব্রাহিম গোল করেই জার্সি খুলে ফেলে দিয়ে ছুটে যান মোহামেডান গ্যালারির দিকে। ফিরেই হলুদ কার্ড। তাতে কি যায় আসে। মোহামেডানের প্রথম পর্বের খেলা শেষ। ১০ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট। আবাহনীরও প্রথম পর্ব শেষ, তাদের ১০ ম্যাচ ১৭ পয়েন্ট।