স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সফলতার প্রশংসা করেছে বিশ্ব ব্যাংক। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৬৮তম সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক আলোচনায় এ প্রশংসা প্রকাশ করেন বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র পরিচালক ড. তিমথি গ্র্যান্ট ইভান্স।
বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিশ্ব ব্যাংক অর্থসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি করার আশ্বাস দিয়েছে। আমিও জানিয়ে দিয়েছি, বাংলাদেশও বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেক্টরে বরাদ্দকৃত অর্থ বিনিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বৈঠকে নাসিম বলেন, দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। একটি সুস্থ জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। এসব ক্লিনিকে রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হচ্ছে। আর চালু করা হয়েছে ই-হেলথ ও টেলিমেডিসিন সেবা কার্যক্রম।
স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের স্তরগুলো উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রাইমারি, সেকেন্ডারি, টারসিয়ারি ও বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং উভয়মুখী রেফারেন্স পদ্ধতি প্রবর্তন করেছি। স্বাস্থ্যখাতে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে দেশের জনগণের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পূরণ করছে বর্তমান সরকার। আর সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে নিজেদের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও সরকার সব সময় আন্তরিক।
জাতিসংঘের ‘ কমিশন অন ইনফরমেশন এন্ড এ্যাকাউন্টেবিলিটি অন উইমেন’স এন্ড চিল্ড্রেন’স হেলথ’ এর ১১টি সূচক ব্যবহার করা হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে এই ইলেক্ট্রনিক নিবন্ধন পদ্ধতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধিদের সম্মানে বৃহস্পতিবার মধ্যাহৃভোজের আয়োজন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সম্মেলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ১১টি দেশের প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি আগামী নবেম্বরে এইচআইভি-এইডস আক্রান্তদের নিয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য ‘ আইক্যাপ’ সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং তা সফল করার জন্য ১১টি দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। খবর বাসস।
