নির্ধারিত সময়ে দাবি মেনে না নেওয়ায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় আজ শুক্রবার সকাল থেকে সকল ধরণের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে খুলনা বিভাগ সড়ক পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ। আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যশোর মালিক সমিতির কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে সোহাগ পরিবহনের ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী একটি বাসে ডাকাতির ঘটনায় মধুখালী থানা পুলিশ চালক, হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে। তাদের মুক্তি ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার জামিল হাসান ও মধুখালী থানার ওসি রহুল আমিনের প্রত্যাহারের দাবিতে এ কর্মসুচি ঘোষণা করা হয়। এর আগে গত দুইদিন শুধু দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। এদিকে দুরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ভারত ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে আসা যাত্রীরা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু বলেন, আমাদের দাবির প্রতি প্রশাসন থেকে কোন ধরনের আশ্বাস বা সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে আমরা খুলনা বিভাগের দশ জেলায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য সকল ধরণের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিন্ধান্ত নিয়েছি। তবে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত সকল ধরণের যানবাহন চলাচল করবে।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অধিকাংশ সড়কেই বাস ডাকাতির ঘটনা কমেছে। কিন্তু ফরিদপুরের মধুখালীতে প্রায়ই বাস ডাকাতি হচ্ছে। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার ও মধুখালী থানার ওসি বাস চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছেন। ডাকাতদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে এ সমস্যা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আশাকরি খুব দ্রুত একটা সমাধানে আসা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।
মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, বাস ডাকাতির নিরাপদ জোন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে ফরিদপুরের মধুখালী এলাকা। এ যাবত্কাল মধুখালী এলাকায় সংগঠিত বাস ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তারা বলেন, এ নিয়ে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বার বার ফরিদুপরের পুলিশ সুপার এবং মধুখালি থানার ওসি’র সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোন ধরণের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ পুলিশের সহযোগিতায় ডাকাতরা ডাকাতি করে আসছে।
যশোর অফিস জানায়, ধর্মঘটের কারণে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দূরপাল্লার বাস যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এ অঞ্চলের যাত্রীরা।
বেনাপোল(যশোর) সংবাদদাতা জানান, বৃহষ্পতিবার সকালে বিশেষ ব্যবস্থায় বিআরটিসির দুইটি বাস ঢাকা উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এই বাসের যাত্রীদের অনেক বেশি ভাড়া আদায় করা হয়। তাছাড়া অন্য কোন দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায় নি। ভারত থেকে আসা শত শত যাত্রী আটকা পড়ে আছেন বেনাপোলের বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টার ও আবাসিক হোটেলে।