সেই চেনা রোমান্সে আচ্ছন্ন পাকিস্তান

আপডেট : ২২ মে ২০১৫, ২০:৫৮
জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টির মাধ্যমে আজ আবারো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে পাকিস্তানে। ছয় বছরেরও বেশি সময় পর আবারো সেই পুরনো রোমান্সে-ক্রিকেটের প্রেমে ভাসতে তর সইছে না পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের। প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল হলেও ভাল অবস্থানে নেই পাকিস্তানও। তাই মাঠের লড়াইটাও হয়তো বেশ রোমাঞ্চকরই হবে।
 
পাকিস্তানের বর্তমান টি-টোয়েন্টি দলের অর্ধেকেরও বেশি খেলোয়াড়ের অভিষেক হয়েছে ২০০৯ সালের পর। ঐ বছরেরই মার্চ মাসে শ্রীলঙ্কা দলের টিম গাড়িতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ফলে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয় পাকিস্তান থেকে। ফলে নিজেদের ক্রিকেট অবকাঠামোগুলোকে শূন্য ফেলে পাকিস্তানকে হোম গ্রাউন্ড হিসাবে বেছে নিতে হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। এর বাইরে ইংল্যান্ডেও হোম সিরিজ খেলে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ী দলটি।
 
বেশ কয়েকবারই টেস্ট খেলুড়ে কয়েকটি দেশ পাকিস্তান সফরের কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত হইনি তা। ফলে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে দুই টি-টোয়েন্টি আর তিন ওয়ানডের সিরিজটি পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য বয়ে এনেছে বিশাল এক স্বস্তির বার্তা। আর তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য স্বপ্ন সত্যি হবার মতো ব্যাপার। কারণ শহীদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ হাফিজ. সাঈদ আজমলদের মতো কয়েকজনকে বাদ দিলে এবারই প্রথম দেশের মাটিতে ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছেন তারা। ফলে রীতিমতো রোমাঞ্চে ভাসছেন তারা।
 
২০০৯ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের জার্সি গায়ে দেয়া উমর আকমল তাদেরই একজন। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে এই সিরিজ দিয়েই দলে ফেরা আকমল ভাইদের মেঝ জনের একাদশে জায়গা পাওয়াটা অবশ্য নিশ্চিত নয়। তবে শেষ পর্যন্ত খেলতে পারেন কিংবা না পারেন, চিরচেনা দর্শকদের সামনে খেলার সম্ভাবনাতেই রোমাঞ্চিত এই তরুণ। আকমল বলেন, ‘অসাধারণ এক অনুভূতি। ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য এটা অনেক কিছু। বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটাররা নিজেদের দর্শকের সামনে হরহামেশাই খেলে থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশের অনেকেই কখনোই সেই সুযোগ পাইনি। খুব কঠিন এক আঘাত এটা। পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ এই মুহূর্তটির দিকে তাকিয়ে ছিল আগে থেকেই।’ সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা ঢেলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান আরো বলেন, ‘যদি সুযোগ পাই লাহোরের দর্শকদের সামনে নিজের সেরা খেলাটাই খেলার চেষ্টা করবো। এই সুযোগে জিম্বাবুয়ে দলকেও ধন্যবাদ দিতে চাই। আশা করছি এই সিরিজের মাধ্যমে আবারো নিয়মিতভাবে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক সফর আয়োজন শুরু হলো।’