রাজধানীসহ সারাদেশে প্রচণ্ড গরম পড়েছে। গরমের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বাতাসের আর্দ্রতা। সারাদেশে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অসহনীয় গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন।
আবহাওয়া অধিদফতর থেকে বলা হয়েছে, সাধারণত বছরের এ সময়টিতে তাপমাত্রা বেশি থাকে। চলতি মাসের শেষের দিকে গরম আরো বাড়বে। তবে গরমের মাত্রা অন্যান্য বছরের চেয়ে কম হবে।
তাপপ্রবাহের সঙ্গে যোগ হয়েছে বৃষ্টিশূন্যতা। আর তাই বেশ উত্তপ্ত সারাদেশ। গরমের মাত্রাটা খানিকটা বেশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল জুড়ে। আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, শুক্রবার দেশের প্রায় সব এলাকায় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। বৃষ্টিও বেশ কম হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সৈয়দপুরে, ২৫ মিলিমিটার। রাজধানী ঢাকায় ১১, রংপুরে ২০ ও ময়মনসিংহে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, তাপমাত্রা ৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা হলে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাত্ তীব্র তাপপ্রবাহের কাছাকাছি। খুলনায় ছিল ৩৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাত্ মাঝারি তাপপ্রবাহ। বরিশালে ছিল ৩৬ দশমিক ৭ এবং চট্টগ্রামে ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাত্ মৃদু তাপপ্রবাহ।
তবে আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, মৌসুমি বায়ু প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন শহর পর্যন্ত চলে এসেছে। অবশ্য জ্যৈষ্ঠের এই দহন খুব একটা স্থায়ী হবে বলে মনে করছেন না আবহাওয়াবিদরা। তাদের মতে, খানিকটা ঝড়-বৃষ্টি, সঙ্গে মৌসুমি বায়ু যোগ হলে গরমের দাপট কমে যাবে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শাহ আলম জানান, ১০ জুনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের আকাশে চলে আসতে পারে। তাই বৃষ্টি হলে এবার গরমের মাত্রা অন্যান্য বছরের মতো বাড়বে না।
চাটমোহরে হিটস্ট্রোকে দুজনের মৃত্যু
চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে পুড়ছে চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চল। কাঠফাটা রোদে মানুষ ও পশু পাখির প্রাণ ওষ্ঠাগত। কোথাও স্বস্তি নেই। খাঁ-খাঁ করছে মাঠ, ঘাট, পথ-প্রান্তর। অসহ্য গরমে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। হিটস্ট্রোকে চাটমোহরে গত বৃহস্পতিবার ২ জন মারা গেছেন। এরা হলেন পার্শ্বডাঙ্গার রফিকুল ইসলাম (৩২) ও আটলংকা নতুন পাড়ার আঃ জলিল (৪০)।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে চাটমোহরসহ আশপাশের উপজেলায় ডায়রিয়া রোগ দেখা দিয়েছে। গত ৩ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু চিকিত্সা নিয়েছে। ২০ জনের বেশি শিশু এখনও চিকিত্সাধীন।
ঈশ্বরদীতে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ১০ জন
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, বেলা সাড়ে ১১টা। বিমানবন্দর সড়কে ভ্যানে ভাড়া নিয়ে ঈশ্বরদী আসছিলেন সাদিপুর গ্রামের মোমেন আলী। হঠাত্ জ্ঞান হারালেন। ভ্যানটি গড়িয়ে রাস্তা ছেড়ে নিচে নেমে এলো। যাত্রীরা লাফ দিয়ে নেমে গেলেন। মোমেনকে ধরাধরি করে নেয়া হলো রাজু সিনেমা হলের পাশে এক চিকিত্সকের কাছে। চিকিত্সক বললেন, হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। এভাবে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকা হতে শুক্রবার ১০ জনের হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে গতকাল রয়েছেন দাশুড়িয়া তেঁতুল তলায় আফসার ও হারুন, আইকে রোডে রহমত ও মিজান দেওয়ান, মুলাডুলিতে খায়বর ও তুহিন বিশ্বাস এবং শহরের আলহাজ্ব মোড়ে রওশন আলী ও জাহিদুল।
খরতাপে পুড়ছে চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, গ্রীষ্মের খরতাপে পুড়ছে চট্টগ্রাম। গত কয়েকদিন ধরে গরমের তীব্রতা অনেক বেড়েছে। প্রচণ্ড দাবদাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। এদের মধ্যে শিশু ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। মাঝে মাঝে আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা দেখা গেলেও প্রত্যাশিত বৃষ্টির দেখা মিলছে না। প্রচণ্ড গরমে অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র বিদ্যুত্ ও পানি সংকট। নগরীতে বিদ্যুতের লোডশেডিং তেমন একটা না থাকলেও গ্রামাঞ্চলে ভয়াবহ বিদ্যুত্ সংকট চলছে। দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোথাও কোথাও ৮ ঘণ্টাও বিদ্যুত্ থাকে না। রাতের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় থাকলেও সকাল থেকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে বিড়ম্বনা।
জ্বলছে রাজশাহী অঞ্চল
রাজশাহী অফিস জানায়, গ্রীষ্মের দাবদাহে জ্বলছে রাজশাহী অঞ্চল। গতকাল শুক্রবার রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৯.৭ ডিগ্রী তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। অব্যাহত তাপদাহে এই অঞ্চলের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রখর রোদে পুড়ছে পথ-ঘাট। বাতাসে যেনো আগুনের হলকা। দিনভর তাপপ্রবাহের রাতে চলছে ভ্যাপসা গরম। এতে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বৃষ্টির জন্য চারিদিকে যেনো হাহাকার পড়ে গেছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক দেবল কুমার মৈত্র শুক্রবার সন্ধ্যায় জানান, রাজশাহীতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল সকাল ৬টায় ৯৫ শতাংশ এবং বেলা ৩টায় ৫৫ শতাংশ।
