ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে

আপডেট : ২৩ মে ২০১৫, ০০:৪৯

আসছে বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের কিছুটা রেহাই দিতে তাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় থাকলে তাকে কর দিতে হয় না। টানা দু্ই অর্থবছর এ অবস্থা শেষে এবার তাতে পরিবর্তন আসছে। মূল্যস্ফীতিকে বিবেচনায় নিয়ে এবার করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। যদিও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের দাবি ছিল এ সীমা পৌনে তিন লাখ টাকা করার। ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত কোম্পানির করহারও কমানো হতে পারে। অর্থমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, কিছু খাতে করছাড় থাকলেও বাড়তি করের চাপ সামলাতে আসছে বাজেটে করের আওতা বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব থাকবে। আগামী ৪ জুন বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে এসব প্রস্তাব তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে বাজেট সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। গত বুধবার গণভবনে ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীও কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।

 
সূত্র জানিয়েছে, ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়সীমা বাড়লেও ন্যূনতম ট্যাক্স সামান্য বাড়ানো হচ্ছে। বিদ্যমান তিন ধাপের পরিবর্তে একধাপে এ করের পরিমাণ ৪ হাজার টাকা করা হচ্ছে। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনে তিন হাজার টাকা, জেলা ও উপজেলায় যথাক্রমে ২ হাজার ও ১ হাজার টাকা করে দিতে হচ্ছে।
 
শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত এমন কোম্পানির কর হার দুই শতাংশ কমে সাড়ে ২৫ শতাংশ হতে পারে। বর্তমানে এ ধরনের কোম্পানির করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত নয় এমন কোম্পানি এবং ব্যাংক, বীমা ও অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট করও দুই শতাংশ হারে কমতে পারে।
 
দেশে বিদ্যমান কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন থেকেই কর্পোরেট করহার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের দাবি, প্রতিবেশী ভারতসহ অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কর্পোরেট করহার বেশি। এটি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম অন্তরায়। সম্প্র্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও বাজেট নিয়ে আলোচনায় কর্পোরেট করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
 

তবে আসছে অর্থবছরে বাড়তি করের লক্ষ্য পূরণে বাজেটে কিছু প্রস্তাব থাকবে। আগামী ৪ জুন অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করবেন। বাড়ি ও গাড়ির মালিকানা থাকলেও করের আওতার বাইরে রয়েছেন এমন ব্যক্তিদের উপর কর আরোপের কথা জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। এটি কার্যকর হলে অনেকে করের আওতায় চলে আসবেন। অন্যদিকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর অফিসগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাড়তি কর আদায় করতে চাইছে সরকার। এছাড়া রপ্তানিমুখী শিল্পের উেস করও বাড়তে যাচ্ছে।