আবারও ভোগাচ্ছে চোট

আপডেট : ২৩ মে ২০১৫, ০৭:৩৫

পাকিস্তান সফরের পর সবাই কমবেশি ছুটি কাটালেও সাকিব আল হাসানকে আবার উড়াল দিতে হয়েছিলো ভারতে। সেখানে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে দুটো ম্যাচ খেলে ফিরে এসেছেন। বুধবার জাতীয় দলের ফিটনেস টেস্টে অংশও নিয়েছেন। আর সেখানেই বেরিয়ে এসেছে, আবারও টানা খেলা ও মাত্রা অতিরিক্ত চাপের কারণে শিন বোনের পুরানো ব্যথাটা ফিরে এসেছে দেশসেরা এই অলরাউন্ডারের। শুধু সাকিব নন; ইনজুরিজনিত সমস্যায় ভুগছেন আসলে দেশের সেরা তিন খেলোয়াড়—সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল। এ ছাড়াও রুবেল হোসেনও ভুগছেন চোটের সমস্যায়। প্রথম তিনজনকে ইতিমধ্যে কমপক্ষে এক সপ্তাহ করে ছুটি দেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বিশ্রাম নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠবেন তারা।

 
এই আশার সঙ্গে শঙ্কাও আছে। জাতীয় দলের সেরা চার-পাঁচ জন ক্রিকেটারের এমন ইনজুরি ভয়নাক ব্যস্ত ক্রিকেট সূচির মাঝে একটু শঙ্কাতেই ফেলেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে।
 
সাকিব এই ধরনের টানা খেলার চাপ থেকে প্রথম ইনজুরিতে পড়েন ২০১২ সালে। সে বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ মিস করেন সাকিব। দেড় মাস বিশ্রাম নিয়েও শিন বোনের সেই ধকল কাটিয়ে উঠতে না পারায় অস্ত্রোপচারও করতে হয়।
 
এরপর থেকে সুস্থ থাকলেও আবার সেই ব্যথা ফিরে আসায় খেলতে পারছেন না এবার বিসিএল। গতকাল বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী বললেন, ‘এই ধরনের ব্যথা ম্যানেজ করা যায় বিশ্রাম নিয়ে। তবে ওকে তো অনেক লোড নিতে হয়। সে জন্য একটু বেশি দুশ্চিন্তা। যদি এমন ব্যথা ফিরে আসতে থাকে, তাহলে হয়তো আবার বিকল্পটা ভাবতে হবে।’
 
বিকল্প  মানে অস্ত্রোপচার।
 
 সেই অস্ত্রোপচার তামিম ইকবাল করিয়ে এসেছেন বিশ্বকাপের আগেই। কিন্তু পুরো ফিট হওয়ার আগেই বিশ্বকাপ ও পাকিস্তান সফর খেলে ফেলতে হয়েছে। তাই তারও হাঁটুর ব্যথাটা ফিরে এসেছে। তামিমও সেই ব্যথার জন্য আবার একটু রিহ্যাব করছেন। তার ক্ষেত্রেও আসলে চিকিত্সরা বিশ্রামেই সমাধান বলে মনে করছেন।
 
একই কথা তারা মনে করছেন টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকের ব্যাপারেও। খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের সময়েই ইনজুরির কবলে পড়েন। তার ডানহাতের আঙ্গুলে আঘাত লেগেছিল। ফলে টানা দুইদিন কিপিংও করতে পারেননি। এরপরও দ্বিতীয় টেস্টে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা যায়নি মুশফিকুরকে।
 
ডান হাতে ব্যথা অনুভূত হওয়ায় বৃহস্পতিবার ফের পরীক্ষা করা হয় টাইগার দলপতিকে। এরপর তাকে আরো এক সপ্তাহ জন্য পরিপূর্ণ বিশ্রাম নেবার পরামর্শ দেয়া হয়। দেবাশীষ চৌধুরী মুশফিকের বিষয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘মুশফিকুরের হাতের আঙ্গুলে ব্যথা অনুভূত হওয়ায় বৃহস্পতিবার তাকে পরীক্ষা করার পর এক সপ্তাহের জন্য বিশ্রামে পাঠানো হয়েছে। এক সপ্তাহ পর তাকে ফের পরীক্ষা করে দেখা হবে।’
 
এদিকে টাইগার দলের পেসার রুবেল হোসেনও পরিপূর্ণ ফিটনেস ফিরে পায়নি বলে বাসস’কে জানিয়েছেন দেবাশীষ। তিনি বলেন, ‘মামলাসহ ব্যক্তিগত কিছু কাজের কারণে রুবেল আমাদের পুনর্বাসন কার্যক্রমে কয়েকদিন সময় দিতে পারেননি। তাই তাকে ফিটনেসে পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। তবে এখন তিনি নিয়মিত সময় দিচ্ছেন। আশাকরি সময়মত তিনি পরিপূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাবেন।’
 

এদিকে তামিম ইকবালসহ টাইগার দলের আরো কয়েকজন খেলোয়াড়ের ছোটখাট কিছু সমস্যা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বিসিবির এই ফিজিশিয়ান। তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, ‘পুরোপুরি ফিটনেস ফিরে পাবার আগে এসব খেলোয়াড় যদি ফের বিসিএলে অংশগ্রহণ করে তাহলে হয়তো সমস্যার মধ্যে পড়ে যেতে হবে। তাই এসব বিষয় মাথায় রেখে আমরা ঢালাওভাবে হয়তো সব খেলোয়াড়কে বিসিএলে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে পারবো না। ভারত সফরের আগে কোন রকম ঝুঁকি নেয়া যাবে না। তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আমরা খেলোয়াড়দের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।’