শুরুতেই ইংলিশ লোয়ার অর্ডারের লেজ মুড়ে দেয়ার পর উদ্বোধনী জুটির দৃঢ়তায় লর্ডস টেস্টে দারুণভাবে ফিরে এসেছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ১৪৮ রানে হঠাত্ করেই দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান বিদায় নেয়ায় সমস্যায় পড়ে সফরকারীরা। দ্বিতীয় দিনে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নয় উইকেট হাতে নিয়ে স্বাগতিকদের চেয়ে ২৩৪ রান পিছিয়ে ছিল তারা। অন্যদিকে বেন স্টোকস-জো রুটের দুর্দান্ত পাল্টা আক্রমণে টেস্টের প্রথম দিনেই ৩৫৪ রান তুলে নিয়ে ভাল কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিল ফর্মহীনতায় ধুঁকতে থাকা ইংল্যান্ড।
হেডিংলিতে ২০১৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সাদা পোশাক গায়ে চড়ানো গাপটিল ইনিংসের সূচনা করেন দারুণ আত্মবিশ্বাসের সাথে। চারশো থেকে তিন উইকেট কম নিয়ে এই টেস্ট শুরু করা জেমস অ্যান্ডারসনকে কভার অঞ্চল থেকে সীমানা ছাড়া করে শুরু করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। উদ্বোধনী জুটিতে তার সঙ্গী জিমি ল্যাথামও খেলতে থাকেন আস্থার সঙ্গে। মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই এই জুটি স্কোরবোর্ডে জমা করে ৪৪। বিরতির পর আরো আগ্রাসী হয়ে ওঠেন দু’জনেই। শেষ পর্যন্ত মইন আলীর স্পিনে ব্যক্তিগত ৫৯ রানে ল্যাথাম আউট হলেও ততক্ষণে এই জুটিতে উঠে গেছে ১৪৮ রান। সঙ্গীর বিদায়ের পর কোন রান যোগ না করেই তার পথ ধরে টেস্টে প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখার সুযোগ হারান গাপটিল। বিশ্বকাপে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো এই দীর্ঘদেহী ব্যাটসম্যান ৭০ রানে পরিণত হন স্টুয়ার্ট ব্রডের শিকারে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দলীয় ১৫৫ রানে ব্যাট করছিলেন কেন উইলিয়ামসন এবং রস টেলর। এর আগে দিনের শুরুতে ৩৫ রানেই শেষ তিন উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসটাকে দীর্ঘায়িত হতে দেয়নি নিউজিল্যান্ড। শুরুতেই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মইন আলীকে ট্রেন্ট বোল্ট ফিরিয়ে দিলে বড় স্কোরের আশা হারায় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত তারা অলআউট হয় ৩৮৯ রানে।
চারটি করে উইকেট নেন বোল্ট এবং ম্যাট হেররি।
অবশ্য দিনটা হতে পারত নিউজিল্যান্ডেরও। ৩০ রানের মধ্যেই ৪ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন কিউই বোলাররা। তবে জো রুট, বেন স্টোকস, জস বাটলার ও মঈন আলীর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ড। যদিও ইংলিশদের দিনটা আরো ভালো হতো। কিন্তু দিনের একদম শেষ বলে সপ্তম উইকেটটি হারায় তারা। দিন শেষে মঈন আলী অপরাজিত ছিলেন ৪৯ রানে। দিনের শেষ বলে বিদায় নেয়া বাটলারের ব্যাট থেকে আসে ৬৭ রান। এছাড়া রুট ৯৮ ও স্টোকস ৯২ রান করেন। বৃহস্পতিবার লর্ডসে টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। বোলিংয়ের শুরুটাও দুর্দান্ত হয় কিউইদের। ৩০ রানের মধ্যেই চার ইংলিশ ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠান সফরকারী বোলাররা।
দলীয় ১৭ রানে অভিষিক্ত অ্যাডাম লেইথকে উইকেটরক্ষক বিজে ওয়াটলিংয়ের গাভস বন্দি করান টিম সাউদি। এরপর দলীয় ২৫ রানে গ্যারি ব্যাল্যান্সকে সাউদির ক্যাচে পরিণত করেন ট্রেন্ট বোল্ট। ওই ২৫ রানেই তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরত যান ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক। কুকের বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান ইয়ান বেল। মাত্র ৩০ রানে প্রথমসারির চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় তখন কাতরাচ্ছিল ইংলিশরা। তবে পঞ্চম উইকেটে ১৬১ রানের বিশাল জুটি গড়ে মুমূর্ষু দলকে অক্সিজেন যোগান স্টোকস ও রুট। ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন স্টোকস। মার্ক ক্রেইগের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১৫টি চার ও এক ছক্কায় ৯২ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
এরপর বাটলারের সঙ্গে জুটি বেঁধে সেঞ্চুরির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন রুট। কিন্তু ব্যক্তিগত ৯৮ রানে হেনরির বল কাট করতে গিয়ে ব্যাটের নিচের অংশে লেগে টম লাথামের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ফলে টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই ইনিংসে পাঁচ ও ছয় নম্বরে নামা ব্যাটসম্যান ৯০-এর ঘরে আউট হন। পাঁচে নেমেছিলেন রুট আর ছয়ে স্টোকস।