দোষীদের শাস্তি চান বিশ্বের ১৫০ লেখক

আপডেট : ২৩ মে ২০১৫, ১২:২০

চলতি বছরে বাংলাদেশে একের পর এক ব্লগার ও লেখক হত্যার ঘটনায় নিন্দা করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বর্তমান সময়ের শীর্ষস্থানীয় লেখকেরা। সালমান রুশদি ও মার্গারেট অ্যাটউড, ইয়ান মারটেলসহ বিশ্বের ১৫০ জনের বেশি লেখক এ আহবান জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে এক খোলাচিঠিতে তারা বাংলাদেশ সরকারকে মুক্তচিন্তা সুরক্ষা ও হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে লেখক ও সাংবাদিকদের উপর ক্রমবর্ধমান সহিংস হামলার ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

 
বুকার জয়ী ঔপন্যাসিক ই-মেইলে গার্ডিয়ানকে বলেন, আমি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছি একটি বড় কারণে। এই জঘন্য অপরাধ বন্ধে শিগগিরই অবশ্যই কিছু করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার হয়তো এ চিঠির মাধ্যমে পশ্চিমা দেশগুলোর চেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে। আমার আশা এ চিঠির কারণে শেখ হাসিনার সরকার সত্যিকার অর্থেই বিক্ষুব্ধ হবে।
 
গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে সিলেটে জনাকীর্ণ সড়কে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস খুন হন। নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মুখোশধারী চার হামলাকারী তাঁকে ধাওয়া করে এবং চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার পরই লেখকরা এই খোলা চিঠি লিখেছেন।
 
অনন্ত দাস মুক্তমনা নামের একটি ব্লগের প্রদায়ক হিসেবে কাজ করতেন। ২০০২ সালে অভিজিত্ রায় মুক্তমনা ব্লগটি প্রতিষ্ঠা করেন। এই ব্লগে অনন্ত বিজ্ঞান ও বিবর্তন বিষয়ে লেখা পোস্ট করতেন। সেখানে ইসলাম ও হিন্দুত্ববাদকে সমালোচনা করেও তার কিছু লেখা ছিলো। তার সহকর্মী লেখকদের মতে, জঙ্গিদের হত্যা তালিকায় অভিজিত্ রায়ের পরই তার নাম ছিলো। গত ফেব্রুয়ারিতে অভিজিত্ ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা হামলার শিকার হন। ওই হামলায় অভিজিত্ নিহত ও তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন। পরের মাসেই আরেক ব্লগার ওয়াশিকুর রহমানকে হত্যা করা হয়। পর পর এসব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে না পারায় উদ্বেগ জানিয়েছেন পেন ইন্টারন্যাশনাল ও ইংলিশ পেনের লেখকরা।
 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ছয় জন লেখক ও ব্লগার হামলার শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত একটি মৌলিক অধিকার হলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা। আমরা অনন্ত বিজয় দাস, ওয়াশিকুর রহমান ও অভিজিত্ রায়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানাই। একই সঙ্গে হুমকির মুখে থাকা লেখক ও ব্লগারদের নিরাপত্তা দেয়ার আহবান জানান তারা। মারটেলের মতে, ধর্মীয় উগ্রবাদের কারণে বিশ্বব্যাপী লেখকরা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।