রাজধানীতে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে এক গারো তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় একজনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তার নাম ও ঠিকানাও পেয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।
এদিকে চলন্ত মাইক্রোবাসে দেড় ঘণ্টা ধরে দলবদ্ধ পাশবিকতার শিকার গারো ওই তরুণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন চিকিৎসকরা।
কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষিত ওই তরুণীকে শনিবার সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে নেয় পুলিশ। পরীক্ষা শেষে দুপুরে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান মো. হাবিব উজ জামান চৌধুরী বলেন, ‘মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছি। প্রাথমিক রিপোর্টে ধর্ষণের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’
ভাটারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শনিবার সকাল ১১টার দিকে ভাটারা থানার তত্ত্বাবধানে তেঁজগাওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে ওই গারো তরুণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে নেওয়া হয়।
এদিকে শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের উপ-কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির গুলশানে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনার তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করছে। একজনের নাম পাওয়া গেছে। তবে তার অবস্থান এখনো সনাক্ত করা যায়নি। ধর্ষণকারীরা তরুণীর পূর্ব পরিচিত না। তাই নাম জানা গেলেও সরাসরি বলতে পারছে সে কে। ওই তরুণীকে গাড়িতে তোলার পর ধর্ষণকারীদের কাছে একটি ফোন আসলে একজন অপরজনকে নাম সম্বোধন করে। সেই নামটিই আমরা পেয়েছি।
ওই তরুণীর কর্মস্থল এবং ঘটনাস্থলে কোথাও সিসি ক্যামেরা ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পাওয়া যায়নি, আমাদের অন্যভাবে ধর্ষণকারীদের সনাক্ত করতে হবে। তদন্ত কাজ এগিয়ে নিতে এরই মধ্যে কয়েকটি টিম কাজ শুরু করেছে।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশও এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ওই তরুণীকে গাড়িতে উঠানোর স্থান এবং পুরো রাস্তায় যেখানে যেখানে মনে করতে পারবে সে স্থানগুলোকে তদন্তের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সেসব স্থানে ক্যামেরা থাকলে তাও সংগ্রহ করা হবে। ঘটনাটি একজন পরিদর্শক পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা তদন্ত করছে বলে তিনি জানান।
এই ধরনের ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের মানসিক বিপর্যয় ঘটে থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই তরুণীকে আমরা কাউন্সিলিং থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা করছি। মামলার পর পরই তাকে তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণকারীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্রেক থ্রো দিতে পারব বলে আশা করছি।’
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে এক গারো তরুণীকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে পাঁচ যুবক গণধর্ষণ করে উত্তরার জসিম উদ্দিন রোডে ফেলে যায়। এই ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে ওই তরুণী বাদী হয়ে পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় মামলা করেন।
