২০০৯ সালে সেই প্রথম আয়োজনের পর থেকে অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অ্যাওয়ার্ড নাইট আর আসে না। অবশেষে ছয় বছর পর গতকাল সেই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করলো বাফুফে। সবার নজর ছিলো গত বছরের পুরস্কারের দিকে। গত বছর ২০১৪ সালের পারফরম্যান্সের বিচারে মামুনুল ইসলাম সেরা খেলোয়াড় ছাড়াও উঠতি খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন হেমন্ত বিশ্বাস, মেয়েদের মধ্যে সেরা খেলোয়াড় পেয়েছেন সাবিনা খাতুন এবং উঠতি সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন সানজিতা আক্তার
সাদা রংয়ের শার্ট গায়ে মঞ্চে উঠলেন জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম।
সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে উচ্ছ্বসিত দেশের সেরা এই মিডফিল্ডার। তাকে অভিনন্দন জানাতে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে থাকা সব খেলোয়াড় তো এলেনই। শিষ্য মামুনুলের সাথে মিল রেখে সাদা শাট গায়ে এলেন ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফও আসলেন প্রেরণা দিতে। আজ মামুনুল পেয়েছেন কাল আরেকজন পাবেন এমন জমকালো অনুষ্ঠানে, এটাই ক্রইফের কথা। ফুটবল এগিয়ে যাচ্ছে, খেলোয়াড়রা পুরস্কার পাচ্ছেন সম্মান পাচ্ছেন। তাতেই সফল মনে করছেন ক্রুইফ।
বাফুফে কাল রাতে অ্যাওয়ার্ড নাইটের আয়োজন করলো। ২০০৯ সালে প্রথম বার অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাফুফে অ্যাওয়ার্ড নাইট। এরপর বাকিটা সময় গেছে কিন্তু পুরস্কার দেয়ার সময় হয়নি বাফুফের। জমে ছিল বহু পুরস্কার। জুনিয়র ডিভিশন থেকে শুরু তৃতীয় বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ, প্রথম বিভাগ এবং পেশাদার লিগের পুরস্কার দেয়া হয়নি। একটা লিগের তিনটা করে পুরস্কার। অনেক অপেক্ষার পর আবার বন্ধ হয়ে থাকা পুরস্কার দেয়া হলো।
আবারও প্রতিশ্রুতি দেয়া হলো প্রতিবছর বাফুফে অ্যাওয়ার্ড নাইট করে পুরস্কার দেয়া হবে। ক্লাব পুরস্কার ছাড়াও ব্যক্তিগত পুরস্কার পেয়েছেন সেরা গোলদাতারা।
গত বছর ২০১৪ সালের পারফরম্যান্সের বিচারে মামুনুল ইসলাম সেরা খেলোয়াড় ছাড়াও উঠতি খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন হেমন্ত বিশ্বাস, মেয়েদের মধ্যে সেরা খেলোয়াড় পেয়েছেন সাবিনা খাতুন এবং উঠতি সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন সানজিতা আক্তার। সাবিনা মালদ্বীপে খেলতে গেছেন।
সানজিদা ছিলেন মঞ্চে, ছিলেন হেমন্ত বিশ্বাসও। হেমন্ত বিশ্বাস আনন্দেই আছেন। কারণ তার জন্য এটা অনেক বড় পুরস্কার। ফুটবলের আলোতে আসতেই প্রথমবার এতো বড় পুরস্কার অনেক দূর এগিয়ে নেবে, বিশ্বাস হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাসের। আর মহিলা জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় সানজিদা আক্তার। এই ক্ষুদে ফুটবলার জাতীয় দলে খেললেও এখনও তার কথায় আচরণে যেন ছোট একটা মানুষ। খুবই জড়সড়ো। জীবনে নাকি কল্পনাও করেননি এতো বড় পুরস্কার পেতে পারেন। আলোকিত মঞ্চে উঠে পুরস্কার গ্রহণ করার সময় সানজিদা যেন কাঁপছিলেন। শারীরিক গড়ন তার খুব একটা ভালো না। পায়ের কাজ দারুণ। চোখে লাগার মতোই। স্টেডিয়ামে তার গোল দেখেছেন দর্শক। সানজিদা পুরস্কার গ্রহণ করার সময় সবচেয়ে বেশি অভিনন্দন পড়লো দর্শক সারি থেকে। এবারই সেরা খেলোয়াড় এবং উঠতি খেলোয়াড়দের পুরস্কার দেয়ার নতুন নিয়মটি চালু করলো। এটাই ছিল কালকের চমক। ভোটের মাধ্যমে তাদের নির্বাচিত করা হয়েছে। আরো নতুন একটা পুরস্কার দিয়েছে বাফুফে, সেরা ডিএফএ পুরস্কার পেয়েছে সাতক্ষীরা জেলা। এএফসি সার্ভিস সিলভার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন সালাম মুর্শেদী।
প্রায় পঞ্চাশটি ট্রফি জমা পড়ে গিয়েছিল বাফুফের কাছে। আর এই ট্রফিগুলো তুলে দিতে তিন ঘন্টা কেটে গেছে। পুরুষ ও মহিলা জাতীয় ফুটবল দলকে মঞ্চে তুলে অনুষ্ঠানের শুরু করা হয়। স্ট্রাইকার এনামুল হক ২১ গোল করে ২০০৯ সালে লিগে সেরা গোলদাতা হয়েছেন। ১৬ গোল করে ২০১০ সালের লিগে সেরা গোলদাতা হয়েছেন মিঠুন চৌধুরী। ২০১৩-১৪ সালে মৌসুমে ১৫ গোল করে সেরা গোলদাতা হয়েছেন ওয়াহেদ আহমেদ।