জুনিয়র অ্যাথলেটিকস যেন বিকেএসপির পদক জয়ের একটা বড় মঞ্চ হয়ে গেছে।
এই লড়াইগুলো হলেই পুরো মঞ্চের দখল নেয় বিকেএসপি। আকর্ষণীয় প্রায় সব ইভেন্টগুলো যেন এই প্রতিষ্ঠানের নামেই চলে যায়। দুই দিনের জুনিয়র অ্যাথলেটিকসেও তারা অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে। দ্রুততম কিশোর হয়েছে সাইফুল এবং কিশোরী তামান্না। আগামীতে এই দুজন জাতীয় অ্যাথলেটিকসের সব চেয়ে বড় মঞ্চেও দখল নেবে। এমন আভাস তাদের পারফরম্যান্সে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের আকাশে তখন গোধূলী লগ্ন।
গত কয়েক দিনের গরমে জনজীবন হাঁপিয়ে উঠেছে। কিন্তু তার পরও ঘর্মাক্ত সব অ্যাথলেট, সংগঠক, কোচ, কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমের কর্মীরা ক্লান্তুি ভুলে গিয়ে দ্রুততম কিশোর-কিশোরীদের দিকে ছুটে গেলো। ফটো সেশন চললো আগামী দিনের সম্ভাবনাময় বড় অ্যাথলেটদের নিয়ে। বিকেএসপির উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র সাইফুল ইসমাইল খান দ্রুততম কিশোর হয়েছেন। আগেও খেলে গেছেন এই কৃতী অ্যাথলেট। কিন্তু এবারই প্রথম সেরা পদকটি জয় করেছেন, সাইফুল দ্রুততম কিশোর হয়েছেন, স্বর্ণ জয় করেছেন। মনের মধ্যে পুষে রেখেছেন একটা সময় দেশের দ্রুততম মানব হবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছেলে সাইফুল। নিজ জেলায় ফুটবল ট্রায়াল দিতে গিয়েছিলেন সাইফুল। কিন্তু ফুটবল ট্রায়াল দেয়ার আগেই তার অ্যাথলেটিকস প্রতিভার কথা জানা ছিল তার প্রিয় কোচদের। তাদেরই অনুরোধে ফুটবল বাদ দিয়ে অ্যাথলেটিকসে ট্রায়াল দিয়ে বিকেএসপিতে ঠিকানা খুঁজে নেয় সাইফুল। এবার লক্ষ্য আরো উপরে। এ জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে তার কোনো আপত্তি নেই।
কিশোর সাইফুলের পরই দৌড় শেষ করে বড় বড় নিঃশ্বাস নিতে নিতে আসলেন বিকেএসপির আরেক অ্যাথলেট কিশোরী তামান্না আক্তার। সুনামগঞ্জের মেয়ে ২০০৯ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছিলেন। আগেও দ্রুততম হওয়ার খেতাব পেয়েছিলেন এই কিশোরী। স্বপ্নডানাটা তার অনেক বড়। হতে চান ফিরোজা, লাভলী, যুঁথী, বীথি, বিউটিদের মতো স্প্রিন্টার। কাল নিজের দৌড় শেষ করে বিকেএসপির উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী সুনামগঞ্জের মেয়ে তামান্না ১০০, ২০০, ৪০০ মিটার এবং লং জাম্প, হাই জাম্পে স্বর্ণ পদক পেয়েছেন। বিকেএসপি ২২টি স্বর্ণ, ৮ রৌপ্য, ২টি ব্রোঞ্জ মিলিয়ে ৩২টি পদক পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। খুলনা ২টি স্বর্ণ, ৯টি রৌপ্য এবং ৮টি ব্রোঞ্জ পেয়ে রানার্সআপ হয়েছে। পার্থক্যটা বোঝা যাচ্ছে। ৩৩তম জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকসে নারায়ণগঞ্জ ও ঝিনাইদহ ২টি করে স্বর্ণ, নাটোর, টাঙ্গাইল, নড়াইল, শরিয়তপুর ১টি করে স্বর্ণ পদক পেয়েছে।