ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৭ মে বার কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এই স্থগিতাদেশ স্থগিত ও ভোটার তালিকা সংশোধন চেয়ে পৃথক চারটি আবেদনের ওপর আগামী ২৮ মে আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছে আদালত। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ রবিবার এই দিন ধার্য করে দেন।
এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ২১ মে বার কাউন্সিল নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দেয় হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে বার কাউন্সিলের পক্ষে সচিব এবং বার কাউন্সিলের এবারের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য ফোরামের তিন প্রার্থী এজে মোহাম্মদ আলী, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও এম বদরুদ্দোজা বাদল পৃথকভাবে দুটি আবেদন করেন।
এছাড়া সরকার সমর্থক প্যানেল সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্রার্থী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ এবং বার কাউন্সিল সদস্য সৈয়দ রেজাউর রহমান ও জাহিদুর রহমান ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত করে নির্বাচন দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে দুটি আবেদন করেন। এ চারটি আবেদনের উপর আপিল বিভাগে শুনানি হয়।
শুনানিতে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেন, নির্বাচন স্থগিত করে প্রায় ৫০ হাজার আইনজীবীর ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুযোগ করে দিন। তবে বর্তমান ভোটার তালিকা দিয়ে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছে না এমন তিনজন সিনিয়র আইনজীবীকে দিয়ে একটি কমিটি করে ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে নতুন নির্বাচনের দিন ধার্য করে দিতে হবে। যাতে একজন আইনজীবী দুটি বারে ভোট দিতে না পারে।
ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম বলেন, ভোটার তালিকা ত্রুটি যুক্ত। তাই এ তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচনে জালিয়াতির সুযোগ রয়েছে। এ তালিকা সংশোধন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, যখনই সামরিক শাসন এসেছে তখনই বার কাউন্সিলের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু মহাজোট সরকার অ্যাডহক কমিটি গঠনের ওই বিধান বার কাউন্সিল আইন থেকে বাতিল করে দিয়েছে। যার ফলে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।
