সিঅ্যান্ডএফ মালিক ও কর্মচারীদের অব্যাহত ধর্মঘটে মংলা বন্দরের জেটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। মংলা বন্দর জেটি এলাকা দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানির সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে বন্দর জেটি থেকে আমদানি পণ্যের কোন চালান খালাস কিংবা ডেলিভারি বন্ধ রয়েছে। ফলে গত পাঁচ দিনে প্রায় ৫০ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে কাস্টমস শুল্ক বিভাগ।
মংলা বন্দর কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের ও কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাদের অভিযোগ, মংলা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অধিক কালক্ষেপণের কারণে পণ্যের গুণগতমান নষ্ট, আমদানি ও রফতানি কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতি ও ঝুঁকি এবং শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে।
নির্ধারিত সময়ে মালামাল সরবরাহ করতে না পারায় ব্যবসায় চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন মংলা বন্দর ব্যবহারকারীরা। বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিঅ্যান্ডএফ’র মালিক ও কর্মচারীদের ধর্মঘট না হলে মংলা বন্দর জেটি থেকে গত চার দিনে প্রায় এক হাজারেও বেশি কন্টেইনার লোডিং হতো এবং মালামাল বোঝাই করা কন্টেইনার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তা খালাসের জন্য চলে যেতো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, চলমান এ ধর্মঘটের কারণে মংলা বন্দর জেটিতে আমদানি পণ্যের ১ হাজার ৪শ’ এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যের ৮শ’ কন্টেইনার আটকে আছে।
নির্ধারিত সময় কাস্টমস কায়ীক পরীক্ষাসহ কার্যাদি সম্পূর্ণ না হওয়ায় বন্দরের কন্টেইনার ইয়ার্ড থেকে ছাড় করাতে পারছে না আমদানিকারকরা। একইভাবে হিমায়িত চিংড়িসহ রপ্তানিযোগ্য পণ্যও আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর প্রক্রিয়াও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বন্দরের তথ্য অনুয়ায়ী, কন্টেইনার পরিবহনের জন্য এ সপ্তাহে ২টি সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজ আগমনের সিডিউল রয়েছে তাদের কাছে। তবে সিঅ্যান্ডএফ মালিক-শ্রমিকদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকলে ওই দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের আগমনও অনিশ্চিত হতে পারে। ধর্মঘটের কারণে দেশি-বিদেশি কন্টেইনার জাহাজও বন্দর জেটিতে ভিড়ার সিডিউল পরিবর্তন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তবে, মংলা বন্দরে বর্তমানে ৯টি দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে। এ জাহাজগুলো বন্দরের হারবাড়িয়া ও বহির্নোঙ্গরে অবস্থান করে মালামাল বোঝাই ও খালাস করছে। এছাড়া একটি মেশিনারিজ (মেশিনের যন্ত্রাংশ) জাহাজ বন্দর জেটিতে মালামাল খালাস করছে বলে জানান, বন্দরের হারবার বিভাগ। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান টিটো জানান, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন, বাগেরহাট চেম্বার, খুলনা চেম্বার অব কমার্স ও মংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমন্বয় পরিষদসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন আমাদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
