নজরুল স্মৃতিবিজড়িত বহু স্মৃতিচিহ্ন বিলুপ্তপ্রায়

আপডেট : ২৫ মে ২০১৫, ০১:৪৬

আজ সোমবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৬তম জন্মজয়ন্তী। এ বছর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নজরুল জন্মজয়ন্তীর জাতীয় অনুষ্ঠান কুমিল্লায় উদযাপন হচ্ছে। বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন।

 

এ উপলক্ষে নগরীর রাণীর দীঘিরপাড় ও নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকার দুটি ফলক কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন করে নির্মাণ করা হয়েছে। এর আগে ১৯৯২ সালে কুমিল্লায় জাতীয়ভাবে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী পালিত হয়।

 
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কুমিল্লা মহানগরকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘কুমিল্লা বিভাগ’ এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন এমন আশায় সর্বত্র উত্সবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। কুমিল্লা মহানগর ও জেলার মুরাদনগরের কবিতীর্থ দৌলতপুরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
 
কুমিল্লায় কবি নজরুল
 
১৯২১ সালের এপ্রিল মাসে কবির প্রথম আগমন ঘটে জেলার মুরাদনগর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামেরই কবির পূর্ব পরিচিত বন্ধু আলী আকবর খানের আমন্ত্রণে। এ সময় আলী আকবর খানের বোনের মেয়ে সৈয়দা নার্গিস আরা খানমের মাঝে কবি তাঁর মানসীর ছবি খুঁজে পান। দু’জন-দু’জনার কাছাকাছি আসেন। এ প্রেম পল্ল­বিত হয়ে প্রণয়ে পরিণত হয়। কবি নার্গিসকে একই বছরের ১৭ জুন বিয়ে করেন। দৌলতপুরে মামার বাড়িতে কবির সঙ্গে নার্গিসের বিয়ে স্থায়ী না হলেও শহরে কবি ইন্দ্রকুমার সেনের বাসায় অবস্থানকালে তার ভ্রাতৃজয়া গিরীলা দেবীর একমাত্র কন্যা আশালতা সেনগুপ্তা ওরফে প্রমীলার (কবির দেয়া নাম) সঙ্গে পরিচয় প্রেম এবং তারপর ১৯২৪ সালের ২৫ এপ্রিল কলকাতার ৬নং হাজী লেনে তাদের বিয়ে হয়। কবি দ্বিতীয়বার কুমিল্লায় আসেন ১৯২১ সালের নভেম্বর মাসে। এ সময়ে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী গান গাওয়ার কারণে গ্রেফতার হন। ১৯২২ সালের ২৩ নভেম্বর শহরের ঝাউতলা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো গ্রেফতার হন কবি। সর্বশেষ কবি পঞ্চমবারের মতো কুমিল্লায় আসেন ১৯২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরপরই। এ ছিল তার কুমিল্লায় শেষ আসা। কবি নজরুল আর নার্গিসের বিচ্ছেদ হলেও ১৫ বছর অপেক্ষার পর কলকাতা থেকে তার তালাকনামা এনে নার্গিস পরে কবি আজিজুল হাকিমের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।
 
নজরুল জীবনে কুমিল্লার প্রভাব, অনেক স্মৃতি
 
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অম্লাণ স্মৃতি বিজড়িত কুমিল্লায় ছড়িয়ে আছে কবি নজরুলের অনেক স্মৃতি, অনেক নিদর্শন। কলকাতা থেকে কুমিল্লার মুরাদনগরের দৌলতপুরে কবি নজরুলের চলে আসা, সেখানে ও কুমিল্লা শহরে অবস্থান, প্রথমে নার্গিস আরা খানম এবং পরে আশালতা বা প্রমীলার সঙ্গে নজরুলের প্রেম ও পরিণয়ে শুধু নজরুল জীবনের বৈচিত্র্যময় ও বর্ণাঢ্য ঘটনাই নয়, নজরুলের সাহিত্য জীবনেরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাত্পর্যবাহী ঘটনা। বস্তুত নজরুল সাহিত্যে যে স্বদেশপ্রেম, নিসর্গপ্রীতি এবং বিদ্রোহী চেতনার উত্সারণ, জনজীবনের সঙ্গে গভীর ও নিবিড় পরিচয়, দেশাত্মবোধ ও স্বাধীনতা প্রীতি তা এক নতুন মাত্রা অর্জন করে দৌলতপুর ও কুমিল্লা শহরে অবস্থানের ফলে। কুমিল্লায় তাঁর অবস্থান তাঁকে     পল্লী-প্রকৃতিনির্ভর কবিতা-গান রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছে।
 
নজরুল দৌলতপুরে আলী আকবর খানের বাড়িতে কয়েক মাস ছিলেন। সে সময়ে তিনি তাঁর ‘ছায়ানট’ কাব্যের ‘পাঁপড়ি খোলা’, ‘অবেলায়’, ‘হারমানা হার’, ‘অনাদৃত’, ‘বিদায় বেলায়’, ‘হারা-মণি’, ‘বেদনা-অভিমান’, ‘মানস-বধূ’, ‘বিধুরা’, ‘পথিক প্রিয়া’ প্রভৃতি কবিতা রচনা করেন। অতঃপর আলী আকবর খানের ভাগ্নি নার্গিস আরা খানমের সঙ্গে নজরুলের প্রথম বিবাহ সম্পন্ন হয়। কিছুটা রহস্যময় কারণে এ বিবাহ ভেঙ্গে গেলেও নজরুল-নার্গিস প্রেম, প্রণয়, পরিণয় ও বিচ্ছেদ নজরুল সাহিত্যের উত্সারণে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছে।
 
কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়ে বিভিন্ন সময়ে নজরুলের অবস্থান, নজরুল ও প্রমীলার প্রেম, প্রণয় ও পরিণয় উত্স হয়েছে কবির অনেক রোমান্টিক কবিতা ও গানের এবং দেশাত্মবোধক ও বিদ্রোহী চেতনাসম্পন্ন রচনার। এখানে অবস্থানকালে রচিত নজরুলের রচনা ‘প্রিয়ার রূপ’, ‘শায়ক-বেঁধা পাখী’, ‘চিরচেনা’, ‘স্তব্ধ বাদল’ ইত্যাদি কবিতা-গল্প। নজরুলের ‘দোদুল দুল’, ‘ব্যথার গরব’, ‘উপেক্ষিত’, ‘সমর্পণ’, ‘চপল সাথী’, ‘পূজারিণী’, ‘মুখরা’, ‘সাধের ভিখারিণী’, ‘কবি-রাণী’, ‘আশা’, ‘শেষ প্রার্থনা’ ইত্যাদি কবিতা-গানও প্রমীলার সঙ্গে প্রেম-প্রণয়কেন্দ্রিক এবং বিবাহপূর্ব জীবনের প্রণয়-লীলা উত্সারিত বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। নজরুলের স্বদেশপ্রেমমূলক ও দেশাত্মবোধক এবং বিদ্রোহী চেতনাসম্পন্ন রচনায় নার্গিস-প্রমীলা ও কুমিল্লার রয়েছে অনেক প্রভাব।
 
‘ধূমকেতু’ পত্রিকায় ১৯২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় নজরুলের ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতা এবং এটি প্রকাশের কারণে রাজদ্রোহের অভিযোগে তাঁর প্রতি গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়। পরে ২৩ নভেম্বর নজরুল কুমিল্লায় গ্রেফতার হন। ১ বছর কারাভোগের পর ১৯২৩ সালের ডিসেম্বরে মুক্তিলাভ করেন।
 
নজরুল স্মরণে স্মৃতিফলক
 
কুমিল্লা গোমতী নদীর এপারে প্রমীলা ওপারে নার্গিস। কবি নজরুল ইসলামের হূদয়ের দুই সারথী। এ দুজনকে ঘিরেই কবি নজরুলের প্রেম আর বিরহের অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত কেটেছে কুমিল্লা মহানগর ও জেলার মুরাদনগরের দৌলতপুরে। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বহুল স্মৃতি বিজড়িত কুমিল্লা মহানগর ও দৌলতপুর থেকে অনেক স্মৃতিচিহ্ন এখন বিলুপ্তির পথে। নজরুল জন্ম জয়ন্তীর জাতীয় এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে নগরীর ভিক্টোরিয়া কলেজের পাশে রাণীর দীঘির পশ্চিম-দক্ষিণ কোণে যেখানে বসে কবি ‘মাধবী লতা দোলে...’ ছাড়াও অনেক কবিতা-গান রচনা করেছেন এবং প্রমীলাকে চিঠি লিখতেন সেই স্মৃতিচিহ্ন দৃষ্টিনন্দন করে নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর নজরুল অ্যাভেনিউ এলাকায় যেখানে কবি ‘প্রভায় তোমার উদিল প্রভাত, হেম প্রভ হল ধরণী...’সহ অসংখ্য কবিতা-গান রচনা করেছেন সেই স্থানটিও সংরক্ষণের জন্য নতুন করে নজরুলের স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু এ ২টি স্থান সংরক্ষণে কবি নজরুল প্রতিকৃতি ফলক নির্মাণ করেন।
 
অনেক স্মৃতিচিহ্ন পড়ে আছে অবহেলায়
 
প্রমীলা দেবীর বাড়ি, ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়ে কবিতা গানের আসর, বসন্ত স্মৃতি পাঠাগার, ঝাউতলায় গ্রেফতার হওয়া, নানুয়া দীঘির পাড়, দারোগা বাড়ি, ইউছুফ স্কুল রোড, মহেশাঙ্গণ, কুমিল্লা বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন ও মাঠ, দক্ষিণ চর্থায় নবাব বাড়ি, শচীন দেব বর্মনের বাড়ি, ধীরেন্দ্র নাথ দত্তের বাড়ি, নজরুল অ্যাভিনিউ (ফরিদা বিদ্যায়তনের সামনে), কান্দিরপাড়, ঝাউতলা, রেলস্টেশন, কোতয়ালী থানা, কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং মুরাদনগরের দৌলতপুরসহ কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে কবির স্মৃতি চিহ্ন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। কিন্তু সংস্কারের অভাবে কুমিল্লা থেকে কবি কাজী নজরুলের অনেক স্মৃতি চিহ্ন অযত্ন-অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে।
 
নজরুল স্মৃতি সংরক্ষণে পদক্ষেপ:
 
১৯৮৩ সালে কবির স্মৃতি বিজড়িত স্থানসমূহে তত্কালীন জেলা প্রশাসক হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরীর সহায়তায় জেলা পরিষদের অর্থে শ্বেতপাথরের ফলক লাগানো হয়। এসব ফলকে কবির গান, কবিতা, ছড়া ও বাণী তুলে ধরা হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কুমিল্লায় নজরুল স্মৃতিগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ১৯৬২ কুমিল্লার তত্কালীন জেলা প্রশাসক কবি আবু জাফর ওবায়দুল­াহ কুমিল্লার কান্দিরপাড়-ধর্মপুর রেলস্টেশন সড়কের নজরুল অ্যাভিনিউ নামকরণ করেন। শহরের ফরিদা বিদ্যায়তনের পাশে যেখানে প্রমীলা দেবীর বাড়ি ছিল সেখানেও চোখে পড়ার মতো কোন স্মৃতিচিহ্ন নেই। তবে প্রমীলার বাড়ি ও পুকুর পাড় থেকে স্মৃতিফলক উঠিয়ে এনে রাস্তার বিপরীত পাশে ফরিদা বিদ্যায়তনের সামনে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এর অদূরে বসন্ত স্মৃতি পাঠাগার ছিল, যেখানে কবি কবিতা লিখতেন, আড্ডা দিতেন। এ বছর সেখানে নজরুল স্মৃতিফলক দৃষ্টিনন্দন করে নির্মাণ করেছে সিটি কর্পোরেশন। শহর থেকে গ্রেফতারের পর কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন কবি কিন্তু সেখানেও নেই কবির কোন স্মৃতিফলক।
 
নজরুল ইন্সটিটিউট কেন্দ্র-কুমিল্লা
 
২০১৩ সালের ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগরের উত্তরপাড়ে নজরুল ইন্সটিটিউট কেন্দ্র-কুমিল্লার উদ্বোধন করেন। এতে নজরুল গবেষণায় নতুন প্রজন্ম উপকৃত হচ্ছেন। এখানে লাইব্রেরি, জাদুঘর, বিক্রয় কেন্দ্র, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মিলনায়তন এবং সঙ্গীত-আবৃত্তি প্রশিক্ষণ কোর্স ও গবেষণা কার্যক্রম চলছে।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আয়োজিত কবি নজরুল জন্ম জয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২৫৫ কোটি ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকার ১৯টি প্রকল্পের প্রতীকী উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরমধ্যে ১৭৭ কোটি ৮১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১০টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৭৭ কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৯টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
 
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৬তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ২৫ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত তাঁর অম্লান স্মৃতি বিজড়িত কুমিল্লায় তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা ২৫ মে বিকালে নজরুল জন্মবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি, রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক এমপি, সদর আসনের এমপি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার, নজরুল ইন্সটিটিউট ট্রাস্ট্রি বোর্ডের সভাপতি প্রফেসর এমিরেটাস রফিকুল ইসলাম। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব বেগম আকতারী মমতাজ এবং স্বারক বক্তব্য রাখবেন অধ্যাপক শান্তনু কায়সার।
 
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আলোচনা সভা ছাড়াও কুমিল্লা জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রকাশিত অধ্যাপক শান্তি রঞ্জন ভৌমিকের ‘অঞ্জলি লহ মোর’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হবে। জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোলের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের এমপি অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ। ২৭ মে সমাপনী দিনে আলোচনা সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন সাবেক আইনমন্ত্রী ও কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের এমপি অ্যাড. আবদুল মতিন খসরু।
 
এছাড়া কুমিল্লার মুরাদনগরের কবিতীর্থ দৌলতপুরে দুই দিনব্যাপী (২৫ ও ২৬ মে) পৃথক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
 
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, কাজী নজরুল ইসলামের কৈশোর স্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালে আজ সোমবার থেকে কবির ১১৬তম জন্ম জয়ন্তী হবে। জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান মালার শুরু হবে। ত্রিশালের দরিরামপুর নজরুল মঞ্চসহ পৌর শহরকে সাজানো হচ্ছে নতুন সাজে। নজরুল জন্ম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে ঘিরে ত্রিশালবাসী তথা বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের মাঝে উত্সবের আমেজ বিরাজ করছে। এছাড়াও ত্রিশালের নামাপাড়ায় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগেও কবির জন্ম বার্ষিকীর ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করেছে।
 
শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কাজী নজরুল ইসলামের ১১৬তম জন্ম জয়ন্তী পালন উপলক্ষে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন কবির স্মৃতি বিজড়িত শিবালয় উপজেলার তেওতা গ্রামে আজ সোমবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।