“হে ই সামালো ধান হো, কাস্তেটা দাও শান হো, জান কবুল আর মান কবুল—আর দেব না আর দেব না রক্তে বোনা ধান মোদের প্রাণ হো!” সলীল চৌধুরীর সুরারোপিত এ গানটি প্রথম গাওয়া হয়েছিল তখন, যখন বাংলা জুড়ে চলছিল রক্তে দোলা লাগা ‘তেভাগা আন্দোলন’। ‘রক্তে বোনা ধানের’ ন্যায্য হিস্যা থেকে কৃষককে বঞ্চিত করার যে আধি বর্গা প্রথা সেসময় চালু ছিল, সে আন্দোলন ছিল তার বিরুদ্ধে পরিচালিত। তারপর ইতোমধ্যে ৬ দশকেরও বেশি সময় পার হয়েছে। পাকিস্তানের জালেমী শাসনের অবসান হয়েছে। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ‘জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার‘ মূলনীতির ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। এমনকি, তার পরেও ৪ দশকের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু পঞ্চাশের দশকের সেই গানের প্রাসঙ্গিকতা আজও শেষ হয়নি। এখনো কৃষক তার ‘রক্তে বোনা ধানের’ ন্যায্য হিস্যা থেকে আগের মতোই বঞ্চিত হচ্ছে। তবে এখন সে বঞ্চিত হচ্ছে পুরানো সামন্তবাদী কায়দার বদলে প্রধানত পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতির অদৃশ্য কারসাজিতে। চলতি মৌসুমের বোরো ধান উত্পাদনকারী চাষিদের কপাল চাপড়ানো করুণ অবস্থার দিকে দৃষ্টিপাত করলে সেকথার সত্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কৃষকের ঘরে ঘরে বোরো ধান উঠেছে কিছুদিন আগে। অবশ্য সবার ঘরে যে সে ফসল উঠেছে, সেটি ঠিক নয়। যারা বড় জোতের মালিক, তাদের গোলায় ধান জমে উপচে পড়েছে। মাঝারি ও গরিব কৃষকের ঘরেও ধান উঠেছে, তবে তার পরিমাণ কম। ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের মাঝেও অনেকেই টাকার বদলে ধানে মজুরি পেয়েছে।
এদের মধ্যে সকলেই অবশ্য তাদের শ্রমলব্ধ ধান ঘরে এনে উঠাতে পারেনি। ধারদেনা, মহাজনের ঋণ, দাদনের টাকা ইত্যাদি পরিশোধ করার জন্য অনেককেই জমির ধান জমিতেই বেচে দিতে হয়েছে। যারা ঘরে ধান তুলেছে তাদের মধ্যেও অনেকেই সারা বছরের খোরাকি ধরে রাখতে পারেনি। জমে থাকা জরুরি খরচপাতি সামলানোর জন্য অনেককেই বাধ্য হয় মৌসুমের শুরুতে হঠাত্ কমে যাওয়া দামেই সেই ধান বা তার অংশবিশেষ বিক্রি করে দিতে হয়েছে। ধনী কৃষক ও বড় জোতদারদের সংসারে সে ধরনের অভাব না থাকায় তারা তাদের বিপুল উদ্বৃত্ত ধান উঠতি বাজারের কমতি দামে বিক্রি না করে তা ধরে রাখতে পেরেছে চড়া দামের সময়ের জন্য।
দেশে যত ধান উত্পন্ন হয় তার সবটাই বাজারে আসে না। পুঁজিবাদী উত্পাদন-বণ্টন-বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার ক্রমাগত প্রসার সত্ত্বেও এখনো বেশিরভাগ কৃষক ধান ফলায় নিজের পরিবারের খাদ্যের চাহিদা মেটানোর জন্য। এর অতিরিক্ত বাড়তি উত্পন্ন ফসল সে বিক্রি করে প্রধানত তেল, লবণ, জামা-কাপড়, চিকিত্সা, ঘর-বাড়ি মেরামতসহ তার যাবতীয় সাংসারিক প্রয়োজন মেটানোর অর্থ সংগ্রহের জন্য। উত্পন্ন ফসলের একটি অংশ রেখে দেয়া হয় সরাসরি ভোগের জন্য এবং অপর একটি অংশ নিয়ে আসা হয় ধান-চালের বাজারে। যারা নিতান্তই গরিব, নানাভাবে দায়গ্রস্ত অথবা জমে থাকা জরুরি কোনো ব্যয় নির্বাহের জন্য ক্যাশ টাকার প্রয়োজনে কাতর— তারা খাদ্যশস্য চাহিদা মেটানোর মতো ধান-চাল ঘরে তুলে রাখতে পারার বদলে তা থেকেই একটি কম-বেশি অংশকে দ্রুত বাজারজাত করতে বাধ্য হয়। ফসল ওঠার পরপরই যে ধান প্রথম বাজারে আসে সেটা প্রধানত তাদেরই ধান। গরিবের এই ধানে বাজার ভরে ওঠার সাথে সাথে ধানের দাম পড়ে যায়। সে দামেই গরিবকে তার ‘রক্তে বোনা ধান’ বেচে দিতে হয়।
আমাদের দেশে ৪৮ লক্ষ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়ে থাকে। হেক্টর প্রতি উত্পাদন প্রায় ৪ টন। দেশে এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। সে হিসেবে অনুমান করা যায় যে, সারা দেশে এবার প্রায় ২ কোটি টন বোরো ধান উত্পন্ন হয়েছে।
মোট উত্পন্ন ধান (বা চাল)-এর একটি অংশ কেবল বাজারে পণ্য হিসাবে হাজির হয়। এই অংশটিই কৃষকের ‘বাজারমুখী-উদ্বৃত্ত’ (marketable-surplus)। বাজারে যে ধান-চাল আসে তার প্রায় সবটাই ব্যক্তি মালিকানাধীন বাজার ব্যবস্থার অন্তর্গত হয়ে বিনিময় প্রক্রিয়ায় সামিল হয়। সরকারের নিজস্ব পরিচালনায় কোনো বণ্টন ব্যবস্থা নেই। দেশরক্ষা ও আইনরক্ষা বাহিনীর কয়েক লক্ষ সদস্যসহ স্বল্পসংখ্যক মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা প্রচলিত থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য রেশনিংসহ কোনো গণবণ্টন ব্যবস্থা চালু নেই। ধান-চাল কিনে খাওয়া মানুষদের মধ্যে বস্তুত সবাইকেই প্রাইভেট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হয়। সরকার অবশ্য ধান-চাল কিনে গুদামজাত করে থাকে। কখনো বেশি পরিমাণে, কখনো কম। প্রধানত তা করা হয়ে থাকে রাজনৈতিক সংকটের অভিঘাতকে সামাল দেয়ার জন্য। সরকারের ওই গুদামজাত ধান-চাল প্রয়োজনমতো প্রাইভেট বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত রাখার কাজে লাগানো হয়। এটাই বাজার অর্থনীতির ব্যবস্থাপত্র।
ক্ষুদে উত্পাদকরাই দেশের সিংহভাগ ধান উত্পাদন করে থাকে। কিন্তু চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে তারা তাদের বাজারমুখী উদ্বৃত্ত সরাসরি বিক্রি করার সুযোগ পায় না। এর প্রথম কারণ হলো, প্রথমে তাদের ফসলকে ধান থেকে চালে প্রক্রিয়াকরণের পর্যায় অতিক্রম করতে হয়। এই প্রক্রিয়াকরণ কাজটি বড় আকারে সম্পন্ন করার তুলনায় বিচ্ছিন্নভাবে ক্ষুদে আকারে করাটা তুলনামূলক ব্যয়বহুল। ক্ষুদে উত্পাদকরা অনেকজন মিলে যদি সমবায়ের ভিত্তিতে আধা-যান্ত্রিক রাইস মিল স্থাপন করার ব্যবস্থাগত কাঠামো ও সুযোগ পেত, তাহলে তারা ধানকে চালে পরিণত করার প্রক্রিয়ার মূল্য সংযোজনের আর্থিক ব্যবস্থার অংশীদার হতে সক্ষম হতো। সরকারি মালিকানায় আধুনিক রাইস মিল থাকলে তাতেও ক্ষুদে উত্পাদকরা তার ওপর তাদের গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে কিছু সুবিধা পেতে পারত। কিন্তু সে ধরনের অর্থনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থা না থাকায় বিশাল এই ক্ষুদে উত্পাদক শ্রেণিকে গ্রামাঞ্চলে স্থাপিত রাইস মিলের মালিকদের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।
এভাবে, দেশের বাজারজাত চালের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা খোদ কৃষকের হাত থেকে স্থানান্তরিত হয়ে তুলনামূলকভাবে মুষ্টিমেয় সংখ্যক রাইস মিল মালিকদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে যাচ্ছে। এই কেন্দ্রীভবন আরেক দফা ঘটে চলেছে বিপণন ব্যবস্থাপনার স্তরে। বেপারি, আড়তদার, মোকাম মালিকরা চালের কেনা-বেচার ব্যবসায়িক বাজারের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে। ‘বিশুদ্ধ প্রতিযোগিতাকে’ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, গড়ে তুলেছে চালের বাজারের একচেটিয়া-কারবারি গোষ্ঠী। দেশের কোটি কোটি ক্রেতা আজ তাদের ‘নিয়ন্ত্রিত বাজার’ ও সিন্ডিকেট ব্যবসার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
এবার বোরো ধান উত্পন্ন হয়েছে প্রায় ২ কোটি টন। ধারণা করা যায় যে, এর মধ্যে ৪০-৪৫%, অর্থাত্ ৮০/৯০ লক্ষ টন ধান কেনাবেচার পণ্য হিসেবে বাজারে আসবে। এর মধ্যে আনুমানিক ১৫% অর্থাত্ মোট ১১ লক্ষ টন সরকার নিজে কিনে নেবে বলে ঘোষণা করেছে। অবশিষ্ট ৮৫% অর্থাত্ ৭০/৮০ লক্ষ টন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত একচেটিয়া প্রাইভেট মার্কেটের হাতেই থেকে যাবে।
সরকার আবার ১১ লক্ষ টনের মধ্যে মাত্র ১ লক্ষ টন ধান হিসেবে কিনবে এবং ১০ লক্ষ টন চাল হিসাবে কিনবে বলে জানিয়েছে। মেহনতি ক্ষুদে-মাঝারি কৃষকরা সাধারণত চাল বিক্রি করে না। ফসল তোলার সাথে সাথে আভাঙ্গা অবস্থাতেই সে বিক্রি করে দেয় তার জমির ধান। অথচ ধান ক্রয়ের টার্গেট চাল কেনার টার্গেটের মাত্র এক দশমাংশ। তাই, প্রধানত চাতাল ও রাইস মিল মালিকদেরকেই সরকারের কাছে চাল-এর বিক্রেতা হিসেবে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ থাকছে।
সরকার ধানের ক্রয়মূল্য কেজি প্রতি ২২ টাকা এবং চালের ক্রয়মূল্য কেজি প্রতি ৩২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। অথচ বাজারে এখন ধান বেচে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০/১৫ টাকা। ধান-চালের বাজার দর অস্বাভাবিক পরিমাণে কম হওয়ার এবারের আরেকটি কারণ হলো—বিদেশ থেকে শুল্কমুক্ত চাল আমদানির অনুমতি দেয়ায় বাজার আমদানিকৃত সস্তা চালে আগেই ভরে গেছে। নতুন ধান বাজারে আসার পর দাম আরো কমে গেছে। ক্ষুদে-মাঝারি কৃষকরা দ্রুত ধান বেচে দেয়ার বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজি প্রতি ৭ থেকে ১২ টাকা কম পাচ্ছে। চাতাল মালিকরা এই কম দামে দেদারসে ধান কিনে স্টক করে রেখেছে। সেই ধান রাইস মিল মালিকরা সরকারি রেইটে অল্পদিনের মধ্যেই সরকারের কাছে বিক্রি করবে। অতএব বলা যায় যে, সরকারের ১১ লক্ষ টন ধান-চাল ক্রয় কার্যক্রমের ‘বদৌলতে’ কৃষক তার ন্যায্যভাবে প্রাপ্য ৭৭ থেকে ১৩২ কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হবে।
আগেই বলা হয়েছে যে, এবার মোট উত্পাদিত ১ কোটি ৯২ লক্ষ টনের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ লক্ষ টন ধান কেনাবেচার পণ্য হিসেবে বাজারে আসবে। বাজারের বর্তমান অবস্থায় যখন কৃষককে লোকসানী দামে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে তাদের ধান বিক্রি করতে হচ্ছে, তখন বাজারজাতকরণ থেকে কৃষকের বঞ্চনার মোট আর্থিক পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৫০ কোটি থেকে ১ হাজার কোটি টাকার মতো। এগুলো মোটা দামে লোকসানের ধারণাগত হিসেব ঠিকই, কিন্তু এথেকে কৃষকের বঞ্চনা ও গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি থেকে শুধু এক মৌসুমে একটি মাত্র ফসলের বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ার কি বিপুল পরিমাণ অর্থ থেকে কৃষক বঞ্চিত হয়, তার একটি অনুমান করা সম্ভব হয়।
অন্য আরেক দিক থেকে কৃষকের লাভ-লোকসানের হিসেব করলে চিত্র আরো ভয়াবহ বলে পরিদৃষ্ট হবে। সরকারি হিসেবেই কেজি প্রতি ধান উত্পাদনে গড় খরচ হয় ২০ টাকা। অনেকের মতে এই খরচের প্রকৃত পরিমাণ আরো বেশি। সে কথা না হয় বাদ দিলাম। সেই ধান তাকে বিক্রি করতে হচ্ছে ৭ টাকা থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত দরে। অর্থাত্ কেজি প্রতি তাকে লোকসান দিতে হচ্ছে ৮ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত। উত্পাদিত মোট বোরো ধানের পরিমাণ যদি ২ কোটি টন ধরি তাহলে সে অনুসারে (কৃষক ফসল বিক্রি করুক বা না করুক) তার মোট ক্ষতির ধারণাগত পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫শ’ কোটি টাকা থেকে ২৫শ’ কোটি টাকা।
একসময় কৃষকের ‘রক্তে বোনা ধানের’ একটি অংশ রাজা-বাদশাহ-জমিদার-জোতদাররা ‘খাজনা’ হিসেবে আত্মসাত্ করতো। সে শোষণ চোখে দেখা যেত। সেটি যে অন্যায় ছিল, শোষণের একটি অগ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া ছিল— সেকথা আজ সর্বজন স্বীকৃত। এখন সেভাবে ‘খাজনার’ আকারে কৃষকের ফসল কেড়ে নেয়া হয় না। কিন্তু এখন কেড়ে নেয়া হয় কৃষকের ‘রক্তে বোনা ধানের’ মূল্যের একটি অংশ। সেটি সরাসরি চোখে দেখা যায় না। কিন্তু সেটিও শোষণ। সেটি করা হয় পুঁজিবাদী বাজারের অদৃশ্য কলাকৌশলের মাধ্যমে। কৃষক অব্যাহতভাবে বঞ্চিত হচ্ছে এভাবে, ওভাবে, নানাভাবে। এ অবস্থা চলছে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ। এই বঞ্চনা থেকে কি রেহাই পাওয়ার কোনো উপায় নেই?
এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, কৃষকের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে হলে প্রয়োজন কৃষিব্যবস্থা ও গ্রাম-জীবনে আমূল বিপ্লব পুনর্গঠন। একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজবিপ্লব ব্যতীত কৃষকের মুক্তি আসবে না। কিন্তু তার আগেও কৃষকের কল্যাণে অনেক কিছু করা সম্ভব। কৃষক তার মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে সম্পদ সৃষ্টি করে তার ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব। বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে আলোচিত বঞ্চনা লাঘবে কয়েকটি ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
(১) খোদ মেহনতি কৃষকদেরকে নিয়ে উত্পাদক সমবায় এবং ভোক্তাদের নিয়ে ভোক্তা সমবায় গড়ে তোলা। দুই প্রান্তের এই দুই সমবায়ের মধ্যে সরাসরি কৃষি পণ্য বেচা-কেনার ব্যবস্থা করা। (২) রাষ্ট্রের উদ্যোগে রেশনিংসহ গণবণ্টন ব্যবস্থা চালু করা। (৩) সরকারের উদ্যোগে সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে কিংবা তাদের সমবায় থেকে শস্যসহ কৃষি সামগ্রী ক্রয় করা। (৪) রাইস মিলগুলোর মালিকানায় মেহনতি কৃষকের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা এবং কৃষক সমবায়ের উদ্যোগে রাইস মিল প্রতিষ্ঠায় উত্সাহ ও সহায়তা প্রদান করা। (৫) সরকারের উদ্যোগে পর্যাপ্তসংখ্যক আধুনিক রাইস মিল স্থাপন করা।
নাকের কাছের এসব জরুরি ‘মিশন’-এর দিকে দৃষ্টি না দিয়ে যতই শুধু দূরের ‘ভিশন’ নিয়ে হৈচৈ করা হোক না কেন, কৃষকের দুর্দশা তাতে মোটেও দূর হবে না।
n লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
E-mail: [email protected]
