এ সরকারের আমলে দেশে ফিরবেন না সালাহউদ্দিন

আপডেট : ২৬ মে ২০১৫, ০০:২১

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ আপাতত বাংলাদেশে ফিরছেন না। তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে জামিন নিয়ে সিঙ্গাপুর যেতে চান। আর নিদেন পক্ষে হলেও ভারতেই থাকবেন। ভারতের সংবাদ মাধ্যমকে তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ খোলাখুলিই বললেন, ‘আমার স্বামী বাংলাদেশে আর মোটেই নিরাপদ নন। আমি তাকে সেখানে ফেরত নিতে চাই না। দেশে ফিরলে তার প্রাণনাশের আশংকা আছে। তার পরিবর্তে ভারতের আইন অনুমোদন করলে আমি তাকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যেতে চাই। যেখানে তিনি বিগত বছরগুলোতে হূদরোগ ও কিডনি সমস্যার চিকিত্সা নিচ্ছেন। ৬৩ দিন ‘গুম’ থাকার সময় তার শরীর এবং মনের ওপর বড় মাত্রার ঝাপটা গেছে। তিনি সত্যিই বিধ্বস্ত। খুবই অসুস্থ এবং তার বাম কিডনি ঠিকমতো কাজ করছে না।’

 
এদিকে সালাহউদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে সমপ্রতি দেশে ফেরা তার এক সহকর্মী জানান, সালাহউদ্দিন আহমদের ভেতর ভীতি-আতংক পুরোপুরি কাটেনি। তিনি ভারত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সিঙ্গাপুর যেতে চান। অতঃপর লন্ডন কিংবা আমেরিকায় চলে যাবেন বলে মনস্থির করেছেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি আর দেশে ফিরবেন না। তার সন্তানদেরও দেশে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
 
এদিকে ভারতে অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তার হয়ে শিলংয়ের নর্থ ইস্টার্ন ইন্দিরা গান্ধী রিজওনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (নেগ্রিমস) চিকিত্সাধীন সালাহউদ্দিন আহমেদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অনেকটাই স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন সেখানকার চিকিত্সক। গতকাল স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে শিলং পুলিশ জানায়, সালাহউদ্দিন আহমেদের চিকিত্সায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সঙ্গে শিলং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে চলছেন। তাকে সারাক্ষণ নজরদারিতে রাখছেন মেঘালয় পুলিশের সশস্ত্র সদস্যরা। চিকিত্সকদের অনুমতি সাপেক্ষে পুলিশ সালাহউদ্দিনকে আদালতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করবে। কিভাবে তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে ঢুকলেন তা তদন্তের জন্য সালাহউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি বলে সেখানকার আদালতকে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী। হাসিনা আহমেদের করা জামিন আবেদন শুনানির পর শুক্রবার আদালত ২৯ মে পুলিশকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
 
এদিকে গতকাল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকা সালাহউদ্দিনকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। “বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় ‘নিখোঁজ’ নেতা: তাকে ঢাকায় ফেরত নিতে চাই না, তিনি ভারত পৌঁছেছেন কিভাবে জানি না ...”— সালাহউদ্দিনের স্ত্রীর সাক্ষাত্কার ভিত্তিক এই প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসিনা আহমেদ বলেন, আমার স্বামী খুবই অসুস্থ। তার হার্টে ইতিমধ্যেই তিনটি স্টেন্ট পরানো হয়েছে। তার বাম কিডনি ঠিকমতো কাজ করছে না। আমি বলছি না যে, তিনি (ভারতে) এখানে সুচিকিত্সা পাচ্ছেন না। কিন্তু সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল তার (রোগের) হিস্ট্রি ভালো জানে এবং গত ২০ বছর তিনি সেখানে চিকিত্সা নিয়েছেন। হাসিনা আহমেদ বলেন, আমি যদি তাকে বাংলাদেশে নিয়ে যাই তবে তার কী হবে আমি জানি না। বাংলাদেশ তার জন্য এখন নিরাপদ নয়।
 

হাসিনা আহেমদ অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা বাহিনী তার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনী তা অস্বীকার করেছে। সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ১০ মার্চের পর তার স্বামী কোথায় কি অবস্থায় ছিলেন তা তার জানা নেই।..আমি জানি না তিনি কিভাবে শিলংয়ে এলেন। তবে যাই হোক আমি খুবই খুশি যে, তিনি এখানে নিরাপদে আছেন এবং তার প্রতি বিশেষ যত্ন নেয়া হচ্ছে। হাসিনা আহমেদ আবারো বলেন যে, সালাহউদ্দিনকে যখন তুলে নেয়া হয় তখন সেখানে একটি সরকারি সংস্থার গাড়ি ছিল।