লাফ দিয়ে উঠে বুকে বুক মিশিয়ে ‘চেস্ট বাম্প’ নামের উদযাপন টেনিস-ফুটবল বা বাস্কেট বলেও বেশ জনপ্রিয়। তবে ক্রিকেটে ব্যাপারটাকে জনপ্রিয় করার কৃতিত্বটা আমাদের মাশরাফি ও তাসকিনের। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিমধ্যে সেই উদযাপন দেখেছে। টেস্ট ক্রিকেটেও কাজটা করার স্বপ্ন দেখেন তাসকিন। তার আগে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে, নিজেকে নিয়ে এবং মাশরাফির সঙ্গে এই উদযাপন নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন তরুণ এই ফাস্ট বোলার। তাসকিনের একান্ত সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
‘চেস্ট বাম্প’ উদযাপনটা তো বিখ্যাত হয়ে যাচ্ছে! বিজ্ঞাপনে দেখানো হচ্ছে, মঞ্চে পারফরম করা হচ্ছে; কেমন লাগছে এই উদযাপন দিয়েই বিখ্যাত হয়ে যাওয়া?
হা হা হা...। আসলেই সবাই দেখছি এটা খুব পছন্দ করেছে। এর মাঝে আমি আর মাশরাফি ভাই একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, সেখানেও মঞ্চে করে দেখাতে হয়েছে। আমার খুবই মজা লাগছে। এখন দেখি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে রোজ দেখানো হয়।
কিভাবে শুরু হয়েছিলো এটা? কোনো পরিকল্পনা ছিলো?
শুরু হয়েছিলো গত বছর ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে। ওই যে আমার অভিষেক ম্যাচে ৫ উইকেট পেলাম, ওই ম্যাচে। ম্যাচের আগে মাশরাফি ভাইকে বলছিলাম, ‘ভাই আপনার সঙ্গে খেলতে নামছি; উইকেট পেলে একটু আলাদা রকম কিছু সেলিব্রেশন করতে চাই।’ এটাই যে করবো, তা তো জানতাম না। পরে উইকেট তো একটার পর একটা পেতে থাকলাম। কোন একটা উইকেট পাওয়ার পর মাশরাফি ভাই ছুটে এসে লাফ দিলেন; আমিও লাফ দিলাম। হয়ে গেলো। এরপর আর দুই বার করেছি এখন পর্যন্ত। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সেদিন টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। আর ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপে।
দেখে মনে হয়, এ নিয়ে অনেক অনুশীলন করেন! দুই জনই একই উচ্চতায় লাফ দিয়ে ওঠেন, একই সময়ে বুকে বুক লাগিয়ে ধাক্কাটা দেন। আসলেই কী অনুশীলন করেন?
হা হা হা....। আমরা খেলার বাইরে বিশ্বাস করেন, এটা কখনো করিনি। আসলে যখন উইকেট পাই, তখন সবকিছু মনে হয় অটোমেটিক হয়ে যায়। এ সময় আর অনুশীলন লাগে না। সারা পৃথিবীতে যারা অন্যান্য খেলায় এই সেলিব্রেশন করে, তারা কেউ মনে হয় ভেবে করে না। এটা হয়ে যায়।
অনেকবার বলেছেন, আপনি মাশরাফির ভয়াবহ ভক্ত ছিলেন এবং আছেন। তো এখন সেই মাশরাফির সঙ্গে একসঙ্গে খেলছেন, বিখ্যাত উদযাপন করছেন, আপনাদের এক করে ‘ম্যাশকিন’ বলা হচ্ছে। এসব কেমন লাগে?
যখন একা একা ভাবি, বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে একদিন খেলবো, এটাই তো স্বপ্নের একটা ব্যাপার ছিলো। আমি পেশাদার ক্রিকেট শুরু করার অনেক আগে থেকে ওনার দারুণ ভক্ত। তার সঙ্গে আজ খেলতে পারছি, লোকে পাশাপাশি নাম বলছে; এট অনেক বড় ব্যাপার। আমি যদিও ওনার তুলনায় কিছুই না। তবে চেষ্টা করবো, ওনার নাম রাখতে।
সেই যে মাশরাফির চেয়ারে বসে পড়ার গল্প বলছিলেন...
হ্যাঁ। প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলতে এসে না জেনে মাশরাফি ভাইয়ের চেয়ারে বসে পড়েছিলাম। জানার পরই প্রতিজ্ঞা করেছি, সারা জীবন ওনার নাম রাখার চেষ্টা করবো। আমি জানি না, আমি সুস্থ থাকবো কি না। তবে মাশরাফি ভাই অবসর নেয়ার পর একটা ম্যাচও খেললে চেষ্টা করবো ওনার অভাব টের পেতে না দেয়ার।
এবার একটু সামনের সিরিজ নিয়ে কথা বলি। আবার ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ আসছে। সেই ৫ উইকেটের কথা মনে পড়ছে?
আসলে পুরোনো কথা মনে করে লাভ নেই। শুরু করতে হবে শূন্য থেকে। আর ওই ম্যাচে দল জেতেনি। ফলে ওরকম ৫ উইকেটের চেয়ে ম্যাচ জেতানো একটা স্পেল জরুরি। আমার স্বপ্ন হলো- জাতীয় দলকে যত পারি ম্যাচ জেতানোর জন্য বোলিং করবো। সেরকম একটা স্পেল করতে পারলেই আমি খুশি; উইকেট যা-ই হোক।
ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের নিয়ে অনেক কথা হয়। তাদের বিপক্ষে বল করাটা কতোটা কঠিন হবে?
বেশ কঠিনই হওয়ার কথা। বাইরে যেমন তেমন, উপ-মহাদেশে ওরা সেরা ব্যাটিং সাইড। এখানকার ফ্লাট উইকেটে ওদের চেয়ে ভালো ব্যাটসম্যান খুব কম আছে। উইকেটে এমনিতেই খুব একটা সহায়তা থাকে না। তারওপর ওরা অনেক ভালো ব্যাট করবে। কঠিন হবে। তবে আমরা এই কঠিন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। আমরা খুব ভালো প্রস্তুতি নিচ্ছি।
ভারত, নাকি আপনারা? ওয়ানডেতে কারা এগিয়ে?
নামে ওরা এগিয়ে। ওদের দলে অনেক বড় বড় তারকা আছে। তবে আমাদের এখন ফর্মটা কিন্তু দারুণ। দলে কয়েক জন সিনিয়র আছেন, যারা দারুণ পারফরম করছেন। ম্যাচ বের করে আনার মতো বেশ কয়েক জন খেলোয়াড় আছে। ফলে এগিয়ে কারা, এটা আগে না ভাবাই ভালো। আমরা ভালো লড়াই করতে প্রস্তুত।
আপনারা কী আত্মবিশ্বাসী?
অবশ্যই। দেখেন, আমি একটা কথা বিশ্বাস করি, ভালো খেললে, সেটা যার বিপক্ষেই খেলেন, ফল আসবে। আমাদের দলে মাশরাফি ভাই, মুশফিক ভাই, তামিম ভাইয়ের মতো খেলোয়াড় আছেন। সাকিব ভাইয়ের মতো তারকা আছেন। উনি আইপিএল খেলেন নিয়মিত। ওনার অভিজ্ঞতা অনেক কাজে লাগবে। সবমিলিয়ে আমার মনে হয়, আমরা খুবই ভালো অবস্থায় আছি।
আপনার টেস্ট খেলা নিয়ে একটু বলেন। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি হচ্ছে। টেস্ট নিয়ে পরিকল্পনা কী?
টেস্ট তো খেলতেই হবে। টেস্ট ক্রিকেট হচ্ছে, ক্রিকেটের সেরা ফরম্যাট। টেস্ট না খেলা পর্যন্ত তো বড় ক্রিকেটার কেউ হতে পারে না। আমার খুবই ইচ্ছা, দ্রুত টেস্ট মাঠে নামার। দেশের হয়ে সাদা জার্সি গায়ে খেলাটাই এখন বড় লক্ষ্য। তবে ফিজিও ও চিত্সিক ছাড়পত্র না দেয়া পর্যন্ত তো নির্বাচকরা বিবেচনা করবেন না। আমি সে জন্য নিজেকে আরো ফিট করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
সেটা কী এ বছর হতে পারে?
আমি চেষ্টা করছি। এখন খুব কাছাকাছি চলে এসেছি বলে মনে হয়। আশা করি, দ্রুতই টেস্ট মাঠে দেখতে পাবেন।
