প্রত্যাশিত শিরোপা জিতলো দক্ষিণাঞ্চল

আপডেট : ২৮ মে ২০১৫, ০৩:১২

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগেরও শেষ রাউন্ড শুরু করেছিলো খুলনা। অবিশ্বাস্যভাবে তাদের এক পয়েন্টে পেছনে ফেলে সে শিরোপা জিতে নিয়েছিলো রংপুর। নামে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) খুলনা নেই; দক্ষিণাঞ্চল আছে। আর এই টুর্নামেন্টে তারা অন্তত জাতীয় লিগের মতো হতাশায় ডোবেনি। সম্ভাবনাটাকে বাস্তবে পরিণত করে এবারের বিসিএল শিরোপা জিতে নিলো আব্দুর রাজ্জাকের দল।

 
চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল শেষদিনে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ড্র করার ভেতর দিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল। ড্র করার পয়েন্ট, প্রথম ইনিংসের লিড ও বোনাসসহ ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শেষ করেছে দক্ষিণাঞ্চল। বিপরীতে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে এই শেষ রাউন্ড শুরু করা পূর্বাঞ্চলের মোট সংগ্রহ ৩৯ পয়েন্ট। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ফলাফল না হলেও এদিকে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল ৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বিসিবি উত্তরাঞ্চলকে। ফলে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শেষ করলো মধ্যাঞ্চল। আর উত্তরাঞ্চলের সাফল্যে সংগ্রহ হলো ১৮ পয়েন্ট।
 
চট্টগ্রামে শেষ রাউন্ডের খেলা শুরুর আগে দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের পয়েন্ট ছিলো যথাক্রমে ৩৫ ও ৩২। হিসাবটা ছিলো বোনাস পয়েন্টে যারা এগিয়ে যাবে তারা চ্যাম্পিয়ন হবে; জয়-পরাজয় হলে তো কথাই নেই। কিন্তু খেলার তৃতীয় দিনের মধ্যেই ৮টি বোনাস পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা পকেটে পুরে ফেলে দক্ষিণাঞ্চল।
 
প্রথম ইনিংসে দক্ষিণাঞ্চল অলআউট হওয়ার আগে ৩৮৫ রান তোলায় ব্যাটিং বোনাস পেয়েছিলো ৪ পয়েন্ট এবং পূর্বাঞ্চলকে ২৪৭ রানে অলআউট করে পূর্ণ বোলিং বোনাস ৩ পয়েন্ট পায়। সঙ্গে প্রথম ইনিংসের লিডের জন্য ১ পয়েন্ট। সবমিলিয়ে ম্যাচের চূড়ান্ত পয়েন্ট ছাড়াই দক্ষিণাঞ্চলের সংগ্রহ ছিলো ৪৩ পয়েন্ট। বিপরীতে বোলিংয়ের ৩ ও ব্যাটিংয়ের মাত্র ১ বোনাস পয়েন্টসহ পূর্বাঞ্চলের ঝুলিতে ছিলো মাত্র ৩৬ পয়েন্ট। এর সঙ্গে দু’দল ড্র থেকে পেয়েছে ৩টি করে পয়েন্ট। দক্ষিণাঞ্চলের অধিনায়ক রাজ্জাক আগেই বলেছিলেন, তারা ইনিংস ঘোষণা করে কোনো ঝুঁকির মধ্যে যেতে চান না। সেটা তারা করেননিও। গতকাল ৩৬৯ রানে এগিয়ে থাকা রাজ্জাকের দল অলআউট হওয়ার আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৫২ রান তুলেছিলো; ম্যাচ ততোক্ষণে ড্র নিশ্চিতেরও বেশি কিছু হয়ে গেছে। এই বিশাল পুঁজি এলো দক্ষিণাঞ্চলের লেট মিডল অর্ডারে সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেনের দুটো সেঞ্চুরিতে।
 
১৬৫ বলে ১২৭ রানের ইনিংস খেলা সৌম্য ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক তারকা হয়ে গেলেও প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সেঞ্চুরি পেলেন এই প্রথম। এদিকে তরুণ মোসাদ্দেক আউট হওয়ার আগে ১১৯ রানের ইনিংস খেলে গেছেন। এই দু’জনের সুবাদে দক্ষিণাঞ্চল অলআউট হওয়ার আগে ৫৯০ রানের লিড নিয়ে নেয়! অবিশ্বাস্য এই লিডের সামনে যে সামান্য সময় ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছে পূর্বাঞ্চল, তাতে ৩ উইকেটে তুলেছিলো তারা ১৬৬ রান। তিনটি উইকেটই নিয়েছেন আল আমিন হোসেন।
 
এদিকে ঢাকায় নিজেকে ‘বোলার’ হিসেবে চেনাচ্ছেন শুভাগত হোম। খুলনা টেস্টে হঠাত্ করেই তাকে বোলার পরিচয়ে খেলানো হলো। এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার নিজেও সে সময় উত্তর দিতে পারেননি, তিনি আসলে বোলার, নাকি ব্যাটসম্যান। উত্তরটা কিছুটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে হয়। উত্তরাঞ্চলকে হারানো এই ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে নাটকীয় জয় এনে দিয়েছেন মধ্যাঞ্চলকে। মাত্র ২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামা মধ্যাঞ্চল আগের দিনই অলআউট হয়ে গিয়েছিলো ২০০ রানে। ফলে উত্তরাঞ্চলের জন্য জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০৩ ; খুব অসম্ভব অন্তত ছিলো না। কিন্তু শুভাগত, শহীদ ও মোশাররফ রুবেলের বোলিংয়ে মাত্র ১২২ রানে অলআউট হয়ে যায় নাসির-সাব্বিরদের দল। শুভাগত প্রথম ইনিংসে ৫টির পর এই ইনিংসে নেন ৪ উইকেট। শহীদ ও রুবেল নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট।
 
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ
 
রোল অব অনার
 
মৌসুম                চ্যাম্পিয়ন       রানার্স আপ
 
২০১২-১৩           মধ্যাঞ্চল        উত্তরাঞ্চল
 
২০১৩-১৪           দক্ষিণাঞ্চল      উত্তরাঞ্চল
 
২০১৪-১৫           দক্ষিণাঞ্চল      পূর্বাঞ্চল
 
সংক্ষিপ্ত স্কোর
 
উত্তরাঞ্চল-মধ্যাঞ্চল
 
মধ্যাঞ্চল: ৯২ ওভারে ২৮৯/১০ এবং ৮৩.১ ওভারে ২০০/১০
 
উত্তরাঞ্চল: ৭১.৫ ওভারে ২৮৭/১০ এবং ৪০.৪ ওভারে ১২২/১০ (মাহমুদুল ৩৪, সাব্বির ৩২; শুভাগত ৪/৩৫, মোশাররফ ৩/২৭, শহীদ ৩/৩২)।
 
দক্ষিণাঞ্চল-পূর্বাঞ্চল
 
দক্ষিণাঞ্চল: ১০৯ ওভারে ৩৮৫/১০ এবং ১০৭.২ ওভারে ৪৫২/১০ (সৌম্য ১২৭, মোসাদ্দেক ১১৯, এনামুল ৭০; আবুল ৩/২৬, আবু জায়েদ ২/৭৭, অপু ২/৮৭)।
 

পূর্বাঞ্চল: ৮৩.৩ ওভারে ২৪৭/১০ এবং ৩৪ ওভারে ১৬৬/৩ (লিটন ৭৪, অলক ৫৫*; আল আমিন ৩/৪৩)।