*আয়কর এ বছরও বাড়ছে *সরকারি কর্মচারীদের সব ধরনের বেতন ভাতায় কর *গার্মেন্টস রপ্তানির কর বাড়ছে ৫ গুণ *অগ্রিম আয়কর বসছে চাল ডাল চিনি গম আমদানিতে
বাড়তি রাজস্বের চাপ সামলাতে বাজেটে বেশকিছু পণ্য, সেবা এবং ব্যক্তি খাতের করের হার ও আওতা বাড়তে যাচ্ছে। গার্মেন্টস রপ্তানির উেস কর এক লাফেই বাড়তে যাচ্ছে ৫ গুণ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের সঙ্গে এবার অন্যান্য ভাতাও আসছে আয়করের আওতায়। স্কুল কলেজের ব্যাংক আমানতে প্রাপ্ত সুদ, সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে আড়াই কোটি টাকার বেশি পরিমাণ গ্র্যাচুইটি আয়করের আওতায় আসছে। কর্পোরেট কর কমিয়ে আনার ইঙ্গিত থাকলেও সিগারেট কোম্পানির কর্পোরেট কর হার বাড়তে যাচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। ঠিকাদারের বিল, চিকিত্সকদের ফি, রয়্যালটি ফি, সিগারেটের ব্যান্ডরোলসহ কয়েকটি খাতে উেস করের হার বাড়ছে। চাল, ডাল, চিনি, গমসহ বেশকিছু ভোগ্য ও সেবা পণ্যের আমদানি পর্যায়ে এক থেকে পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর বসতে যাচ্ছে। অন্যদিকে মত্স্য খাত, হর্টিকালচার, পোল্ট্রি, ডেইরিসহ কিছু খাতের করের স্তরে পরিবর্তন আসছে।
করের আওতা ও কর হার বাড়ানোর ঘোষণার মধ্য দিয়েই আগামী ৪ জুন অর্থমন্ত্রী সংসদে বাজেট প্রস্তাব পেশ করতে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে আসছে অর্থবছরে প্রায় ৩৪ শতাংশ বাড়তি কর আদায় করতে চান অর্থমন্ত্রী। অবশ্য একই সময়ে ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমায় কিছু ছাড় দেয়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত রয়েছে এমন কোম্পানির কর্পোরেট করহারেও ছাড় পেতে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে নতুন কিছু খাতও কর অবকাশ সুবিধার আওতায় আসতে যাচ্ছে। নতুন গাড়ির শিল্প স্থাপনে কর অবকাশ পেতে যাচ্ছে। সরকার ঘোষিত নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সেখানে বিনিয়োগও কর অবকাশ সুবিধার আওতায় আসতে পারে।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫৭ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা থাকলেও গত মাসে তা কমিয়ে ৪৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। আর আসছে বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা ৬৫ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা করা হচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এর বাইরে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) হতে ৬৩ হাজার ৯০২ কোটি ও আমদানি পর্যায়ে শুল্ক খাত থেকে ৪৬ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকাসহ এনবিআর ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যমাত্রা চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের কমিয়ে আনা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
বাড়ছে উেস করের
হার ও আওতা
বর্তমানে ৫৪টি খাত থেকে উেস কর আদায় হয়। এর মাধ্যমেই মোট আয়করের ৬০ শতাংশ আদায় হয়ে থাকে। আসছে অর্থবছরে এর সঙ্গে বেশকিছু খাত যুক্ত হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে ঠিকাদারের বিল, চিকিত্সকদের ফি, রয়্যালটি ফি, সিগারেটের ব্যান্ডরোল, ইট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি খাতে উেস করের হার বাড়ছে। বর্তমানে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ থেকে সর্বনিম্ন দশমিক ৩ শতাংশ হারে খাতভিত্তিক উেস কর আদায় করা হয়। অন্যদিকে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের আদায়কৃত কর যথাসময়ে এনবিআরে জমা দিতে বাজেটে নির্দেশনা থাকবে। সেই সঙ্গে অনলাইনে উেস কর কর্তন ব্যবস্থাও (ই-টিডিএস) চালুর বিষয়ে বক্তব্য থাকতে পারে।
গার্মেন্টস রপ্তানির কর
বাড়ছে ৫ গুণ
রপ্তানির প্রধান খাত গার্মেন্টস রপ্তানির উেস কর এক লাফেই ৫ গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব থাকবে বাজেটে। গার্মেন্টসসহ সব ধরনের পণ্য রপ্তানিতে উেস কর ১ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব আসতে যাচ্ছে। বর্তমানে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে এ করের হার দশমিক ৩০ শতাংশ। আর অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে তা দশমিক ৬০ শতাংশ। যদিও বাজেট প্রস্তাবে বিদ্যমান কর হার আগামী ৫ বছরের জন্য স্থির রাখার দাবি জানিয়েছিল গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
অবশ্য গত বাজেটের দুই মাস আগে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিতে কর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমানো হয়। মূলত গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন ইস্যুতে মালিকপক্ষকে আর্থিক চাপ থেকে কিছুটা রেহাই দিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এর আগে সব রপ্তানি খাত পণ্য রপ্তানিতে দশমিক ৮০ শতাংশ কর দিত। কিন্তু রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান এনবিআর হিসাব করে দেখেছে, এতে সরকারকে চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ছাড় দিতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে আদায় কমেছে প্রায ৬শ’ কোটি টাকা। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা আদায় হলেও চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আদায় নেমে এসেছে ১ হাজার ২শ’ কোটি টাকায়।
রপ্তানির কর বাড়ানোর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সম্প্র্রতি বিভিন্ন আলোচনায় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রপ্তানি খাতকে সরকার অনেক কিছু দিয়েছে। এবার সরকারকে তাদের দেয়ার পালা।
অবশ্য গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম পোশাক খাতের নানামুখী সমস্যা তুলে ধরে এ খাতের জন্য বিদ্যমান করহার বহাল রাখার দাবি জানান। তিনি বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রতিটি কারখানাকে বাড়তি ৫ কোটি টাকা করে খরচ করতে হবে। এর পরও করের খড়্গ নেমে এলে হয়তো অনেক উদ্যোক্তার পক্ষেই ব্যবসায়ে টিকে থাকা সম্ভব হবে না।
