নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে দায়িত্ব পালন করুন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আপডেট : ২৯ মে ২০১৫, ০০:০০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, পারস্পরিক বিশ্বাস, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সর্বোপরি শৃঙ্খলা বজায় রেখে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসে সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে জেনারেলস কনফারেন্সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে এ আহ্বান জানান।

 
সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর জেনারেলদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
 
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান ইকবাল করিম ভুঁইয়া, সেনাবাহিনীর চীফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেনেন্ট জেনারেল মইনুল হোসেইন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার আবু বেলাল মুহাম্মাদ সাইফুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রতিরক্ষা সচিব কাজী হাবিবুল আওয়াল ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
 
শেখ হাসিনা বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ও উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। সেনাবাহিনীকে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আত্মপ্রত্যয়ী এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় গত দুই মেয়াদে তাঁর সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে। ভবিষ্যতেও এ উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।
 
তিনি বলেন, সরকারের এই দৃঢ় ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলে সেনাবাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা দেশ ও বহির্বিশ্বে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে তাঁর সরকারের সেনাবাহিনীর সমপ্রসারণ ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিগত মেয়াদে অনেকগুলো ইউনিট গঠন, প্রশিক্ষণের মান যুগোপযোগী করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং পদাতিক কোরের উন্নয়ন ও এর কাজের গতিশীলতায় নতুন করে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়।
 
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে বিশ্বাসী এবং সেই অভীষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা সেনাবাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর ফোর্সেস গোল ২০৩০’র বাস্তবায়ন অনেক দূর এগিয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সাংগঠনিক কাঠামোতে আধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যোগাযোগ সরঞ্জামাদি অন্তর্ভুক্ত করেছি, যা সামগ্রিকভাবে আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনীর সমরশক্তি ও চলাচল ক্ষমতাকে অনেকগুণে বৃদ্ধি করেছে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। জালালাবাদ সেনানিবাসে ১৭ পদাতিক ডিভিশন গঠন করা হয়েছে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে আগামী ৫ বছরে নবগঠিত ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অর্গানোগ্রামে আরো ৩০টি নতুন ইউনিট প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত পদ্মা সেতুর আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং নিরাপত্তার জন্য নবগঠিত ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড পূর্ণ উদ্যমে দায়িত্ব পালন করছে।
 
শেখ হাসিনা সরকারের তৃতীয় মেয়াদে সেনাবাহিনীর উন্নয়নে গৃহিত কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, ইতোমধ্যে রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশন এবং এর অধীন ১টি আর্টিলারি ব্রিগেড, ১টি পদাতিক ব্রিগেড, ১টি আর্টিলারি ইউনিট এবং ২টি পদাতিক ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেনাবাহিনীতে আরো কার্যক্ষম ও যুগোপযোগী প্রচুর অত্যাধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম সংযোজিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মেইন ব্যাটেল ট্যাংক, সেল্ফ প্রোপেল্ড গান সিস্টেম, উইপন লোকেটিং র্যাডার, এন্টি ট্যাংক গাইডেড উইপন, আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার ইত্যাদি। এই অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি সংযোজনের ফলে সেনাবাহিনীর কার্যক্ষমতা, যুদ্ধের সামর্থ্য এবং সেনাসদস্যদের মনোবল বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
এছাড়া রাশিয়ান ফেডারেশনের ১ বিলিয়ন ডলার সামরিক ঋণ প্রোটোকলের মাধ্যমে ৬টি এম আই-১৭১ হেলিকপ্টার, ৩৩০টি এপিসি এবং ১০টি আর্মার্ড রিকভারী ভেহিকেল ক্রয়ের চুক্তি হয়েছে। এর প্রথম চালান ২০১৬’র শেষ নাগাদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বহরে যুক্ত হবে। এর সঙ্গে ১৭৪টি টি-৫৯ ট্যাংকের উন্নীতকরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, ফায়ার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এক ব্যাটারী এমএলআরএস ক্রয় করা হয়েছে এবং আরো দুটি এমএলআরএস ব্যাটারী ২০১৫ সালের মধ্যে সেনাবাহিনীতে সংযোজনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর ১টি পূর্ণাঙ্গ এমএলআরএস রেজিমেন্ট সাভার সেনানিবাসে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।
 
এছাড়াও ২০১৬ সালের মধ্যে দুইটি এফএম-৯০, সারফেস টু এয়ার মিশাইল রেজিমেন্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সংযোজিত হবে। এর ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিজস্ব সমরশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আরো পেশাগত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে।
 

জাতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনা সদস্যরা তাদের উন্নত পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ, ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর রানওয়ের উন্নয়ন কাজ এবং রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের সৌন্দর্য বর্ধনসহ উন্নয়ন কাজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে শেষ করেছে। এসব উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে সেনাবাহিনী জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।