নাইকো মামলা বাতিলে খালেদা জিয়ার আবেদনের রায় যে কোন দিন

আপডেট : ২৯ মে ২০১৫, ১০:১২


নাইকো দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট দিন ধার্য না করে রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমান রেখেছে আদালত। এখন আদালত যে কোন দিন রায় ঘোষণা করতে পারে। আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করে বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি জাফর আহমেদের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর নগরীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়। পরে মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করে। এই রুলের ওপর খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী ও দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশিদ আলম খান শুনানি করেন।

পেট্রোল বোমা হামলা: খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আদেশ ২৮ জুন

এদিকে কোর্ট রিপোর্টার জানান, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় গাড়িতে পেট্রোল বোমা মেরে যাত্রীহত্যার মামলায় হুকুমের আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আগামী ২৮ জুন আদেশ দেবে আদালত। অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে গতকাল আদেশের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু ঢাকা মহানগর হাকিম সামসুল আরেফীন অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে ২৮ জুন দিন ধার্য করে দেন। মামলায় খালেদা জিয়াসহ ৩১ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে। অভিযুক্ত ৩৮ জনের মধ্যে সাতজন কারাগারে রয়েছেন। বিএনপিকর্মী বাবুল সরদার বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণ করেছেন।

২০১৫ সালের ৬ মে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) বশির উদ্দিন ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এ অভিযোগপত্র জমা দেন। একই অভিযোগে বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা আরেকটি মামলায় সম্প্রতি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এ মামলায়ও খালেদা জিয়াসহ ৩১ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামে এক যাত্রী। ওই ঘটনায় ২৪ জানুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কে এম নুরুজ্জামান।