‘কল্যাণের জন্য আমি যে কোন আত্মত্যাগে প্রস্তুত’

আপডেট : ২৯ মে ২০১৫, ২২:১৩
 
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই, হারাবারও কিছু নেই। এদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য আমি যে কোন আত্মত্যাগ করতে সদা প্রস্তুত। এ সময় তিনি কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী, ভয় নাই, ওরে ভয় নাই--নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই’ আবৃত্তি করেন।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে শাসন করতে আসেনি, এসেছি জনগণের সেবক হয়ে সেবা করতে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। দেশকে আরো অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে হবে আরো উন্নতির উচ্চ শিখরে। আর এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, শত বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। 
 
শুক্রবার বিকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়। ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নসহ জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্য অর্জনে নেতৃত্ব দেয়ায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ সম্মাননা আমার প্রাপ্য নয়, এটা বাংলার মানুষ ও বাংলাদেশের জনগণের প্রাপ্য। আর তাই আমি এ সম্মাননা বাংলার জনগণকে উত্সর্গ করছি।  দীর্ঘ ৪০ বছর পর ভারতের পার্লামেন্টে সর্বসম্মতভাবে স্থল সীমান্ত চুক্তির সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হওয়াকে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সাফল্য।
 
 প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ আর্থ-সামাজিকসহ সব দিক থেকে এগিয়ে চলেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেকে বিদ্রুপ করে বলেছিল, ‘স্বাধীন হলেও বাংলাদেশ হবে তলাবিহীন ঝুড়ি।’ কিন্তু আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। সেই ঝুড়ি এখন উন্নয়নে ভরপুর। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নে ভরপুর একটি রাষ্ট্র। আর এটা এখন বিশ্বের সব দেশই স্বীকার করে বলছে, বাঙ্গালি জাতি পারে। বাংলাদেশকে কেউ আর এখন অবজ্ঞার চোখে কিংবা অপছন্দ করে না; বরং আমাদের উন্নয়ন বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে দেখা দিয়েছে।
 
বিকাল সাড়ে ৩টায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর আড়াইটার মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মিত বিশাল প্যান্ডেল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন।
 
এ সময় নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত সব শ্রেণী-পেশার মানুষ দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। মঞ্চে  উঠে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উত্ফুল্ল জনতাকে শুভেচ্ছা জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সভাপতি কবি সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক। প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত ও কোরআর তেলাওয়াতসহ ধর্ম গ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। সূচনা বক্তব্য দেন সৈয়দ শামসুল হক। তিনি শেখ হাসিনার হাতে নৌকার প্রতিকৃতির স্মারক তুলে দেন।
 
এরপর সংবর্ধনা উত্সবের মর্মসঙ্গীত এবং নৃত্য পরিবেশিত হয়। নৃত্যাঞ্চলের সদস্যরা দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন। এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে অভিজ্ঞানপত্র পাঠ করেন। ড. আনিসুজ্জামান অভিজ্ঞানপত্র পাঠের পর কাঠের ওপর শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি সম্বলিত একটি স্মারক প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
 
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্ণর ড. আতিউর রহমান, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শিক্ষাবিদ ড. অনুপম সেন, অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান।
 
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার দৃঢ় অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের পর আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, এই বাংলার মানুষের জন্যই তো আমার বাবা আত্মত্যাগ করেছিলেন, কাজেই বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনা, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে, আমার পিতার সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য যা কিছু করা দরকার যত আত্মত্যাগ করা দরকার আমি সব করবো। সেই সঙ্গে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম সেই ঘাতক, যারা শুধু আমার পিতাকে কেড়ে নেয়নি, কেড়ে নিয়েছিলো বাংলার মানুষের আশা আকাঙ্খাকে সেই খুনিদের বিচার বাংলার মাটিতে করবোই। আমরা তাদের বিচার করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে, রায়ও কার্যকর হচ্ছে। সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।