মোদীর ঢাকা সফরে হচ্ছে না তিস্তা চুক্তি!

আপডেট : ২৯ মে ২০১৫, ১৯:১৮
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন ঢাকা সফরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার সঙ্গী হচ্ছেন। মোদীর হস্তক্ষেপে নতুন করে কোনও অঘটন না ঘটলে ৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা আসছেন মমতা। তবে এ সফরে তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না বলে আনন্দবাজার প্রকাশ করেছে।
 
আনন্দবাজার প্রকাশ করেছে, মোদী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক রাজ্য। এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঢাকা যাওয়ার ব্যাপারে আমি প্রথম দিন থেকেই অনুরোধ করেছি। মমতা যেতে সম্মত হয়েছেন, এই সংবাদে আমি খুশি।
 
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ সাম্প্রতিক কলকাতা সফরে বলেন, খুব শিগগির তিস্তা চুক্তি হবে বলে তিনি আশাবাদী। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন এই কথা বলছেন, তার মানে প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় তিস্তা চুক্তি সই করে ফেলতে পারেন। সুতরাং তার ঢাকা না যাওয়াই শ্রেয়।
 
আজ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মমতাকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে যে, তিনি ঢাকায় গিয়ে তিস্তা নিয়ে কোনও কথা বলবেন না। ওই চুক্তি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যখন একমত নন, তখন শুধু বাংলাদেশের কথায় তিনি চুক্তি করবেন, এটা হতেই পারে না। রাজনাথও এ দিন বলেন, এই সফরেই তিস্তা চুক্তি হয়ে যাবে এমন কথা তিনি বলতে চাননি। তিনি বলতে চেয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে এই চুক্তি হবে বলে তিনি আশাবাদী।
 
মমতা বলেন, আমি তিস্তা চুক্তির বিরুদ্ধে নই। কিন্তু উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত করে তো চুক্তি করা উচিত নয়। 
 
তিনি জানান, তিস্তার জলপ্রবাহ খতিয়ে দেখতে কল্যাণ রুদ্রের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য। 
 
তিনি বলেন, অতীতে যে চুক্তিটি তৈরি করা হয়েছিল, তাতে বেশ কিছু ত্রুটি আছে। সেগুলি মুখ্যসচিব কেন্দ্রীয় সরকারকে জানিয়েছেন। আমি নিজে বাংলাদেশে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমার বক্তব্য জানিয়ে এসেছি। ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে কোনও রকম নেতিবাচক সম্পর্ক নেই। কিন্তু আলাপ-আলোচনা না-করে একতরফা কিছু করলে আমরা সেটা কিছুতেই মানতে পারব না। কারণ, আমার কাছে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ সবার আগে।
 
আনন্দবাজার আরও জানিয়েছে, আজ মোদীর পক্ষ থেকে চলতি সফরে তিস্তা চুক্তি না-করার আশ্বাস মেলার পরেই বাংলাদেশ যেতে রাজি হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ও বলছে, মোদীর পক্ষ থেকে আজ মমতাকে জানানো হয়েছে, সিবিআই তাদের মতো তদন্ত করবে। এটার সঙ্গে বাংলাদেশ সফরকে যুক্ত করা অন্যায়।