জিয়া হত্যাকাণ্ডে এরশাদ সরাসরি জড়িত: অলি

আপডেট : ২৯ মে ২০১৫, ২১:৫১
 
 
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন,
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এইচ এম এরশাদ সরাসরি জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে অনেক তথ্য প্রমাণাদি পেয়েছিলাম।
 
মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর, লে. কর্নেল মাহাবুব ও লে. কর্নেল মতিউর রহমানকে এরশাদের নির্দেশে খুবই ঠান্ডামাথায় গুলি করে হত্যা করা হয় দাবি করে অলি বলেন, েএর কারণ তারা বেঁচে থাকলে মূল ষড়যন্ত্রকারীর নাম প্রকাশ পেত।
 
অলি বলেন, জিয়ার হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে আরও ১১ মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়। এদের মধ্যে অনেকেই জিয়ার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আদৌ জড়িত ছিলেন না।
 
এরশাদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য যারা পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন তাদেরকে চিরতরে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেন। তখন অনেকেই চেষ্টা করেছেন ১১ জনকে ফাঁসি না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড যেন দেওয়া হয়। এই ১১ জন অফিসার বেঁচে থাকলেও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীর নাম প্রকাশ পেত।
 
কর্নেল অলি বলেন, এ সব কিছু বিশ্লেষণ করলে বুঝতে কারো কষ্ট হবে না যে, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অত্যন্ত সুকৌশলে, সুপরিকল্পিতভাবে তার পথের কাঁটাগুলো সরিয়ে দিয়েছিলেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সেনানিবাসে চাকরিরত ভিন্ন পদে অফিসারদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। অতঃপর তিনি তার অনুগতদের নিয়ে সামরিক বাহিনী ওপর তার একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
 
 ‘জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপি দুইবার পূর্ণমেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পরও কেন এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি?’ এমন প্রশ্নের জবাবে অলি আহমদ অলি শুক্রবার সাংবাদিকদের  বলেন, বিএনপিকে আমার পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় তাগাদা দিয়েছি। কেন এরশাদের বিচার হয়নি এর জবাব আমার কাছে নেই। প্রকৃতপক্ষে কোনো সরকারই তার বিচার করার ব্যাপারে কতটুকু আন্তরিক ছিল তা প্রশ্নবিদ্ধ।
 
অলি আহমদ বলেন, এরশাদ দুই দিন আগে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে অতর্কিত সফরে যান এবং লে. কর্নেল মতিউর রহমানের সঙ্গে একান্তে গোপন বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠক হয়েছিল চট্টগ্রাম সেনানিবাসে। মূলত জিয়াকে হত্যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লে. কর্নেল মতিউর রহমান। যা সামরিক বাহিনীর নিয়ম বহির্ভূত। তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের খুব ঘনিষ্ঠপাত্র ছিলেন।