ব্ল্যাটারই ফিফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত

আপডেট : ৩০ মে ২০১৫, ০১:৫৯

আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বার্ষিক অধিবেশনে সংস্থার বর্তমান প্রেসিডেন্ট সেপ ব্ল্যাটার শুক্রবার পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি প্রথম দফার ভোটে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জর্ডানের প্রিন্স আলী বিন আল-হুসেইনকে ১৩৩-৭৩ ভোটে পরাজিত করলেও দুই-তৃতীয়াংশ ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোটের আগেই প্রিন্স আলী তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। খবর বিবিসির।

 
ফিফার ভেতরে উচ্চ পর্যায়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তোলপাড়ের মাঝে সুইজারল্যান্ডে ফিফার নতুন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য ভোটাভুটি হয়েছে সদস্য দেশগুলোর গোপন ব্যালটের মাধ্যমে। এই বৈঠকের প্রাক্কালে ফিফার সাতজন শীর্ষস্থানীয় সদস্যকে দুর্নীতির অভিযোগে সুইজারল্যান্ডে জুরিখের এক হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। ব্ল্যাটারের ঘনিষ্ঠ এসব কর্মকর্তাকে মানিলন্ডারিং এবং প্রতারণার অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া এখন চলছে। পদত্যাগের জন্য ক্রমবর্ধমান চাপ সত্ত্বেও ফিফার বর্তমান প্রেসিডেন্ট সেপ ব্ল্যাটার আবার নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটাভুটির আগে ব্ল্যাটার সদস্য দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। তিনি বলেন, ফিফার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উত্থাপনের সময়টা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
 
এর আগে পুনরায় ফিফা প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনার মধ্যেই সেপ ব্ল্যাটারকে সরে যেতে বলেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।
 
ক্যামেরন গতকাল শুক্রবার বার্লিনে বলেন, ব্ল্যাটার যত তাড়াতাড়ি বিদায় নেবেন ততই মঙ্গল। অপরদিকে জার্মান চ্যাঞ্চেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেন, ফুটবলের নোংরা দিকগুলোকে অবশ্যই পরিষ্কার করতে হবে। এর আগে ইউরোপীয় ফুটবলের প্রধান মিশেল প্লাটিনিও ব্ল্যাটারকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন। কিন্তু পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানান ফিফার বর্তমান সভাপতি ৭৯ বছরের ব্ল্যাটার। তিনি তার বিরোধিতাকারীদের সমালোচনার জবাবে এও বলেন যে, ফিফার সব দুর্নীতি থামানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। এশিয়া ও আফ্রিকার ফুটবল খেলুড়ে দেশগুলো ব্ল্যাটারকে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছে।
 

সুইজারল্যান্ডের বিচার বিভাগ জানায়, দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ফিফার কর্মকর্তারা ’৯০-এর দশক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রায় ১৫ কোটি ডলার ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাছাড়া রাশিয়া ও কাতারে বিশ্বকাপ বরাদ্দের ব্যাপারেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে ফিফার বিরুদ্ধে। ব্ল্যাটার অবশ্য সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়ার পরিবর্তে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন।  গতকাল শুক্রবার জুরিখে তিনি বলেন, রাশিয়া ও কাতারকে বিশ্বকাপ বরাদ্দ করা না হলে ফিফাকে বর্তমান পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। ফিফায় ১৯৯৮ থেকে সভাপতি হিসেবে কাজ করার সুবাদে ফুটবলের বিশ্ব সংস্থাটিতে ব্ল্যাটারের নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি।