সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বৃহত্তর ঐক্যের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ন রেখে যে কারো সাথে বসতে রাজি আছি।’ শনিবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক তত্পরতা চালাচ্ছিলাম, তখন বিএনপি-জামায়াত জোট পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে মানুষ হত্যা করছিল। তখন কি তারা পেট্রোলবোমা ছাড়তে রাজি হয়েছিল? তাহলে আমরা কার সঙ্গে আলোচনায় বসব?’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন ৪১ বছর করতে পেরেছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। তিস্তা নদীর পানি এখন সময়ের ব্যাপার। কিছু দিন হয়তো সময় লাগবে। কিন্তু এখন আর ভারতে কোনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী নেই। আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে যতটুকু এটার ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গী ছিল, এখন মমতা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। ভারতের পার্লামেন্টে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন অনুমোদন করেছে। তেমনি তিস্তা নদীর পানির অনুমোদনও সবার সমর্থনে বাংলাদেশ এই ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে আমাদের বাই লেটেরাল পার্টনারশিপ এখন চমত্কার অবস্থায় রয়েছে। কাজেই এই পার্টনারশিপ আমাদের জনগণের স্বার্থে নতুন নতুন উচ্চতায় উন্নিত হবে। সব কিছু সময় দিয়ে হয় না। আমি যদি বলি তিস্তা পানির বণ্টন অমুক সময় হবে, এটা হবে না। সময় দেব না, প্রক্রিয়াগত কিছু বিষয় আছে। সেগুলো শেষ হলে তখনই এই চুক্তি হয়ে যাবে। এখানে আর কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অবকাশ নেই।
মন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কেউ ভারতে গিয়ে লালকার্পেট রিসিপশন নিয়ে শূন্যহাতে ফিরে এসেছেন। ঢাকা বিমান বন্দরে সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞেস করেন, তখন জবাব দিলেন গঙ্গার পানির কথা বলতে আমি ভুলেই গেছি। এখন তাদের মুখে এ কী শুনি! সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন আজকে ভারতের পার্লামেন্টে অনুমোদনের জন্য শেখ হাসিনার কারো সঙ্গে বসতে হয়নি। প্রয়োজন হলে বসবেন।’
ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন ছাত্রলীগ সভাপতি এ এইচ বদিউজ্জামান সোহাগ, সানজিদা খানম এমপি, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গোলাম সারোয়ার কবির, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শেখ আনিস-উজ-জামান রানা প্রমুখ।
