জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেললে ক্ষমা নেই :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ৩০ মে ২০১৫, ২৩:৩২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনীতি এবং নৈরাজ্যের বিস্তারসহ ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম থেকে বিএনপি-জামায়াতকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যারা জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে তাদের কোন ক্ষমা নেই। তারা কেন মানুষ খুন করবে? কেন মানুষ পুড়িয়ে মারবে? মানুষ পোড়ানো অথবা হত্যা করার তাদের কোন অধিকার নেই। আমি আশা করি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। যদি এর পুনরাবৃত্তি ঘটে, অপরাধীকে ছাড়বো না। তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।

 
গতকাল শনিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। পরে ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, ১টি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও একটি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১০টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা তাদের নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ বিষয়ে রাঙ্গামাটি ও নীলফামারিতে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসকবৃন্দ, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। ফলাফলের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের টানা হরতাল-অবরোধের কারণে এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি। হরতাল-অবরোধ না থাকলে ও পরীক্ষার সময় বারবার বদলাতে না হলে পাসের হার আরো বাড়তো। তিনি বলেন, বিএনপির জ্বালাও, পোড়াও, হরতাল, অবরোধের কারণে বারবার পরীক্ষায় সময়সূচি বদলাতে হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হয়েছে। প্রতিকূল অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ ফলাফল করেছে। রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে প্রতিকূল অবস্থায় পরীক্ষা দিয়েও পাসের হার এত বেশি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল অবস্থায়ও এত পাসের হার কম কথা নয়, এটা বড় অর্জন। একটু সুন্দর পরিবেশ পেলে শিক্ষার্থীরা অবশ্যই পরীক্ষায় পাস করবে।
 
গতবারের চেয়ে এবার শতকরা ৫ দশমিক ৬৩ ভাগ শিক্ষার্থী কম পাস করেছে। এ বছর শতকরা ৮৭ দশমিক ০৪ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গতবার তা ছিল ৯২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ২০১৩ সালের ফলাফলও এর চেয়ে ভালো ছিল। ঐবার ৮৯ দশমিক ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। কমেছে জিপিএ-৫ও। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ২২ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী। আর এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। ছেলেমেয়েরা যাতে ঘরের কাছে উচ্চশিক্ষা নিতে পারে, সরকার সেই সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়। শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও ২০১৪ ও ২০১৫ সালে সময়মতো শিক্ষার্থীদের কাছে সরকার বই পৌঁছে দিয়েছে। ওই সময় অনেকটা গেরিলা কায়দায় বই পৌঁছে দেয়া হয়েছে। অবরোধ-হরতালে নাশকতার মধ্যে এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শুধু সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার পরীক্ষা নেয় সরকার। এ ঘটনার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে আমি বললাম, এত মানুষের জীবন আমি ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারি না। ঠিক আছে, যখন হরতাল থাকবে না, অবরোধ থাকবে না, তখন ফাঁকে-ফাঁকে পরীক্ষা হবে। যদিও হরতালে মানুষের সাড়া ছিল না, হরতাল বা অবরোধ কখনোই সফল হয়নি। তিনি বলেন, তাদের অবরোধ বোধহয় এখনো চলমান, ওটা নাকি প্রত্যাহার হয়নি। যাই হোক, বাংলাদেশের মানুষ ওই হরতালে সাড়া দেয়নি। এটা একটা গোষ্ঠীর স্বার্থে, জনস্বার্থে না। সেজন্য তারা জনসমর্থন পায়নি। কিন্তু ওই অবস্থায়ও আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি। তাই পরীক্ষা নিতে হয়েছে ফাঁকে ফাঁকে। আমি জানি এভাবে পরীক্ষা দিতে আমাদের ছেলে-মেয়েদের খুবই কষ্ট হয়েছে।
 
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াতের অবরোধে ফেনীতে বোমা বিস্ফোরণে একটি চোখ হারানো এসএসসি পরীক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলাম অনিকের অবস্থা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, অনিকেরও তো পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল, তারও তো পাস করার কথা ছিল। কিন্তু সে দিতে পারেনি। বোমার আঘাতে তার একটা চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। তাকে বারবার ভারতে পাঠাচ্ছি। সেখানে চিকিত্সা চলছে। একটা চোখ সম্পূর্ণরূপে নষ্ট, সেখানে পাথরের চোখ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরকম বহু আছে, দেখলে কষ্ট লাগে। এসব শিক্ষার্থীর আজ পরীক্ষার ফলাফল বের হওয়ার কথা ছিল।
 

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক এবং কয়েকজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের টানা হরতাল-অবরোধের কারণে এবছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেন জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন, নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আফতাবউদ্দিন সরকার, নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক প্রমুখ।