পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার লু্ই ফিগো মনে করেন- ফিফা সভাপতি হিসেবে সেপ ব্ল্যাটারের জয়ে ‘হেরেছে ফুটবল’। সেজন্য আবারো ৭৯ বছর বয়সী ব্ল্যাটারকে ফিফা থেকে পদত্যাগের আহ্বান জানান তিনি।
ফুটবলের বিশ্ব সংস্থা ফিফা সভাপতি হিসেবে ব্ল্যাটার গত শুক্রবার পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হন। তিনি প্রথম দফার ভোটে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জর্ডানের প্রিন্স আলী বিন আল-হুসেইনকে ১৩৩-৭৩ ভোটে পরাজিত করলেও দুই জনের কেউই দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পাননি। তাই জয়-পরাজয় নির্ধারণে ভোট পর্ব দ্বিতীয় রাউন্ডে গড়ালে ওই সময় প্রিন্স আলী সরে দাঁড়ান।
ব্ল্যাটার জিতলেও স্বস্তিতে নেই। বরং ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে আছেন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে- ফিফার ভেতরে উচ্চ পর্যায়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ আরো কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আনা হবে। ফিফার এই নির্বাচনের প্রাক্কালে সংস্থাটির সাতজন শীর্ষস্থানীয় সদস্যকে দুর্নীতির অভিযোগে গত বুধবার সুইজারল্যান্ডে জুরিখের এক হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। ব্ল্যাটারের ঘনিষ্ঠ এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুই দশক ধরে মানি লন্ডারিং এবং প্রতারণার মাধ্যমে ১৫ কোটি ডলার হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এখন।
লুই ফিগো অবশ্য এ নির্বাচনে ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন; কিন্তু ব্ল্যাটার বিরোধী শিবিরের ভোট ভাগাভাগি না করার জন্য তিনি শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ান। তারপরও এই ফলে তিনি নিজের হতাশা ব্যক্ত করেন। ফিগো নির্বাচনের পরপরই বলেন, ‘জুরিখে এটা ছিল আরো একটি কালো দিন। ফিফা পরাজিত হয়েছে, তারচেয়েও বড় হলো ফুটবল পরাজিত হয়েছে এবং যারা সত্যি এ খেলাটিকে ভালবাসেন তারাও পরাস্ত হয়েছে।’
এদিকে জয়ের পর আক্রমণাত্মক হয়েই কথা বলছেন ফিফা সভাপতি ব্ল্যাটার। গতকাল জুরিখে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ে তিনি ভীত নন। এ নিয়ে তার ‘দুশ্চিন্তা নেই’। এক প্রশ্নের জবাবে ব্ল্যাটার বলেন, দুর্নীতিতে জড়ানো সাবেক ফিফা কর্মকর্তা জ্যাক ওয়ার্নারের এক কোটি ডলার নেয়ার ব্যাপারে তার কাছে কোন তথ্য নেই।
তবে পৃষ্ঠপোষকদের তরফে সরে দাঁড়ানোর হুমকি প্রসঙ্গে তিনি সতর্কতার সাথেই কথা বলেন। এ জন্য এসব কোম্পানির কাছে ব্যক্তিগতভাবে যাবেন বলে উল্লেখ করেন ব্ল্যাটার। ৪০ বছর ধরে ফিফায় কাজ করা ব্ল্যাটারের মতে এখনো সংস্থাটি চালানোর জন্য তিনিই হচ্ছেন সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।
