সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা

প্রতি ঘণ্টায় মারা যাচ্ছে ৯ শিশু

আপডেট : ৩১ মে ২০১৫, ২১:৪৫
 
 
 
 
 
 
প্রতিবছর দেশে ৮০ হাজার শিশু মারা যাচ্ছে। সেই হিসেবে প্রতি ঘণ্টায় মারা যাচ্ছে ৯ শিশু। একই সঙ্গে প্রতিবছর সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে ৬ হাজার মা মারা যাচ্ছেন। 
 
রবিবার ডেইলি স্টার ভবনে ‘এন্ডিং প্রিভেনটেবল চাইল্ড অ্যান্ড মেটারন্যাল ডেটথ’ শীর্ষক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এ সব কথা বলেন। ইউএসএইড, ভয়েজ অব আমেরিকা ও রেডিও টুডে যৌথভাবে এই সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন ব্রডকাস্ট অয়েজ অব আমেরিকা ওয়াশিংটন ডিসির কবীরউদ্দিন সরকার।
 
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর অবস্থা নিয়ে বক্তব্য দেন সেভ দ্য চিলড্রেনের হেলথ অ্যান্ড মামনি প্রজেক্টের পরিচালক ডা. ইশতিয়াক মান্নান, তিনি বলেন— গবেষণায় দেখা গেছে, তিনি বলেন—গত ১০ বছরে মাতৃমৃত্যুর হার ৪০ ভাগ কমেছে। তবে এখানো প্রতিবছর ৬ হাজার মা দেশে মারা যাচ্ছেন। এর মধ্যে ৩০ ভাগ মা মারা যাচ্ছেন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে এবং ২২ ভাগ মা মারা যাচ্ছেন খিচুনি রোগে। যে মা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যাচ্ছেন সেই মায়ের সন্তানটি ৫ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ কারণে সন্তানের সঙ্গে মায়ের বেচে থাকাটাও জরুরি। সেই সঙ্গে সন্তান প্রসবের আগে ও পরে মাতৃমৃত্যুর হারও দেশে উদ্বেগজনক। এ সব মাতৃমৃত্যুর কারণ হিসেবে অল্পবয়সে সন্তান ধারণ, বাড়িতে অদক্ষ দাইয়ের হাতে সন্তান প্রসব, অসচেতনতা, কুসংস্কার অন্যতম।
 
ইউএসএইড-ডিএফআইডি এনজিও হেলথ সার্ভিস ডেলিভারি প্রজেক্ট এর ডা. হালিদা এইচ আখতার বলেন— নারীশিক্ষার হার বেড়েছে, সচেতনতা বেড়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও বেড়েছে, গর্ভবতী মায়েদের হাতে কিছু টাকাও থাকছে যার কারণে মাতৃমৃত্যু কমেছে।
 
তিনি বলেন—মায়ের হাতে টাকা থাকলে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। গর্ভবর্তী মাকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করতে তারা ‘সুর্যের হাসি’ ক্লিনিকে মায়েরা প্রথম গর্ভাবস্থায় আসলে একটি টাকা জমানোর ব্যাংক দিয়ে থাকেন। যেখানে তারা ৯মাস টাকা জমান, কারণ আর্থিক অভাবে তারা যেন প্রসবকালীন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় না পড়েন। তিনি বলেন—এখনো আমাদের দেশে ৬০০ জীবীত শিশু জন্ম দিতে গিয়ে একজন করে মা মারা যাচ্ছেন। প্রসবের আগে ও পরে মাতৃমৃত্যুর হারে সববেয়ে বেশি।
 
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা বিষয়ে আলোচনা করেন যাত্রীর জামিল আহমেদ। প্রশিক্ষণ কর্মমালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়।