রাজধানীর কারওয়ানবাজারে রবিবার বিকালে ট্রেন আটকে বিক্ষোভ করেছেন গেটকিপাররা। তারা তিন মাস ধরে বেতন-ভাতা পান না। অর্ধ শর বেশি গেটকিপার এ সময় দুই পাশের রাস্তার বারও ফেলে দেয়। এতে সার্কফোয়ারা থেকে এফডিসিগামী সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বেতনের ব্যাপারে আশ্বস্ত করলে অবরোধ তুলে নেন গেটকিপাররা।
তেজগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গেটকিপাররা কারওয়ান বাজারের বিজিএমইএ ভবনের সামনের রেল ক্রসিংয়ে দুই দিকে বার ফেলে বিক্ষোভ শুরু করে। খবর পেয়ে তিনি ছাড়াও রেলওয়ে ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসিসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে হাজির হন। এ সময় গেটকিপারদের দাবির প্রতি সবাই একমত পোষণ করেন। পরে বেতনের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।’
রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মজিদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত অবরোধ চলাকালে ঢাকা থেকে জামালপুরগামী যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকে যায়। পরে আধা ঘণ্টা বিলম্বে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। রেলে ঊর্ধ্বতনদের বেতনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা এক সপ্তাহের মধ্যে গেটকিপারদের বেতন দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। সবার অনুরোধে গেটকিপাররা অবরোধ তুলে নেন।
এর আগে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে রেলওয়ের গেটকিপাররা মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন। ওই সমাবেশে তারা বলেন, ‘অস্থায়ী গেটকিপাররা প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রতিদিন ৮০ টাকা হিসেবে মাসে দুই হাজার ৪০০ টাকা বেতনে চাকরি করে আসছেন। বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে এই বেতনে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।’
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে—রেলওয়েতে ২০০৩ সাল থেকে কয়েক শ গেটকিপার দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে চাকরি করে আসছেন।
