বিশ্বের যে কোন প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রস্তুত বাংলাদেশ

আপডেট : ৩১ মে ২০১৫, ২৩:৪৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সকল শান্তিরক্ষীদের বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দেশের ভাবমূর্তি বজায় রেখে পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ প্রস্তুত।

 
গতকাল রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নগরীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস ২০১৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে এসব কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকাস্থ জাতিসংঘ অফিসের সহায়তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
 
প্রধানমন্ত্রী মিশনগুলোতে শান্তিরক্ষীরা যাতে আরও দক্ষতা ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে আপগ্রেড করতে সরকারি অঙ্গীকারের কথা পুনরায় উল্লেখ করে বলেন, শান্তি মিশনগুলোতে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা যাতে আরও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এ জন্যে পুলিশ ও সেনা বাহিনীকে আপগ্রেড করার সরকারি কাজ অব্যাহত থাকবে।
 
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জামসহ বাংলাদেশের সকল শান্তিরক্ষী যাতে আরো আত্মবিশ্বাসের সাথে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে পারে, সে জন্য সরকারের সকল প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। বিশ্ববাসীর পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের এই ভূমিকা চিরকাল স্মরণ রাখবে।
 
এই ঐতিহ্যবাহী দিনটি সুন্দরভাবে উদযাপনের জন প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনারা বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি শক্তিশালী শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন, বিশ্বে বাংলাদেশের পতাকাকে সমুন্নত রাখবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
 
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া, ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিনস।
 
চিফ অব নেভাল স্টাফ ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব, চিফ অব এয়ার স্টাফ এয়ার মার্শাল মুহাম্মদ ইনামুল বারী, সেনাবাহিনীর আর্মড ফোর্স বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক এবং ভারপ্রাপ্ত আইজিপি জাভেদ পাটোয়ারী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীবর্গ, উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং সেনাবহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সাবেক শান্তিরক্ষী সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
 
প্রধানমন্ত্রী পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মালি ও কঙ্গোতে নিয়োজিত শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এর আগে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষায় দায়িত্ব পালনকালে এবং সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের কার্যক্রমের ওপর নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমগ্র বিশ্বে আজ শান্তিরক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বজন বিদিত। যা নিশ্চিতভাবে আমাদের সশস্ত্রবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যবৃন্দের সফল অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি।
 
জাতিসংঘ মিশন এবং বহুজাতিক বাহিনীতে শান্তিরক্ষীদের এ অনন্য অবদান বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে একথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘ মিশনে আমাদের এই কার্যকর অংশগ্রহণ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের অবস্থানকে সুসংহত করেছে এবং একই সাথে তা বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশসমূহের সাথে আমাদের দেশের পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
 
তিনি বলেন, আজ সার্ক, ওআইসি এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের দৃপ্ত অংশগ্রহণ এদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি মর্যাদা সম্পন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।
 
তিনি বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশ সারাবিশ্বে সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশের মধ্যে অন্যতম হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছে। আমরা নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে বিশ্বের যে কোন প্রান্তে, যে কোন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সদা প্রস্তুত।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ১২২টি দেশের ১ লাখ ৭ হাজার ৮০৫ জন শান্তিরক্ষী নিয়োজিত রয়েছেন। তার মধ্যে বাংলাদেশেরই ৯ হাজার ৫৯২ জন শান্তিরক্ষী বিভিন্ন মিশনে সক্রিয়। যার মধ্যে রয়েছে ২০৫ জন মহিলা শান্তিরক্ষী। আমাদের শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা বর্তমানে বিশ্বে নিয়োজিত সর্বমোট সংখ্যার ৯ শতাংশ, যা সত্যিই গর্ব করার মত।
 

এর আগে সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকার তেজগাঁওস্থ পুরাতন বিমান বন্দর মসজিদ কমপেক্স হতে জাতীয় সংসদ এর দক্ষিণ প্লাজা পর্যন্ত এবং অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ‘পিস কীপার্স রান’ এর মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পিস কীপার্স রানে অংশগ্রহণ করেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের শান্তিরক্ষীগণ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি এবং আন্তঃবাহিনী সংস্থাসমূহের মনোনীত প্রতিনিধিগণসহ আনুমানিক ৮৭০ জন সদস্য। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী এ পিস কীপার্স রানে অংশগ্রহণ করেন।