চীনকে চাপে রাখতে

আপডেট : ০১ জুন ২০১৫, ১৬:৫২
 
চীনা প্রশাসনকে চাপে রাখতেই দক্ষিণ চীন সাগরে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মিলিত সেনামহড়ার কথা ঘোষণা করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই মহড়ায় যোগ দেয়ায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানও। সমুদ্রের একাধিক অঞ্চলের অধিকার দাবি করে গত দু’বছরে কখনও জাপান, কখনও ফিলিপাইন আবার কখনও ভিয়েতনামের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো সবাই চীনের আগ্রাসী মানসিকতার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বারবার।
 
যৌথ সেনামহড়ায় নামবে অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার প্রায় ৩০ হাজার সেনা। মহড়ায় যোগ দিতে আসার কথা নিউজিল্যান্ডেরও ৫০০ সেনার। মহড়ায় অবশ্য অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে একটি দেশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সেই তুলনায় জাপানের পক্ষ থেকে মহড়ায় যোগ দিতে আসা সেনাকর্মীর সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। জাপান থেকে মাত্র ৪০ জন সেনাকর্মীকে পাঠানো হচ্ছে এই মহড়ায়। এ ক্ষেত্রে অবশ্য সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমেরিকার নেতৃত্বে সেনামহড়ায় যোগ দিয়েই জাপান চীনের কাছে তার মনোভাব স্পষ্ট করে দিল।
 
সমপ্রতি দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি দ্বীপকে সংযুক্ত করে একটি বিমান অবতরণক্ষেত্র তৈরির কাজ শুরু করেছে চীন। এই নির্মাণকাজ নিয়ে ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের কড়া বার্তা বিনিময়ও হয়েছে। কিন্তু ম্যানিলার প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও বিমান অবতরণক্ষেত্র তৈরির কাজ বন্ধ করেনি বেইজিং। কিছু দিন আগেই সমুদ্রের গভীরে একটি খনিজ তেল উত্তোলনক্ষেত্র নিয়ে ভিয়েতনামের সঙ্গেও বিতর্কে জড়িয়েছে চীন। ভিয়েতনাম প্রশাসন দাবি করেছে, দক্ষিণ চীন সাগরের যে অঞ্চলে নিছক গায়ের জোরে খনন শুরু করেছে বেইজিং, ওই অঞ্চলটি আদৌ চীনের অধিকারভুক্ত নয়। নৈকট্যের বিচারে ওই অঞ্চলটি ভিয়েতনামের আওতার মধ্যে পড়ে।
 
এ ক্ষেত্রেও প্রতিবেশীর প্রতিবাদ গ্রাহ্যের মধ্যে না এনেই অয়েল রিগ তৈরির কাজ চালিয়ে গিয়েছে চীন। ওই অঞ্চলের কাছাকাছি ভিয়েতনামের মাছধরা জাহাজগুলোর যাতায়াতেও বাধা সৃষ্টি করেছে চীনা জাহাজগুলো। ভিয়েতনামের অভিযোগ, চিনের তিনটি মাছধরা জাহাজ ধাক্কা দিয়ে একটি ভিয়েতনামি জাহাজকে ডুবিয়ে দিয়েছে। জাপানের অধিকারে থাকা সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ নামে সমুদ্রের ওপরে মাথা তুলে থাকা সাতটি পাথুরে দ্বীপের অধিকার নিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে তিন বছর আগে প্রথম অশান্তির সূত্রপাত। ওই দ্বীপগুলোকে নিজের বলে দাবি করেছিল বেইজিং। এরপর সাত বর্গকিলোমিটারেরও কম জায়গার ওই ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে একাধিক যুদ্ধবিমান ও রণতরী পাঠায় চীন ও জাপান দুই দেশই।
 
দক্ষিণ চীন সাগরের নিজেদের একাধিপত্য কায়েম করতেই সমুদ্রের বিভিন্ন জায়গায় অন্য দেশের বিমান ও জাহাজ চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে চীন। এর পরই নড়েচড়ে বসে মার্কিন প্রশাসন। এর মাঝে অবশ্য স্প্র্যাটলি নিয়ে আমেরিকার হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করে ফিলিপাইন। দক্ষিণ চীন সাগরে হোয়াইট হাউসের নির্দেশে পাঠানো হয় মার্কিন রণতরী ইউএসএস ফোর্ট ওয়ার্থ। যুদ্ধবিমানবাহী ওই জাহাজের সঙ্গে ওই অঞ্চলে যায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও একটি নজরদারি ড্রোনও। এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানায় চিনা প্রসাশন। দক্ষিণ চীন সাগরে আমেরিকা নাক গলালে প্রথমে বেইজিং থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়, বিশাল দক্ষিণ চীন সাগর চীন ও আমেরিকা এই দুই দেশের পক্ষে যথেষ্ট। কিন্তু, আমেরিকা ওই অঞ্চলে পুরোনো বন্ধু জাপান ও ফিলিপাইনকে ছাড়তে রাজি না হওয়ায় আমেরিকার বিরুদ্ধে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অভিযোগ আনে চীন। মঙ্গলবার জাপানকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ চিন সাগরে সেনামহড়া দেয়ার কথা ঘোষণা করে তারই জবাব দিল আমেরিকা।