সমুদ্রপথে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্য ও মূল হোতাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের প্রশাসন মানবপাচার চক্রকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে। মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন। ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ৮১ মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
গত রবিবার নতুন করে আরো ৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সন্দেহভাজন প্রায় ৫১ জনকে গ্রেফতার করেছে থাই পুলিশ।
চলতি মে মাসে শুধু কক্সবাজারে ৫০ জনের মতো মানবপাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেশকয়েকজন মানবপাচার চক্রের সদস্যরা ক্রসফায়ারে মারা গেছেন। সর্বশেষ সোমবার রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে মানবপাচারকারী ৩ সদস্যকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আটক করেছে। মালয়েশিয়াও মানবপাচারের মাফিয়াদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মানবপাচারে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে ১২জন পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়।
থাইল্যান্ডভিত্তিক অনলাইন সংবাদপত্র ‘দ্য নেশন’ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে সন্দেহভাজন প্রায় ৫১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি ৩০ সন্দেহভাজন পাচারকারীকে ধরতে সংখলা, সাতুন ও রানোং প্রদেশে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি ২ শতাধিক অভিবাসীসহ একটি বোট উদ্ধার করে মিয়ানমার নৌবাহিনী। ওই বোটের মালিক এক থাই নাগরিককেও সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৫২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে আটক রাখা হয়েছে। তবে কখন তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কি ধরনের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী মানবপাচার বিরোধী অভিযান নিয়ে দেশটির ভূমিকা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ।
এদিকে, অবৈধভাবে সাগরপথে বিদেশে যাওয়ার সময় গত ৩ বছর ৪ মাসে বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় দুই হাজার ৯৪৫ জনকে উদ্ধার করেছে প্রশাসন। একই সময়ে মানবপাচার আইনে মামলা হয়েছে ৩০৬টি এবং এ সব মামলায় আসামী করা হয়েছে এক হাজার ৫৩১ জনকে। এদের মধ্যে আটক হয়েছে ৪৭৭ জন। চলতি মে মাসে জেলায় ৫০ জনের মতো মানবপাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই তালিকাভুক্ত মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য। তবে কক্সবাজারের টেকনাফ দিয়ে মানবপাচারের ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় মূলত বাংলাদেশী মানবপাচার চক্র গড়ে উঠেছে। কক্সবাজার জেলা পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব জেলায় ৩৫০ জন মানবপাচারকারীর তালিকা তৈরি করেছে।
