বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্রুত পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত দু’দেশের একটি চুক্তি অনুমোদন করেছে ভারত সরকার। শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।
ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহন খরচ হ্রাস ও ভারতের বন্দরগুলোর সামর্থ্য কাজে লাগানোর সুযোগ আরো বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, এতে ভারতের উপকূলীয় জাহাজগুলোর পণ্য পরিবহনের নতুন সুযোগ উন্মুক্ত হলো। এতে সড়ক পথে বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে চেকপোস্টগুলোতে অথবা স্থলবন্দরগুলোতে চাপ কমবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারত উপকুলীয় বাণিজ্যের ফলে বাংলাদেশের পণ্যবাহী জাহাজের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হিসেবে ভারতীয় ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় উভয়ে লাভবান হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারত অন্য দেশের জাহাজের জন্যও সমান সুবিধা দিবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ফলে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং পণ্য পরিবহন খরচ হ্রাস পাবে।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সর্ববৃহত্ বাণিজ্যিক অংশীদার এখন বাংলাদেশ। দু’দেশের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল রুট উন্মুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মালমাল পরিবহনে এটি একটি বিকল্প রুট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতীয় সরকার বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্র বন্দরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাহাজ চলাচল করছে না। দু’দেশের দুই সমুদ্র বন্দরের মধ্যে সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল তেমন লাভজনক ছিল না। সমুদ্র পথে জাহাজ চলাচল খরচ কমাতে রিভার সী ভ্যাসেল হিসেবে পরিচিত (আরএসভি) কোস্টাল শিপিং চলাচলের সুপারিশ করা হয়। আরএসভি নির্মাণ ও চলাচল খরচ জাহাজের চেয়ে কম। ফলে দুটি দেশই আরএসভি ক্যাটাগরি জাহাজ চলাচলে সম্মত হয়। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
