প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আলোচনা বা বন্ধুত্বের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের সাথে যেকোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব। ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুমোদিত হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে ভারতের জনগণ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রতি আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রে অধিকার নিশ্চিত করতে ভারত ও মিয়ানমারের সাথে বন্ধুত্ব বজায় রেখে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার রায় পেয়েছি। প্রতিবেশী দেশের সাথে মামলা করে সমুদ্র অধিকার প্রতিষ্ঠা করলেও তাদের সাথে সম্পর্কের এতটুকু চিড় ধরেনি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত বাংলাদেশের ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয়, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছে। তাদের সহযোগিতার কারণে বাংলাদেশ মাত্র ৯ মাসে স্বাধীনতা লাভে সক্ষম হয়েছে। এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, ভারত সব সময় বাংলাদেশের সাথে রয়েছে।’
‘দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ অঞ্চলের দেশগুলোর সবচেয়ে বড় শত্রু দারিদ্র্য। আঞ্চলিক, উপ-আঞ্চলিক পারস্পরিক সহযোগিতা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে এ দারিদ্র্যের হাত থেকে এ অঞ্চলের মানুষদের রক্ষা করতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারো সাথে শত্রুতা নয় এ পররাষ্ট্র নীতির আলোকে আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। ভারত, নেপাল, ভুটান, মায়ানমার, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছে সরকার।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, লোকসভা ও রাজ্যসভার সব সদস্য, ভারতের জনগণ, সোনিয়া গান্ধী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সীমান্ত চুক্তি সম্পাদনের ফলে ছিটমহলবাসী নাগরিকত্ব ও নিশ্চিত জীবনের নিশ্চয়তা পেয়েছে। ১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতা পেলেও ছিটমহলবাসী তা পায়নি। ৪০ বছর তারা নাগরিকত্ব, স্বাধীনতাবিহীন অনিশ্চিত জীবনযাপন করে আসছিল। এ চুক্তি অনুমোদনের মাধ্যমে তারা নাগরিক অধিকার, ভোটের অধিকার তথা মৌলিক অধিকার ভোগ করার সুযোগ পাবে। ইতিমধ্যে ছিটমহলবাসীর উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে এ স্থল সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে গেলেও এত দিন তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই এ চুক্তি বাস্তবায়িত হতো। বঙ্গবন্ধু শুধু চুক্তিই করেননি, তিনি এর জন্য আইনও করে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি সমুদ্র সীমানা আইনও সম্পাদন করে যান। এ কারণে আমরা আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে সমুদ্রসীমায় আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি।’
