মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধ দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। তবে একক কোনো দেশের পক্ষে এই অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। আন্তর্দেশীয় পুলিশের সহযোগিতা ও তথ্যের আদান-প্রদান থাকলে দ্রুত এই অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব বলে একমত পোষণ করেছেন ৩৫টি দেশের পুলিশ কর্মকর্তারা। রাজধানীর গুলশানস্থ একটি হোটেলে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিষয়ক আন্তর্দেশীয় পুলিশি সহযোগিতা জোরদারকরণ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তারা এ মত দেন।
বাংলাদেশ পুলিশ, অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ এবং ইউএনডিপির পুলিশ রিফর্ম প্রোগামের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নেপাল, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড থেকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান-সম্পর্কিত তদন্তে অভিজ্ঞ ৩৫ জন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পুলিশ রিফর্ম প্রোগামের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।’
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভি বলেন, ‘মানবপাচার একটি ঘৃর্ণিত কাজ। বাংলাদেশ সরকার এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে একটি দেশের পক্ষে পাচারকারীদের এ বিশাল চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য আন্তর্জাতিক পুলিশের সহযোগিতা বৃদ্ধি করে একত্রে কাজ করতে হবে। নয়টি দেশ এরই মধ্যে একসঙ্গে কাজ করতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া, এই অপরাধ বন্ধে পুলিশকে বিশেষায়িত করে তদন্ত সক্ষম এবং সমন্বিত আইনি পরিকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি বলেন, ‘এই অপরাধ দমনে ভুক্তভোগী দেশসমূহের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান বৃদ্ধি করে আন্তর্দেশীয় পুলিশের নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে।’
ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর পলিন টিমেসিস মানবপাচারকে চরম ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ উল্লেখ করে বলেন, ‘পাচারের শিকার মানুষের জন্য ইউএনডিপির আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কার্যক্রম নিয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে ইউএনডিপি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।’
