ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর কেন্দ্রিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দুই দেশ। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৮ থেকে ২০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সংযোগ (কানেকটিভিটি) এর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে জোর দেয়া হচ্ছে। এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে ঢাকা। সফরকালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তরসহ মোট ১২টি ভেন্যুতে আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আগামী ৬ জুন শনিবার সকালে ঢাকায় আসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরো নিবিড় ও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। নরেন্দ্র মোদী নিজেও রাজনৈতিক, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় বাংলাদেশকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এই সফরে সংযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ খাতে নতুন বোঝাপড়া ছাড়াও পুরনো ইস্যুগুলোর সম্মানজনক সমাধান করতে চাইছেন তিনি। তার সফরে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ঝুলে থাকা স্থল সীমান্ত চুক্তি ডকুমেন্ট বিনিময় হবে। তবে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ইস্যুতে তার এ সফরে কোন সুখবর আসছে না। নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরে ঢাকা হয়ে শিলং-গৌহাটি এবং কলকাতা-আগরতলা বাস সেবা চালু হবে। এই বাস সেবা দুই দেশের পিপল-টু-পিপল সংযোগকে আরো দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে মৈত্রী রেল সেবাও বাড়ানো হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রয়েছে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটারের সীমান্ত। এর মধ্যে নৌ-সীমানা রয়েছে প্রায় হাজার কিলোমিটারের। যা দুই দেশের মধ্যে নৌ-পথে যোগাযোগ বাড়ানোর বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। নরেন্দ্র মোদীর এই সফরে দুই দেশের মধ্যে দ্রুত পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। এতে সড়ক পথে বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে চেকপোস্টগুলোতে অথবা স্থলবন্দরগুলোতে চাপ কমবে।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বর্তমানে সাড়ে ছয় বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বৈষম্য বিশাল। বাংলাদেশ বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তাই মোদীর সফরে বাণিজ্য ও ভারতীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে জোর দেয়া হবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রদানে আগ্রহ দেখিয়েছে। নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন সফরে আরো কয়েকটি সীমান্ত হাট চালু করা হবে। ২০১২ সালে দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় বাণিজ্য বাড়াতে মেঘালয় সীমান্তে প্রথম সীমান্ত হাট চালু হয়।
দুই নিকট প্রতিবেশীর সম্পর্ককে আরো জোরালো অর্থনৈতিক ভিত্তি দেয়ার ওপর জোর দিতে চায় দুই দেশ। এরই অংশ হিসেবে নতুন একটি ঋণ চুক্তি সইয়ের কথা রয়েছে। ঋণ চুক্তির আওতায় যোগাযোগ অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়ন খাতের প্রকল্প গ্রহণের ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ।
হিন্দু নিরাপত্তা ইস্যু উত্থাপনের আহ্বান আরএসএসের
আসন্ন বাংলাদেশ সফরে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তার বিষয়টি উত্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অনুরোধ জানাবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। পশ্চিমবঙ্গে আরএসএস শাখা এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করবে বলে দ্য ইকোনমিকস টাইমসের এক খবরে
বলা হয়েছে। আরএসএসের জ্যেষ্ঠ কর্তাব্যক্তি জিসনু বাসু বলেন, আমরা শুধু নিরাপত্তা নয়, হিন্দুরা যেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে না যান সে বিষয়টিও আমরা নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাবো।
অনুপ্রবেশের বিষয় উত্থাপনের আহ্বান আসাম মুখ্যমন্ত্রীর
আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের বিষয়টি উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার তিনি এ আহ্বান জানান। গগৈ এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর নৌ ও স্থল যোগাযোগ বৃদ্ধির উপর জোর দেয়া উচিত। একইসঙ্গে আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশের বিষয়টিও উত্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। ২০১১ সালে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরে সঙ্গী ছিলেন তরুণ গগৈ। তবে নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন সফরে তিনি আসছেন কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।