চমকহীন ভারতের বিপক্ষে টেস্ট দল

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৫, ০২:৪৫

বাংলাদেশের টেস্ট দল

 
মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল (সহ-অধিনায়ক), মাহমুদউল্ল­াহ, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, শুভাগত হোম, লিটন দাস, তাইজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, আবুল হোসেন, মোহাম্মদ শহীদ ও জুবায়ের হোসেন।
 
জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ গত কয়েকদিন ধরেই বলছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানের দলীয় বৈশিষ্ট্য যেহেতু প্রায় একই রকম, তাই বাংলাদেশ টেস্ট দলে খুব একটা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তাই-ই হয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ টেস্ট দলকে প্রায় অপরিবর্তিত রেখেই ঘোষণা করা হয়েছে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য ১৪ সদস্যের দল।
 
গতকাল ঘোষিত এই দলে অন্তর্ভুক্তি বলতে শুধু রুবেল হোসেন। ইনজুরিতে থাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে দলে না থাকা এই ফাস্ট বোলার দলে ফিরেছেন। আর বাদ পড়েছেন ইনজুরিতে ছয় মাসের বেশি মাঠের বাইরে চলে যাওয়া শাহাদাত হোসেন রাজীব।
 
এ ছাড়া অনেক আলোচনা হলেও দলে জায়গা হয়নি নাসির হোসেনের। যথারীতি জায়গা করে নিয়েছেন শুভাগত হোম। তবে নজর কেড়েছে জুবায়ের হোসেন লিখনের দলে থেকে যাওয়াটা। তাকে নিয়ে নির্বাচক বনাম টিম ম্যানেজমেন্টের একটা টানাপড়েন চলছিল বলে গুঞ্জন ছিল। শেষ পর্যন্ত টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়া মেনে নিয়ে তাকে দলে রেখেছেন নির্বাচকরা।
 
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ পরিষ্কার করে বললেন, জুবায়ের টিম ম্যানেজমেন্টর কারণেই দলে আছেন, ‘আপনারা জানেন যে, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং সিলেকশন কমিটি মিলে আমরা দল নির্বাচন করি। তাকে নেয়ার জন্য কোচ এবং অধিনায়কের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানানো হয়েছিল। তাকে নিয়ে তাদের একটা প্ল্যান আছে।’ তবে জুবায়েরকে রাখতে কোচ-অধিনায়ক বিসিবি সভাপতির দ্বারস্থ হয়েছিলেন কি-না, সে ব্যাপারে কিছু বলতে পারলেন না ফারুক। 
 
আরেকটা বড় আলোচ্য বিষয় ছিল, লিটন দাসের দলে থাকা। যেহেতু মুশফিকুর রহিম এখনও আঙুলের ইনজুরিতে ভুগছেন, তাই এই অনভিষিক্ত উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান বেশ আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু ফারুক বলছেন, মুশফিকের ইনজুরি ছাড়াই লিটন বিবেচনায় ছিলেন, ‘লিটন তো গত সিরিজেও স্কোয়াডে ছিল। আপনারা জানেন যে, দলে একজন দ্বিতীয় উইকেটকিপার রাখাটা আমরা স্বচ্ছন্দ্যবোধ করি। অধিনায়ক সুস্থ থাকতেই সে দলে ছিল। সে তার যোগ্যতার কারণেই দলে আছে। মুশফিকের ব্যাপারটা, প্রথম টেস্টের আগে এখনো সাত দিন বাকি আছে, আমি বলবো না যে মুশফিক খেলতে পারবে না। তারপরও একজন অতিরিক্ত রাখাটা দরকার।’
 
তবে এসব নিরীহ বিষয়ের পাশাপাশি খুব বড় করে এসেছিল টেস্টে শুভাগত হোমের মতো ‘কার্যকর’ অলরাউন্ডারকে আদৌ দলে রাখার যৌক্তিকতার বিষয়টি। প্রধান নির্বাচক অবশ্য মনে করছেন, সোহাগ গাজীর অনুপস্থিতিতে শুভাগত ‘দ্বিতীয় সেরা’, ‘টেস্ট ক্রিকেটে আমরা যে রকম বোলিং আক্রমণ চাই, তা এখনো আমরা অর্জন করতে পারিনি। অফস্পিনারের কথা চিন্তা করলে আমাদের সামনে তেমন কোনো অপশন থাকে না। এর আগে সোহাগ গাজী ছিল। অ্যাকশনের কারণে নিষিদ্ধ হয়ে এবং পরে আবার বোলিংয়ের অনুমতি পেয়ে সে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছে। বোলিং এবং ব্যাটিং দুটিতেই সে ভালো করছে। আমরা চাচ্ছি সে নতুন অ্যাকশনে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে হয়তো সে সুযোগ পাবে। শুভাগতর ব্যাপারটা হলো, এই মুহূর্তে সেই আমাদের দ্বিতীয় সেরা পছন্দ। বিসিএলে এক ম্যাচে সে নয়টি উইকেট পেয়েছে।’
 
আলোচনায় তীব্রভাবে ছিলেন নাসির হোসেনও। কিন্তু লোয়ার অর্ডারে অলরাউন্ডারের আধিক্যর কারণেই শেষ পর্যন্ত তার জায়গা হয়নি বলে বলছেন প্রধান নির্বাচক, ‘নাসিরের ব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি। কিন্তু দলে আট নম্বরে ব্যাটসম্যান আছে বলে তাকে আমরা বিবেচনা করিনি। তার বদলে একজন বোলার নিয়েছি। সৌম্য খুব ভালো ব্যাটসম্যান। টেস্টে ছয়-সাত নম্বরে সে দারুণ উপযোগী। ওই সময়ে নতুন বল নেয়া হয়, যা সে ভালো খেলতে পারবে।’
 
সবশেষে ফারুক একটা ব্যাপার মনে করেন, ওয়ানডেতে বাংলাদেশ শক্তিশালী দল হয়ে উঠেছে; যে কাউকে হারানোর কথা ভেবেই তারা দল করেন। কিন্তু টেস্টে তাদের দল করার মূল চিন্তা না-হারা, ‘আমি মনে করি যে, আমাদের যে বোলিং আক্রমণ, তাতে আমাদের দেশের উইকেটে টেস্ট খেলতে নেমেই প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেয়ার সামর্থ্য আছে বললে কথাটা তেমন বাস্তবসম্মত হবে না। আমরা উন্নতি করছি। আমাদের মূল শক্তি ব্যাটিং। দেশের মাটিতে আমাদের এমনভাবে দল গড়া উচিত, যাতে আমাদের দলটিকে হারানো না যায়, টেস্টে অন্তত এমন হওয়া উচিত। ওয়ানডেতে আমরা যে কোনো দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখি। কিন্তু টেস্টে দেশের মাটিতে বাংলাদেশ টিম যাতে না হারে, সে দিকে চিন্তা করেই গেম প্ল্যানটা হওয়া দরকার।’