সরকারের বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা আরও বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ঘাটতি বাজেট দাঁড়াচ্ছে ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ৫ শতাংশ। বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক উৎস থেকে ২৪ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৫৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। তবে অভ্যন্তরীণ উৎসর মধ্যে শুধু ব্যাংক ব্যবস্থা থেকেই নেয়া হবে ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা। যদিও সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৩১ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা করা হয়। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৬ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা বেড়েছে। অথচ চলতি অর্থবছরে আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এক হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বেড়েছিল।
বাজেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৯ অনুযায়ী, বাজেট ঘাটতি মোট দেশজ উত্পাদন বা জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) চাইছে বাংলাদেশে এটি জিডিপির ৫ শতাংশ মধ্যে সীমিত থাকুক। সে বিষয়টি মাথায় রেখে বাজেট ঘাটতি পাঁচ শতাংশে রয়েছে।
ব্যাংক ব্যবস্থার অর্থায়নের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে ২৪ হাজার ১৮২ কোটি এবং স্বল্পমেয়াদে ১৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হবে। এছাড়া জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ১৫ হাজার কোটি এবং ব্যাংকবহির্ভুত খাত থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
আগামী বাজেটে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা, এসময়ে ঋণ পরিশোধ করতে খরচ হবে ৭ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। সে হিসেবে নিট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়াচ্ছে ২৪ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া বৈদেশিক অনুদান থেকে ৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৪০৬ কোটি টাকা কম।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে নীট ৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। ব্যাংক ব্যবস্থা পর্যাপ্ত তারল্য থাকায় আমানতের ওপর সুদ হার কমে যাওয়া সঞ্চয়পত্রের বিক্রি অনেক বৃদ্ধি পায়। এতে সংশোধিত বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ২১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে সঞ্চয়পত্রের ওপর সুদহার কমে যাওয়ায় আগামী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে।
