আমাদের অগ্রযাত্রা থাকবে নিয়ত সঞ্চারণশীল

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৫, ২৩:৪৭

ছয় শতাংশের বৃত্ত ভেঙ্গে প্রবৃদ্ধির উচ্চতর সোপানে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে টানা সপ্তমবারের মতো জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করলেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। এসময় তিনি বলেন, জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে পর পর দুই মেয়াদে বর্তমান সরকারের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আমরাও জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, সবার সহযোগিতা পেলে বিশেষ করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এ মেয়াদেও আমরা অনেক দূর এগুতে পারব।

 
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে অর্থমন্ত্রী বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন। এবারও ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থাত্ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করা হয়।
 
বাজেট বক্তৃতার শুরুতেই অর্থমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মরণ করেন। সেইসাথে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অপরাজনীতির শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারানো এবং বিভিন্ন হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে অগ্নিদগ্ধ যন্ত্রণাকাতর মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানান।
 
তিনি বলেন, এগিয়ে যাওয়ার অভীষ্ট লক্ষ্য হতে আমরা এতটুকু বিচ্যুতি হব না। রূপকল্প ২০২১ এর ধারাবাহিকতায় এই মেয়াদের মধ্যেই জাতিকে নতুন প্রেক্ষিত পরিকল্পনা রূপকল্প ২০৪১ জাতিকে উপহার দেয়া হবে।
 
তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস চলতি মেয়াদ শেষেই বাংলাদেশ কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পের ব্যাপক হারে প্রসার ঘটবে, যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে, রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলো যানজটমুক্ত হবে, কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ব্যাপকভাবে প্রসারিত হবে এবং তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে।
 
 তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুত্ ছাড়া কোথাও কর্মচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় না। তাই ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে না দিলে জাতি এগুতে পারে না। সুতরাং এ ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রযাত্রা দ্রুতায়িত করতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের এই অগ্রযাত্রা থাকবে নিয়ত সঞ্চারণশীল। আমি বরাবরই এদেশের অপরিমেয় সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। আবার পুনরাবৃত্তি করবো যে আমি অশোধনীয় আশাবাদী। আমার স্বীকার করতে দ্বিধা নেই- বিশ্ব অর্থনীতিতে শ্লথগতি, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগের অপর্যাপ্ততার কারণে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে লক্ষ্য অনুযায়ী জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়নি। রাজস্ব খাতে কর আধুনিকীকরণ পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব শুরু হলেও আশানুরূপ গতি পায়নি। অন্যদিক জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আয় বাড়লেও তা ছিলো লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। অনেকগুলো প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়িত হলেও ভূমি অধিগ্রহণজনিত সমস্যার কারণে কোন কোন অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়েছে। রপ্তানি দ্রব্য ও বাজার বৈচিত্রায়নে উন্নতি হয়েছে সীমিত। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী অগ্রগতি না হলেও সার্বিক অর্জন জনমনে স্বস্তি দিয়েছে।
 

আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, বর্ধিত সরকারি বিনিয়োগ সত্ত্বেও মূলত বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে বাধা হিসেবে কাজ করছে। এ বাধা উত্তরণে বিদ্যুত্, জ্বালানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো, বন্দর উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার যে সকল কার্যক্রম আমরা বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছি তাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তথা অভ্যন্তরীণ চাহিদা সচল থাকবে।