‘বিএনপি জিয়াউর রহমানকে নির্বাসিত করেছে’- এরকম মন্তব্য করে স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) মাহবুব রহমান বলেছেন ‘বিএনপি জিয়ার আদর্শ চর্চা করে না। জিয়ার আদর্শ থেকে বিএনপি আজ হাজার হাজার মাইল দূরে সরে গেছে। এজন্য বিএনপি দুর্নীতিগ্রস্ত, স্বজনপ্রীতির, কলুষিত, অরক্ষিত আর রুগ্ন দলে পরিণত হয়েছে।’ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মাহবুবুর রহমান বলেন, যারা বিএনপি নিয়ে হতাশ আমি বলব আসলে তারা বিএনপি করেন না। কারণ বিএনপি জাতীয়তাবাদী শক্তির দল। তাই এর বিনাশ সম্ভব নয়। মনীষীরা বলে গেছেন, জাতীয়তাবাদের দর্শন ধারণ করলে সেই জাতি বিনাশ হয় না। তাই বিএনপিও ফিনিক্স পাখির মতো আবার জেগে উঠবেই।
এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, অনেকেই বলাবলি করছেন, বিএনপি পথ হারিয়েছে। যদি তাই হয়, তবে পথ খুঁজে নিতে হবে। জিয়াউর রহমানকে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি স্পর্শ করেনি। বিএনপিকেও এখন পথ খুঁজে পেতে হলে জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করতে হবে। কারণ মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, বাংলাদেশ ও জিয়াউর রহমান অবিচ্ছেদ অংশ। জাতির দুর্দিনে জিয়াউর রহমান সাহসী নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজ ২০১৫ সালে এই সঙ্কটের সময় জিয়াউর রহমান আমাদের মাঝে নেই। তবুও আমাদের হতাশ হওয়া চলবে না। তাকে ধ্রুবতারার মত অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হবে।
মোদীর সঙ্গে খালেদার সাক্ষাতের আশা
ঢাকা সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাত ‘অবশ্যই’ হবে বলে আশাবাদী দলটির নেতারা। মোদীর সাক্ষাত পেতে এখনও বিভিন্নভাবে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বিএনপির আন্তর্জাতিক উইং। এই উইংয়ের একজন গতকাল ইত্তেফাককে প্রাথমিক ধারণা দিয়ে জানান, সফরের শেষদিন-অর্থাত্ ৭ জুন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মোদীর সঙ্গে সোনারগাঁও হোটেল স্যুটে খালেদা জিয়ার সাক্ষাত হতে পারে, যদিও বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তাছাড়া গতকাল পর্যন্ত মোদীর সফরসূচিতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো সূচি নেই।
প্রেসক্লাবের আলোচনা অনুষ্ঠানে লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেছেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকের দিন-তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। এ বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা, মানুষও কিছু জানে না। তবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে মোদীর সাক্ষাত্ অবশ্যই হবে। কারণ খালেদা জিয়া বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর সাক্ষাত্ না হলে সেটি বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, মোদীর ঢাকা সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন দলটির নীতিকাররা। বিশেষ করে পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন ও এর পরবর্তী প্রেক্ষাপটে মোদীর এই সফরকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এজন্য মোদীকে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভারত-বিরোধিতা থেকেও সরে আসার কথা বলছে দলটি।
মোদীর সফরের বিষয়ে মাহবুব ইত্তেফাককে বলেন, বাংলার মানুষের কাছে বহুল প্রত্যাশিত এ সফর। আশা করি, তিস্তা চুক্তিসহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সব সমস্যার সমাধান হবে। বাংলার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে মোদী অঙ্গীকার করে যাবেন।
