ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এজন্য এসএসএফ, এনএসআই, নবগঠিত এসপিবিএন, এসবি, এপিবিএন, র্যাব, ডিবি ও ডিএমপির চৌকশ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিশেষ টিম। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চলছে ব্যস্ত সময়। তবে ঢাকায় অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মূল নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে সে দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপ (এসপিজি) ও কমান্ডো ফোর্স ব্ল্যাক ক্যাটের সদস্যরা। এর বাইরে বাংলাদেশের স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন (এসপিবিএন) সদস্যরা ঘিরে থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা থেকে জানা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের আগের দিন রাত থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে যেখানে তিনি অবস্থান করবেন সেখানে, গণভবনসহ সংশ্লিষ্ট সব পথ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীজুড়ে গ্রহণ করা হবে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা।
বাংলাদেশ যাবেন, অথচ মাছ খাবেন না, তা কখনো হয়! অথবা ঢাকার বিখ্যাত কাচ্চি বিরিয়ানি, কিংবা মাংসের নানা কিসিমের পদ। খাবেন না! কিন্তু কী করা যাবে, প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একে স্বল্পাহারী, দুইয়ে শাকাহারী। মাছ-মাংস মোটেও ছুঁয়ে দেখেন না। তাতে অবশ্য ঘাবড়ে যায়নি বাংলাদেশ। চলছে এলাহি বন্দোবস্ত, একশ রকমের নিরামিষ পদ রেঁধে সাজিয়ে দেওয়া হবে অতিথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে। তালিকার মূল অন্ন-পদটি হলো ‘ভাঘারেলি খিচুড়ি’। উপকরণ মসুর ডাল ও নানা ধরনের সবজি। একে বাংলাদেশে ‘মশালা খিচুড়ি’ও বলে। সঙ্গে থাকবে নানা ধরনের এবং স্বাদের ডালনা, সর্ষে দিয়ে সজনে ডাঁটা, আমের চাটনি—সেও নানা স্বাদের। থাকবে মোদীর নিজস্ব পছন্দ ‘ভিন্ডি কড়ি’, ভিন্ডি অর্থাত্ ঢেঁড়শ আর দুধ দিয়ে তৈরি। মোদীর পছন্দের গুজরাটি খাবার ‘সাদা খাট্টা ধোকলা’ও থাকবে। এসবের সঙ্গে থাকবে তাজা ফল, আর অবশ্যই বাংলাদেশের বিখ্যাত পিঠেপুলি, পায়েস, ক্ষীর, সন্দেশ। নেপালে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন চলার সময়ই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অন্য ধরনের খাদ্যাভ্যাস সংবাদমাধ্যমের নজরে আসে। সাংবাদিকরা রীতিমতো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে চান, কী কী খেতে পছন্দ করেন তিনি। তখনই মোদী বলেছিলেন, তিনি খিচুড়ি খেতে ভালোবাসেন। এছাড়া যেকোনো সবজি। খাওয়া নিয়ে কোনো বিলাসিতা নেই তার। তিনি চান না যে তার খাওয়াদাওয়া নিয়ে লোকে অসুবিধায় পড়ুক। তিনি স্রেফ সুস্থ, সবল থাকতে চান। যদিও মোদীকে আপ্যায়ন করতে গিয়ে অসুবিধা যে হয় না, তা নয়। গত সেপ্টেম্বরে মোদী যখন রাষ্ট্রপুঞ্জের অধিবেশনে যোগ দিতে যান, তখন নবরাত্রি পালিত হচ্ছিল ভারতে। দিনক্ষণ মেনে নবরাত্রির উপোস করছিলেন মোদী। যে কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার দেওয়া নৈশভোজে খাবার খাওয়া দূরে থাক, এক চুমুক জলও খাননি তিনি। এবার বাংলাদেশ সফরের দিন ঠিক হতেই খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তর থেকে নরেন্দ্র মোদীর পছন্দের খাদ্যতালিকা জানতে চাওয়া হয়। তিনি কী কী খান না, সেটাও জেনে নেওয়া হয়।
ফ্যাশন আইকন
নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই জনমনে ঢেউ তুলেছিলেন। সেই ঢেউ দিয়েই নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দিয়েছেন। বলা হতো, ‘মোদীজ্বরে আক্রান্ত ভারত’। এবার সেই জ্বর ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে গেল পশ্চিমা দুনিয়াতেও। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো মোদীকে তুলে ধরেছে একজন ফ্যাশন আইকন হিসেবে। তাদের চোখে, একজন সামান্য ব্যক্তি থেকে সময়ের ব্যবধানে মোদী ফ্যাশন আইকনে পরিণত হয়েছেন। ভারতে জমানার বদলের পর তিনিই তাদের সংবাদমাধ্যমের চোখে নায়ক, ফ্যাশনের নয়া আইকন! তার প্রিয় পোশাক কুর্তার জয়গান গাইছে তারাও। তিনটি বড় মার্কিন প্রকাশনা টাইম ম্যাগাজিন, দি নিউ ইয়র্ক টাইমস ও দি ওয়াশিংটন পোস্টে আলোচনা হয়েছে মোদীর পোশাক স্টাইল নিয়ে। সকলেই মোদীর ড্রেস স্টাইলের প্রশংসায় মেতেছে। ট্রেডমার্ক মোদী কুর্তা থেকে তার পরনের কোট সবই তাদের বিচারে অসাধারণ। ‘একজন নেতাকে তিনি যা পরেন, তা দিয়েই চেনা যায়’ শিরোনামে প্রকাশিত এক নিবন্ধে দি নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, মিশেল ওবামার পোশাক-পরিধান বোধ, ফ্রাসোঁয়া ওলান্দ, দেলমা রাউসেফের প্রাক-নির্বাচনী রূপচর্চা নিয়ে অনেক ব্লগ বেরিয়েছে। প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার জামা গোটা দুনিয়ায় সন্তের পোশাকের মর্যাদা পেয়েছে। এমনই এক দুনিয়ায় ভারতের নয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাবমূর্তি তৈরির কারিগরি, তার ফ্যাশন বোধ আলাদা করে আলোচনা, গবেষণার দাবি রাখে। এমনকি ভারতের চালু মাপকাঠিতেও নিজেকে আলাদা স্তরে তুলে নিয়ে গিয়েছেন। মোদী যেকোনো রাজনীতিকের তুলনায় পরনের পোশাককে অনেক বেশি জনসংযোগের হাতিয়ার করে তুলেছেন। সেখানে মোদী আক্ষরিক অর্থে এবং কৌশলগতভাবেই ব্যতিক্রমী। মোদীর পরিধান চর্চার প্রশংসা করে দি ওয়াশিংটন পোস্টও বলেছে, মিশেল ওবামার কথা ছেড়ে দিন! বিশ্বে এক নয়া ফ্যাশন আইকনের উদয় হয়েছে। না, ফিটনেস চর্চার জন্য তার নামডাক থাকলেও এই গোত্রে পড়বেন না ভ্লাদিমির পুতিনও! নয়া ফ্যাশন আইকনটি হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর টাইম ম্যাগাজিনের মন্তব্য, ভারতের ফ্যাশন দুনিয়ার পরবর্তী বড় নামটি হতে চলেছেন সম্ভবত। নরেন্দ্র মোদী। তার মোদী-কুর্তা তার ফ্যাশন বোধের প্রতীক হিসেবে বিখ্যাত হয়ে উঠছে।
মোস্ট এলিজেবল ব্যাচেলর
ভারতের মোস্ট এলিজেবল ব্যাচেলর রূপে বেছে নেওয়া হয়েছে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। তাকে বেছে নেন বলিউডের আবেদনময়ী আইটেম গার্ল মল্লিকা শেরওয়াত। বিজেপির লোকসভা নির্বাচনের প্রচারমুখকে শুধু যোগ্যতম বলেই ক্ষান্ত হননি মল্লিকা। নিজের পছন্দের পেছনে রীতিমতো যুক্তিও দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, ‘মোদী স্মার্ট, প্রগতিশীল আমার মতোই মাঝে মাঝে তাকেও লোকে ভুল বুঝে।’ টেলিভিশন শো ‘মেরে খেয়ালও কি মালিকা’র প্রমোশনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই কথা জানিয়েছেন মল্লিকা শেরওয়াত। যে লিস্টে রাহুল গান্ধী থেকে বিরাট কোহলি, রণবীর কাপুর থেকে অভিনব বৃন্দা, সালমান খান, যুবরাজ সিং, সিদ্ধার্থ মালিয়া, শহীদ কাপুরসহ আরও অনেক নাম থাকার কথা ছিল। সে লিস্টের টপ ফ্লোরে যদি কেউ গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বসানোর বাসনা প্রকাশ করেন! অবশ্য কারোর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে বক্তব্য পেশ খুব একটা রুচিসম্মত নয়। কিন্তু ইনি তো আর যে সে নন। খোদ নরেন্দ্র মোদী। ৩৬ বছর বয়সী এই বলিউড সুন্দরী মল্লিকাকে বর্তমানে বড়পর্দায় বিশেষ দেখা যাচ্ছে না। তার ব্যক্তিগত জীবনও ইদানীং আর টক অব দ্য টাউন নয়। তাই এবার টেলিভিশন থেকেই নিজের ক্যারিয়ার গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
করছেন তিনি। শুধু ক্যারিয়ার কেন এক ঢিলে দুই পাখি মারার লক্ষ্যে এক শো থেকেই ব্যক্তিগত জীবনের ভিতটাও বোধহয় মজবুত করার ছক কষছেন ‘জালেবি বাঈ’। অভিনব এই টেলিভিশন শো ‘মেরে খেয়ালও কি মালিকা’ থেকে ৩০ জন ব্যাচেলরের মধ্যে থেকে মল্লিকা বাছাই করে বেছে নেবেন নিজের পছন্দের পুরুষকে। হাজার হাজার আবেদনের মধ্যে থেকে মল্লিকার জন্য সেরা ৩০ জনকে অবশ্য লাইফ ওকে চ্যানেল কর্তৃপক্ষই বেছে দিয়েছেন। আগামী মাসের সাত তারিখ থেকে লাইফ ওকে চ্যানেলে দেখা যাবে ‘মেরে খেয়ালও কি মালিকা’। তার আগে ফতেগড় ফোর্টে হয়ে গেল এর প্রমোশনাল শো।
আত্মজীবনী নিয়ে চলচ্চিত্র
চা বিক্রেতা থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তার এমন অ্যাডভেঞ্চারাস জীবন নিয়ে বলিউডে নির্মাণ হতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র, এটা পুরোনো খবর হলেও নতুন খবর হচ্ছে মোদীর চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন বি-টাউনের জনপ্রিয় অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। আর তিনি নাকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদীর অনুরোধেই রাজি হয়েছেন তার চরিত্রে অভিনয় করতে! মোদীর চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে বলিউডের এই অভিনেতা বলেন, ‘প্রথমে আমি মোদীজির চরিত্রে অভিনয় করতে ভয় পাচ্ছিলাম, ভাবছিলাম এমন প্রস্তাবে রাজি হবো কি না। কারণ দর্শকরা আমাকে একজন কমেডিয়ান হিসেবে দেখে অভ্যস্ত, এমন চরিত্রে তারা কি আমায় নিতে পারবে? এমন নানা প্রশ্ন নিজের মধ্যে উঁকি দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত মোদীজির অনুরোধে রাজিই হয়ে গেলাম।’ মোদীর কথায় রাজি হলেও এখন তিনি এই চরিত্র নিয়ে প্রচুর হোমওয়ার্ক করছেন বলেও জানান। মোদীর আত্মজীবনী নিয়ে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রটির এখনো নাম ঠিক হয়নি। তবে ছবিটি পরিচালনা করবেন মিতেশ প্যাটেল। ২০১৪ সালে প্রকাশিত কিশোর মাকওয়ানার বই ‘কমনম্যান নরেন্দ্র মোদী’ অনুসরণে নির্মিত চলচ্চিত্রটির চিত্রায়ন শুরু হবে আগস্টে। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনাও করছেন পরেশ রাওয়াল।
বিশ্বনেতাদের মধ্যে তৃতীয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বনেতাদের পদচারণা দিন দিন বাড়ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। টুইটারের মতো শীর্ষস্থানীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বনেতাদের মধ্যে তিনি তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছেন। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে সুষমা স্বরাজ রয়েছেন শীর্ষ অবস্থানে। সম্প্রতি টুইটার কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। টুইটার অনযায়ী সংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ তিন নেতা হচ্ছেন—মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, পোপ ফ্রান্সিস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বারাক ওবামার টুইটার অনুসারীর সংখ্যা ৫ কোটি ৬৯ লাখ ৩৩ হাজার ৫১৫। নয়টি ভিন্ন ভাষার টুইটার অ্যাকাউন্টে পোপ ফ্রান্সিসকে অনুসরণ করছেন ১ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার ৯১০ জন। আর নরেন্দ্র মোদীকে অনুসরণ করছেন ১ কোটি ৯ লাখ ২ হাজার ৫১০ জন। টুইপ্লোমেসি স্টাডি ২০১৫ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সুষমা স্বরাজকে টুইটারে অনুসরণ করছেন ২৪ লাখ ৩৮ হাজার ২২৮ জন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ ও তুরস্কের মেভলাত ক্যাভুসগলুর চেয়ে তিনি অনেক এগিয়ে আছেন। আব্দুল্লাহ বিন জায়েদের টুইটার অনুসারীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৮ হাজার ৮৩১। আর মেভলাত ক্যাভুসগলুর অনুসারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪২৯।
নিরাপত্তায় ব্ল্যাকক্যাট কমান্ডো
