উন্নয়নে অন্তপ্রাণ দুই প্রধানমন্ত্রীই

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৫, ০৩:৪৫

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের এক বছর অতিক্রম করেছেন তিনি। গতমাসে ভারতের পার্লামেন্টে পাস হয়েছে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত স্থল সীমানা বিল। বাংলাদেশর জাতীয় সংসদে এজন্য ধন্যবাদও গৃহীত হয়েছে। সব মিলিয়ে এক মহেন্দ্রক্ষণ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর। এজন্য দু’দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও মনোযোগ মোদীজীর সফর নিয়ে অনেক বেশি। ব্যক্তিগতভাবে নরেন্দ্র মোদীকে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতি সংঘের সাধারণ সভায় নিউইয়র্কে প্রত্যক্ষ করি। তাঁর বক্তব্যও শুনি। এরপর একই বছর কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সার্ক সম্মেলনে। তার বক্তব্যের বিশিষ্টতা হলো বক্তব্য মেসেজ প্রধান। সমাজের সমস্যা ও সমস্যা ক্লিষ্টদের আশ্বস্ত হওয়ার মতো। নতুন করে ভাবতে ও শুরু করার প্রাণোদনপূর্ণ। পিছিয়ে পড়া মানুষ মোদীর বক্তব্যে নিজে অসহায়ত্ব ও সংগ্রামকে আবিষ্কার করতে পারেন যেন। নেপালের জনগণ যখন ধর্মাবতার গৌতমবুদ্ধের পূণ্যভূম অধিকারের স্বীকৃতি প্রশ্নে বিচলিত। সকল উদেগ্যের অবসান ঘটিয়ে সার্ক বক্তব্যে নরেন্দ্রমোদী তখন বললেন, বিশ্বশান্তির প্রতীম বুদ্ধ -এর জন্মভূমি নেপাল। একই সাথে সীতা ও জানাকর পবিত্র জন্মস্থান। সাধারণ পরিষদ ভাষণে তিনি আহ্বান করেন সব যুদ্ধ থামিয়ে শান্তির অন্বেষায় ক্ষুধার্থের খাদ্য, যোগান দিয়ে বিশ্বকে রক্ষা করি। নিহতদের জন্য অপার সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করি।

 
মেডিসনে স্কায়ার গার্ডেন-এ উদাত্ত কণ্ঠে বলেন, যারা বিশ্ব ভারতকে সাঁপুড়ে দেশ বলে জেনে এসেছে। কিন্তু আজ ভারতীয় তরুণরা মাউস হাতে বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তি খাতকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ভারতের আছে তিনটি শক্তিসত্তা—এক. গণতন্ত্র; দুই বয়ঃভিত্তি ভারসাম্য; তিন. বিশ্বব্যাপী ভারতের পণ্য ও পরিসেবার চাহিদা। আমার সংগ্রাম উন্নয়নকে গণ আন্দোলনের রূপ দেয়া। আমার পারব। বক্তব্যে প্রত্যক্ষ তরুণকে যেন বা ব্যক্তিগতভাবে সম্বোধন করে ‘মেডিসন এডড্রেসে’ মোদী বলেন, ‘আমরা যা করব, তোমাদের মাথা উঁচু করতেই করব। ভারত-মার্কিন বেসামরিক পরমাণু চুত্তিটি ইতোপূর্বে সফল হয়নি দায় স্বীকার আইনের জন্য। মোদীর সফলতা যে, তিনি লায়বেলিটি ’ল টিকে পাশ কাটিয়ে একটি বীমা ব্যবস্থায় বিকল্প পথ করেছেন। নজরদারির ব্যাপারে বারারক ওবামাকে নমনীয় করেছেন। এ কাজটি সম্পন্নের কৃতিত্ব নিয়ে মিডিয়ার মোদি-ওবামার রসায়নের উচ্ছ্বাসকে আরও উর্ধ্বে তুলে ধরে বললেন, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ‘সেন্টারপিস’ হল বেসামরিক পরমাণু চুক্তি।’
 
পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রীর সাথে সম্পর্কোন্নয়ন করে রাজ্যসভায় মমতা বন্দোপাধ্যায় ও তার দলের সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এক বছরে মোদী সরকার সরকারি উচ্চস্তরে দুর্নীতি দমনে উদ্যোগী হয়েছেন। টেলিকম খাতে নিয়ম-কানুন যুগোপযোগী করা হয়েছে। জাতীয় মুদ্রাস্ফীত কমেছে। অনেক ব্যবসা বান্ধব আইন প্রণীত হয়েছে। বীমাখাতে উদার নীতি নেয়া হয়েছে।
 
সফরে আসা এ দেশটির পরাপর দু’মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও উন্নয়ন অন্তঃপ্রাণ। তিনি দ্রুত আয়ের দেশে পরিণত করায় নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি তাঁর কর্মকর্তাদের অভয় দিয়ে বলেন যুগোপযোগী আইন সংস্কার ও দ্রুত প্রকল্প গ্রহণে সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ায় ব্যতয় হলে দায় আমার। আপনাদের দায়িত্ব নির্ভার নির্ভাবনায় দেশের জন্য কাজ করা। বাংলাদেশের উন্নয়ন আজ সাধারণ মানুষের অনভূতিকে ছুঁয়ে গেছে। আশা করি আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রতি প্রতিশ্রুতিবান দুই নেতা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশেকে আরও এগিয়ে নেবেন। ভারত উলফা দমনে সাড়ে তিন দশকে যা পারেনি, শেখ হাসিনা নিজের জীবনের ঝঁকি নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তির জন্য অবিস্মরনীয় সহযোগিতা করেছেন প্রতিবেশি ভারতকে। দুই প্রধান মন্ত্রীই উন্নয়নে অন্তপ্রাণ।
 
সাবেকী ইউপিএ শাসন আমলে শিল্প বিনিয়োগ বন্ধ হওয়ার কারণ ছিল জমি অধিগ্রহণ আইনকে হাল নাগাদ না করা। যার পোশাকী নাম রাইট অফ ফেয়ার কমপেন সেশন এন্ড ট্রান্সপারেন্সি ইন ল্যান্ড একুজিশন রি হ্যাবটেশন এন্ড রিসেটলমেন্ট ২০১৩। মোদী সরকার শিল্প স্থাপন উত্সাহিত করতে আমূল পরিবর্তন করেছেন আইনটি। সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত রাষ্টব্যবস্থা, মানুষের ক্রয় ক্ষমতার ও দ্রব্যমূল্যের মধ্যে সঙ্গতি, জীবিকা নির্বাহের অবারিত সুযোগ। নিরপেক্ষ সরকার ও বিচার ব্যবস্থা, দেশের সাধারণ মানুষের ওপর উঁচু তলার লোকদের নিয়ন্ত্রণ লোপ, নির্বিশেষে দুর্নীতির মূল্যোপাটনে কাজ করে চলার আশ্বাস ছিল তার নির্বাচন পূর্ব প্রচারণা এবং প্রতিপক্ষের ব্যর্থতার বিপরীতি অগ্রাধিকার করণীয়গুলোর মধ্যে। সম্প্রতি দিল্লী বিধান সভার নির্বাচনে তাঁর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজিপি)-র খারাপভাবে পরাজয় খুব একটা রেখাপাত করবে না। তবে উন্নয়নশীল দেশে মানুষের মনে যে একটি প্রতিষ্ঠান বিরোধী মনোভাব সক্রিয় এ তারই ইঙ্গিত দেয়।
 
ভারত আমাদের সীমান্ত চুক্তিসহ সীমানা সংক্রান্ত, উন্নয়ন ও মানবিক খাতে বিভিন্ন প্রকল্প, বাণিজ্য, বিদ্যুত্ খাত, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা, জলসম্পদ, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা, সংস্কৃতি, মানবীয় যোগাযোগ ক্ষেত্রে অব্যাহতবাবে সহযোগিতা দিয়ে উষ্ণ প্রকাশ ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ আশাবাদী যে ক্রমেই তিস্তা, ছিটমহল, অভিন্ন নদী, ফারাক্কা, জঙ্গীদমন, ভারতের অভ্যন্তরে ট্রানজিট ইস্যুগুলোতেও একইভাবে আন্তরিক হয়ে এগিয়ে আসবে বন্ধু প্রতীম ভারত।
 
  লেখক :প্রধানমন্ত্রীর সহকারি প্রেস সচিব।