ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা এসেছেন নরেন্দ্র মোদী। শনিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়।
২০১৪ সালের ২৬ মে ভারতের ১৫তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর এটি বাংলাদেশে মোদির প্রথম সফর।
ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি জেট বিমান ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে সকাল ১০টা ১২ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছেছেন। ১০টা ২৫ মিনিটে ভারতীয় বিমান বাহিনীর জেট ‘রাজদূত’ থেকে নেমে আসার পর ১৯ বার তোপধ্বনি করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান বন্দরে ভিভিআইপি টারমাকের কাছে নরেন্দ্র মোদীকে স্বাগত জানান। এসময় একটি ছোট শিশু তাকে ফুলের তোড়া উপহার দেয়।
এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বিমান বন্দরের ভিভিআইপি টারমাকের কাছে স্থাপন করা অস্থায়ী সালাম গ্রহণ মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল নরেন্দ্র মোদিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং তিনি সালাম গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি সুসজ্জ্বিত মঞ্চ থেকে সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী গার্ড পরিদর্শন করেন।
এরপর, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে উপস্থিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীও এই সময় তার সফরসঙ্গীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পরিচয় করিয়ে দেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানাতে বিমান বন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া কেবিনেট সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইয়া, প্রধানমন্ত্রী মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক কোরের ডিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এবং উচ্চ পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা এই সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিমান বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধ জানানোর জন্য সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান।
