ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরকালে আগামীকাল রবিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বৈঠক হবে বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব সুব্রমানিয়াম জয়শঙ্কর। ফলে এ বৈঠক নিয়ে যে অস্পষ্টতা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিলো তা কেটে গেলো।
আজ শনিবার থেকে শুরু হওয়া নরেন্দ্র মোদীর হাইপ্রোফাইল ওই সফরের বিষয়ে জানাতে গতকাল শুক্রবার বিকালে নয়া দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেন ভারতের বিদেশ সচিব। ব্রিফিংয়ে মোদীর ঢাকায় দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরের কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। সফর ‘ঐতিহাসিক’ হবে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর জানান, সফরকালে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, সংসদের বিরোধী দলের নেতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন মোদী। এসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও তার (মোদী) বৈঠক হবে বলে নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র সচিব জয়শঙ্কর। তিনি এও জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বাম রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও মোদীর বৈঠক হবে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ জানান, নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠক আগামীকাল রবিবার বিকাল চারটায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। এসময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন জন নেতা থাকতে পারেন। দলের কোন কোন নেতা মনে করেন, ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত্ বয়কট করার মতো ভুলের কারণে বিএনপির সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপড়েন চলছে। ফলে ‘দুঃসময়ে’ দিল্লির কোনো ‘সহানুভূতি’ পায়নি দলটি।
দলীয় সূত্র জানায়, মোদী-খালেদা বৈঠকে এই টানাপড়েন শেষ করে বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়টি নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারা আলোচনা করছেন। বৈঠকে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সংকট উত্তরণে মোদী সরকারের সহযোগিতা চাইবেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বাতিল করে মধ্যবর্তী নির্বাচন, দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার-হয়রানির বিষয়গুলো ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন তিনি। বৈঠককালে দলের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বক্তব্যও হস্তান্তর করা হবে মোদীর কাছে।
এ ব্যাপারে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, দেশের রাজনৈতিক দিকগুলো আলোচনায় আসবে। পাশাপাশি সমপ্রতি ভারত সরকার সীমান্ত চুক্তি ফলপ্রসূ করেছে, এজন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হবে। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারতের চলমান বন্ধুত্ব-সমপ্রীতি কী করে উত্তরোত্তর বাড়ানো যায়, এসব বিষয় নিয়ে আলাপ হবে।
উল্লেখ্য, বিএনপি নেতারাও গতকাল বিকাল অবধি এই বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তার আবর্তে ছিলেন। গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও গণমাধ্যমকে ব্রিফিংকালে বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় না তার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকের কোনো সুযোগ আছে।’
