আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনায় বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ জানিয়েছে—ব্যাপকভাবে অনুন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য দিক-নির্দেশনার অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। আপাত দৃষ্টিতে বাজেট বক্তৃতায় অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো সুনির্দিষ্ট করা হলেও বিচক্ষণ ও দূরদর্শী সমাধানের অনুপস্থিতি লক্ষণীয়। এ সব দিকে বিবেচনায় আগামী অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ অর্জন করা কঠিন হবে।
বাজেট পর্যালোচনায় বলা হয়েছে—অনুন্নয়ন ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেলেও উন্নয়ন ব্যয় বাড়ার গতি শ্লথ। এদিকে আগামী অর্থবছরে অনুন্নয়ন ব্যয়ের ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি জনিত ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য দেশীয় খাত থেকে ৫৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা, বিদেশি খাত থেকে ২৪ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা ঋণ এবং ৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বৈদেশিক অনুদান নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে প্রাক্কলন অনুযায়ী মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ২ শতাংশে না থাকার আশংঙ্কাই বেশি।
এ দিকে, বাজেট ঘাটিতি আরও বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে বাজেট ঘাটতি ৯৯ হাজার ১৩ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। কারণ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় হওয়ার ক্ষেত্রে আশঙ্কা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।
২০১৪-১৫ অর্থবছরে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ১৪ হাজার ৬৯২ কোটি টাকার পার্থক্য বিরাজমান। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। বর্তমান প্রবণতা বিবেচনায় রাজস্ব আদায় হতে পারে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা।
প্রতিষ্ঠানটি আরো জানিয়েছে—জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ৭ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জিডিপিতে বিনিয়োগের অবদান প্রায় ৩৫ শতাংশে উপণীত করতে হবে, যা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও দেশে বিদ্যমান ব্যবসায়িক আস্থার ঘাটতির কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নাও হতে পারে। এমনিতেই বর্তমানে বেসরকারি বিনিয়োগের ক্রমহ্রাসমান পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছর বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২২ শতাংশ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২২ শতাংশে দাঁড়ায়।
বাজেট পর্যালোচনায় আরো বলা হয়েছে—সামাজিক খাতে বাজেট বরাদ্দ সাম্প্রতিক সময়ে আনুপাতিক হারে কমে যাচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অপর দিকে, দ্রারিদ্র্য দূরীকরণের হার হ্রাস পাচ্ছে এবং যুব ও শিক্ষিত বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
